ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়েছে

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ফের পাল্টাপাল্টি হামলা, হরমুজ বন্ধ ঘোষণা 

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ফের পাল্টাপাল্টি হামলা, হরমুজ বন্ধ ঘোষণা 
×

প্রতীকী ছবি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬ | ১২:২৮

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সশস্ত্র বাহিনী একে অপরের ওপর স্মরণকালের অন্যতম তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জেরে দুই দেশের মধ্যকার চলমান অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

গতকাল রোববারের এই সংঘাতের জেরে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ ঘোষণা করেছে তেহরান। যদিও এই জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন বাহিনী। 

রয়টার্স ও আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সংঘাতের সূত্রপাত হয় হরমুজ প্রণালিতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি জাহাজে ইরানের হামলার মধ্য দিয়ে। তেহরান দাবি করেছে, ওয়াশিংটন ওমান সরকারকে চাপ দিয়ে হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ দিক দিয়ে একটি অবৈধ রুট তৈরির চেষ্টা করছে। এই জাহাজটি সেই অননুমোদিত রুট ব্যবহার করছিল। হামলার পর জাহাজে থাকা ১১ ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে ১০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। 

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক বিমান হামলা 

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আইআরজিসি হামলা চালানোর পর তৃতীয় দফার হামলা শুরু করেছে তারা। মার্কিন বাহিনী গত তিন রাতে ইরানের অন্তত ৩০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করেছে। বুশেহর প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির ওপর নজরদারির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাস্ক শহরের অন্তত ১০টি স্থানে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে। 

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিধ্বংসী পাল্টা আঘাত শুরু করে। জর্ডান, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন ঘাঁটি নিশানা করে ইরান একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ে। আইআরজিসি দাবি করে, তাদের হামলায় জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমান ঘাঁটির মার্কিন কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং এমকিউ-৯ ড্রোনের হ্যাঙ্গার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। একই সঙ্গে কাতারে মার্কিন যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ও কমান্ড সেন্টার, কুয়েতে কৌশলগত রাডার সাইট এবং ওমানের মুসান্দাম ও আল-বাতিনাহ অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের লজিস্টিক সাপোর্ট সেন্টার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। আইআরজিসি জানিয়েছে, এই অঞ্চলে আমেরিকার অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তবে সেন্টকম দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ চলাচল এখনও সচল রয়েছে। 

পর্দার আড়ালের কূটনীতি 

এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে গত মাসে স্বাক্ষরিত মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারক সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ইরানের প্রধান আলোচনাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক্স বার্তায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘একতরফা চুক্তির দিন শেষ। কথা রাখুন, নয়তো মূল্য চোকান। বাস্তবতা এখন দরজায় কড়া নাড়ছে।’ 

এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝেও কাতার, ওমান ও পাকিস্তান পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। শনিবার রাতে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানি কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল ও তার ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির মধ্যে সমন্বয় করা।

আরও পড়ুন

×