ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্থগিত

বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত

বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত
×

স্বল্প মাত্রার ফাতাহ মিসাইল। ছবি: ইসনা

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬ | ২২:৩৮ | আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৬ | ২২:৪১

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর টানা সপ্তম রাতের মতো গত শুক্রবার ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোর ওপর প্রতিরোধমূলক হামলা করেছে ইরানের ইসলামী রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)।

সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের মতো শুষ্ক অঞ্চলে পানির প্রধান উৎস এই বেসামরিক অবকাঠামোগুলোয় হামলার ফলে মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের একটি বৃহৎ পানি পরিশোধন কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জাস্ক বন্দরনগরীর বোনজি গ্রামে এই হামলায় এই পানি পরিশোধন কেন্দ্রটি ধ্বংস হয়ে গেছে। 

এদিকে, পাল্টা আঘাত হিসেবে আজ শনিবার কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি পরিশোধন কেন্দ্রে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, ইরানের হামলায় তাদের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন ধরে যায়। এ ছাড়া কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, তাদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল ক্ষেত্রও ইরানের হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য এই ডেসালিনেশন প্লান্টগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জীবন রক্ষাকারী অবকাঠামো। কুয়েত ও ওমানের মতো দেশগুলো তাদের মোট সুপেয় পানির ৯০ শতাংশের জন্য এই প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। বাহরাইনে এই নির্ভরতা ৮৫ শতাংশ এবং সৌদি আরবে ৭০ শতাংশ। ফলে এসব কেন্দ্রে হামলার ঘটনা বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় তুলেছে। 

জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ল্ড ওয়াটার কাউন্সিল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাবেক নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রথ এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পানি পরিশোধন কেন্দ্রগুলোয় হামলা চালানো স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন। 

এদিকে, ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি গতকাল জানিয়েছেন, এক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতি ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করেছে। মার্কিন আগ্রাসন ও চুক্তি লঙ্ঘনের জবাবে তারা আর এটি মেনে চলবে না। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে বলে ঘোষণা করেছিলেন। 

জর্ডান ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত 

জর্ডানের আজরাকে অবস্থিত মুয়াফফাক সালতি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস ও বেশ কয়েকটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া কুয়েতের ক্যাম্প উদাইরি ও আলি আল সালেম ঘাঁটির গোলাবারুদ ডিপো, সদরদপ্তর এবং বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতেও ইরানি ড্রোন আঘাত হেনেছে। 

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর জানিয়েছেন, গত ২৭ জুন থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত মার্কিন হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৫০০ জনেরও বেশি, যার মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছেন। সর্বশেষ হরমোজগান প্রদেশে মার্কিন হামলায় সাত-আটজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে একটি চলন্ত গাড়িতে একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া বন্দর আব্বাসের একটি আবাসিক এলাকায় হামলায় এক নারী নিহত এবং এক শিশুর অঙ্গহানি হয়েছে। 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন হামলা আর দুই-তিন দিন স্থায়ী হলে ইরান পূর্ণমাত্রার আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করবে এবং তখন কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই নিরাপদ থাকবে না। 

এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে দুপক্ষের এই পাল্টাপাল্টি যুদ্ধাবস্থার কারণে জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় ৪ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আইআরজিসি সতর্ক করেছে, এই সংঘাতের প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ইউরোপের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক খাতের ওপরও ব্যাপকভাবে পড়বে।

সূত্র: আলজাজিরা, সিএনএন

আরও পড়ুন

×