স্বামীর স্বজনদের বিরুদ্ধে নারীর ধর্ষণ মামলা
প্রতীকী ছবি
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ০০:০২
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এক নারী তাঁর স্বামীর চার নিকটাত্মীয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেছেন। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই নারী শ্যামনগর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় তিনি স্বামীর চার নিকটাত্মীয় আবু বক্কার, আব্দুল কাদের, মঞ্জুরুল ইসলাম ও রবিউল ফকিরকে আসামি করেন। পুলিশ ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন আসামিদের স্বজনেরা। তাদের অভিযোগ, স্বামীর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না ওই নারীর। তিনি দীর্ঘদিন তাঁকে তালাক দিতে বলছিলেন স্বামীকে। বিনিময়ে দুই শতক জমি বা পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে আসছিলেন। কিন্তু তাঁর স্বামীর নিকটাত্মীয়রা জমি বা টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি হয়রানির উদ্দেশ্যে এই মামলা করেছেন।
এজাহারেও বাদী স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি এতে লিখেছেন, দীর্ঘদিন শ্যামনগর সদরের বাবার বাড়িতে আছেন। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি স্বামীর গ্রামের বাড়িতে যান। এ সময় ঘর তালাবদ্ধ দেখতে পেয়ে স্বামীর মোবাইল ফোনে কল দেন। সংযোগ না পাওয়ায় সাতক্ষীরায় অবস্থানরত ভাসুর আব্দুর রাজ্জাকের পরামর্শে তালা ভেঙে ঘরে ঢোকেন। রাত ১২টার দিকে বারান্দায় পায়চারি করছিলেন তিনি। এ সময় বিবাদীরা তাঁর মুখে গামছা বেঁধে তুলে নিয়ে পাশের খড়ের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন।
ওই নারীর স্বামীর ভাষ্য, তাদের দুজনেরই এটা দ্বিতীয় বিয়ে। তাঁর নামে মাত্র দুই শতক জমি আছে। তালাকের বিনিময়ে স্ত্রী ওই জমি দাবি করছিলেন। তিনি জমি দিতে রাজি হননি। এ কারণে স্বজনদের হয়রানি করতেই মামলা দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী। তিনি দাবি করেন, স্ত্রীকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওই নারীকে পরীক্ষা করে ধর্ষণের কোনো আলামত মেলেনি। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, তিন-চার দিন আগে একই অভিযোগ নিয়ে ওই নারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছিলেন। তখন শারীরিক পরীক্ষার কথা বলেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু তিনি রাজি হননি।
এ বিষয়ে মামলার বাদী বলেন, ‘আমার সঙ্গে যা হয়েছে তা নিয়ে কথা বলব না। তবে আমার বসবাসের জন্য দুই শতক জমি দিলে আমি মামলা করতাম না।’ আগের রাত পর্যন্ত বারবার বলা সত্ত্বেও জমি দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি মামলা করেছেন বলেও জানান।
শ্যামনগর থানার ওসি সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, ওই নারীর এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর পরপরই একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একজন কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তেই প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন হবে।
- বিষয় :
- সাতক্ষীরা
- ধর্ষণ
- ধর্ষণ মামলা
- পুলিশ