ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ইরান ইস্যুতে কোন পথে যাবেন ট্রাম্প 

ইরান ইস্যুতে কোন পথে যাবেন ট্রাম্প 
×

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ১১:৪১

‘পেনরোজ স্টেয়ার্স’। এটি এক ধরনের অপটিক্যাল ইলিউশন বা দৃষ্টিভ্রম। প্রথম দেখায় মনে হয়, একটি সিঁড়ি চারদিকে ঘুরে আবার একই জায়গায় ফিরে আসছে। কিন্তু আপনি যেন সব সময় ওপরের দিকে উঠছেন বা নিচের দিকে নামছেন। বাস্তবে এমন সিঁড়ি তৈরি করা সম্ভব নয়। তবে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থা এই পেনরোজ স্টেয়ার্সের মতো!

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির অনেকটাই ট্রাম্পের নিজের সিদ্ধান্তের ফল। তিনি এমন একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছিলেন, যার কোনো সুস্পষ্ট ও চূড়ান্ত প্রস্থান কৌশল ছিল না। একই সঙ্গে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করেছিলেন, তা সংঘাতের মূল কারণগুলো সমাধান করতে পারেনি। গত বুধবার হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বিমান হামলা চালায়। এরপর তিনি আবারও সেই পুরোনো দ্বিধার মুখে পড়েছেন। তাঁর সামনে এখন দুটি কঠিন পথ। প্রথমত, যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করা; যার মানবিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য হতে পারে চড়া। দ্বিতীয়ত, এমন একটি ভঙ্গুর সমঝোতা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা, যা সমালোচকদের মতে ইরানকে বিপুল অর্থনৈতিক সুবিধা দিলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দিতে ব্যর্থ। মাত্র তিন সপ্তাহ আগে সমঝোতাকে নিজের ‘অন্যতম বড় কূটনৈতিক সাফল্য’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন ট্রাম্প। 
সাম্প্রতিক সংঘাত সেটির কার্যকারিতা নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলেছে। বাস্তবে নতুন করে হামলার নির্দেশ দিয়ে তিনি এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, যেখানে ইরানের হাতে থাকা কৌশলগত সুবিধা ভাঙতে গিয়ে আরেকটি সংঘাতের ঝুঁকি নিচ্ছেন।

ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্ক সফরের সময় ট্রাম্প সমঝোতা স্মারক ‘কার্যত শেষ’ বলে ঘোষণা করেন এবং ইরানকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দেন। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, চাইলে মার্কিন আলোচকরা আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন। ট্রাম্প বলেন, ‘চুক্তি ছাড়াও আমরা লক্ষ্য অর্জন করতে পারি। কারণ অনেক সময় সেটাই সহজ।’ বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সামনে কার্যকর বিকল্প খুবই সীমিত। তিনি চাইলে সামরিক অভিযান আরও বড় পরিসরে চালাতে পারেন। ইরানে পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযান প্রায় অকল্পনীয়। তারপরও বেসামরিক অবকাঠামো, বিদ্যুৎকেন্দ্র কিংবা হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় এলাকায় হামলার মতো পদক্ষেপ বিবেচনায় আসতে পারে। 

আরেকটি সম্ভাবনা হলো ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের চেষ্টা। তবে এমন পদক্ষেপের মূল্য হতে পারে অনেক বেশি। খার্গ দ্বীপে অভিযান চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনার প্রাণহানির ঝুঁকি থাকবে। যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ও সামরিক ঘাঁটি ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এক্ষেত্রে তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলার আশঙ্কাও বাড়বে, যা আবারও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করবে। দেশের ভেতরেও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হবে ট্রাম্পকে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনীবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ বলেন, ‘যারা ট্রাম্পকে ইরানে অভিযান শেষ করার আহ্বান জানাচ্ছেন, তারা বাস্তবতা বিবেচনা করছেন না। কারণ ইরানকে পুরোপুরি ভেঙে ফেলা সম্ভব নয়।’

ট্রাম্প আবারও ইরানের জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করতে পারেন। এমওইউর আওতায় যে তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে তিনি বাতিল করেছেন। আরেকটি সম্ভাবনা হলো–ট্রাম্প বর্তমান পরিস্থিতি মেনে নিয়ে সংঘাত থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। সেক্ষেত্রে হরমুজ দীর্ঘমেয়াদে একটি বিতর্কিত ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথে পরিণত হতে পারে।

আরও পড়ুন

×