জর্ডানে মার্কিন সেনা নিহতের পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা
ছবি: রয়টার্স
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪৩
জর্ডানে দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনার পর ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় হামলা শুরু হয়।
সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, জর্ডানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরেকজন নিখোঁজ রয়েছেন। ওই হামলার জবাব হিসেবে এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের হুমকি মোকাবিলায় এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, শনিবার রাতে জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলায় জড়িত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে অভিযানের লক্ষ্যবস্তু বা এর পরিধি সম্পর্কে সেন্টকম অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
এদিকে ইরানের বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ওই হামলায় কোনো হতাহত বা অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
সেন্টকম আরও জানায়, শুক্রবার জর্ডানে হামলায় নিহত দুই সেনাসদস্যের পাশাপাশি আরেকজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় চলমান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৪২০ জনেরও বেশি সেনাসদস্য।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখেন, ‘বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা রইল। তাঁদের এই আত্মত্যাগ আমাদের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ওয়াশিংটনকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘সংঘাত বাড়িয়ে তোলার’ চেষ্টা করছে এবং এর জন্য তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে।
এক মাস আগে দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত সপ্তাহে ভেঙে যায়। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা আবারও জোরালো হয়েছে।
ইরানের বিভিন্ন সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর শনিবার পাল্টা জবাব দেয় তেহরান। ধারণা করা হচ্ছে, জর্ডানের পাশাপাশি সৌদি আরব এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য মিত্রদেশকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং সর্বোচ্চ নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেন, অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র প্রমাণ করেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষরের ‘কোনো মূল্য বা বিশ্বাসযোগ্যতা নেই’।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এখন সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলতে চায়। এর ফলে তাদের আরও বড় মূল্য দিতে হবে এবং আরও অপমানের মুখে পড়তে হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের জনগণ ও ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ এমন জবাব দিতে সক্ষম, যা যুক্তরাষ্ট্র কখনও ভুলতে পারবে না।
তবে ইরানের এসব বক্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি হোয়াইট হাউস। সূত্র: রয়টার্স
- বিষয় :
- জর্ডান
- ইরানে হামলা
- যুক্তরাষ্ট্র