ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর দখলের দাবি রাশিয়ার

পুতিনের আরেকটি মিথ্যা বলে দাবি অস্বীকার জেলেনস্কির

ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর দখলের দাবি রাশিয়ার
×

ছবি: রয়টার্স

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬ | ১৩:৫২ | আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ | ১৩:৫৫

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ানতিনিভকা দখলের দাবি করেছে রুশ সেনাবাহিনী। গত শুক্রবার রুশ বাহিনী প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এ তথ্য জানিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই দোনেৎস্ক অঞ্চলে অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে শহরটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল মস্কো। তবে রাশিয়ার এ দাবি অস্বীকার করেছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। 

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সামরিক কমান্ড পোস্ট পরিদর্শনের সময় পুতিন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য নেন। তিনি কস্তিয়ানতিনিভকা দখলকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

পুতিন বলেন, ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার হামলা, বিশেষ করে রাশিয়ার তেল শিল্পকে লক্ষ্য করে হামলা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা বলয় আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। তবে রাশিয়ার এই দাবির বিষয়ে ইউক্রেন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভ বলেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় বাহিনী পুরো দোনেৎস্ক অঞ্চল ‘মুক্ত’ করার লক্ষ্যে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়া যুদ্ধের শুরু থেকেই পুরো দোনবাস অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়াকে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে আসছে।

গেরাসিমভের ভাষ্য, ‘প্রতিরক্ষা বলয়ের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র কস্তিয়ানতিনিভকা শহর এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে।’

দোনবাস অঞ্চলে ইউক্রেনের কৌশলগত প্রতিরক্ষার জন্য কস্তিয়ানতিনিভকা গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর। এটি একই সঙ্গে বড় শিল্পকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র। এ শহরের মধ্য দিয়ে আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রসদ ও সেনা চলাচল সহজ হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে শহরটি দখলের চেষ্টা করছিল রাশিয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, শহরটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলে দোনেৎস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে। পুতিন শহরটি দখলকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সাফল্য বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, এই শহরটি দোনবাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ও বৃহৎ শিল্পকেন্দ্র।’

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম টেলিগ্রামে প্রকাশিত কয়েকটি ছবিকে কস্তিয়ানতিনিভকার বলে দাবি করেছে। সেখানে বিধ্বস্ত ভবনের সামনে রুশ সেনাদের জাতীয় পতাকা হাতে দেখা গেছে।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাঞ্চলীয় শহর কস্তিয়ানতিনিভকা দখলের বিষয়ে রাশিয়ার করা দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি একে ‘পুতিনের আরেকটি মিথ্যা’ বলে আখ্যায়িত করে জানান, শহরটি এখনও ইউক্রেনীয় বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আরও পড়ুন

×