ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

চাকরিবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ১০ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা, শোকজ

চাকরিবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ১০ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা, শোকজ
×

প্রতীকী ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ১২:১৯

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০ জন সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। চিকিৎসকদের মধ্যে আটজন জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে কর্মরত। তাদের মধ্যে শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দুই চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা সিভিল সার্জন অফিস। তবে গত ৫ জুলাই এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের শৃঙ্খলা শাখা-২ থেকে বিভাগীয় মামলাটি করা হয়। বেসরকারি ক্লিনিকে শেয়ার থাকা, অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ এবং অফিস সময়ে সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন না করে বেসরকারি ক্লিনিকে প্র্যাকটিস করার অভিযোগে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে অভিযুক্তদের পত্র পাওয়ার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা গেছে, বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি হওয়া ১০ চিকিৎসকের মধ্যে ৬ জনের স্থানীয় বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে শেয়ার রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অভিযুক্তরা হলেন— চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রাফিজা নাসরিন, সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ডা. মো. আব্দুল মজিদ, জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স) ডা. মো. ইসমাইল হোসেন, সহকারী অধ্যাপক (শিশু) ডা. মো. রেজাউল করিম, সদর উপজেলার মহারাজপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. মোসা মুনিরা খাতুন এবং ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আজহারুল ইসলাম।

এ ছাড়া অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে রুমালি খাতুন এবং সিটি ক্লিনিকে শেয়ার থাকার অভিযোগে ও সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় বেসরকারি সিটি হাসপাতালে কর্মরত থাকার অভিযোগে ডা. সামছুল আলম রাশেদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ডা. রাশেদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া সরকারি হাসপাতাল ত্যাগের অভিযোগে জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রুমালি খাতুন ও মেডিকেল অফিসার দিলরুবা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে গত সপ্তাহে অফিস সময়ে নিজের কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন না করে শহরের আর একেকটি বেসরকারি ক্লিনিক অ্যাপলো হাসপাতালে কর্মরত থাকা এবং সেখানে সাংবাদিকদের ক্যামেরা দেখে দৌড়ে পালানোর ঘটনায় ডা. মো. ইনজামাম-উল হকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাকে ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত বা উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে।

গত ২৯ জুন হাসপাতাল পরিদর্শনে যান জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ। এর এক সপ্তাহের মাথায় গত ৫ জুলাই এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

এর আগে, জেলা হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসককে বদলি করার ঘটনায় জেলায় রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়। ওই সময় স্থানীয় ড্যাব নেতাদের সুপারিশে বদলি করা হয়েছে বলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল দাবি করে আসছেন। এ পরিস্থিতির মধ্যে গত ২৯ জুন জেলা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদ। পরিদর্শন শেষে তিনি আরও কয়েকজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

প্রশাসক হারুনুর রশীদ বলেন, সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে নিজ নামে বেসরকারি হাসপাতালের শেয়ার কেনা, পরিচালনায় যুক্ত থাকা এবং একই সঙ্গে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগে পাঁচজন তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, কয়েকজন চিকিৎসক পদ্মা ও ম্যাক্স হাসপাতালে শেয়ার নিয়ে সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ সরকারি চাকরির সব সুবিধাও ভোগ করছেন তারা। পরে বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার পর এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. মাহবুব আলম জানান, জেলা হাসপাতালের মোট আটজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এই বিভাগীয় মামলা হয়েছে।

অফিস সময়ে হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সামসুল আলম রাশেদ বেসরকারি ক্লিনিকে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা তাকে হাতেনাতে ধরার পর বিভাগীয় মামলা হয়। বর্তমানে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন এ কে এম শাহাব উদ্দীন জানান, সরকারি দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য বিভাগের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×