ইসরায়েলের গণহত্যা
মূল লক্ষ্য গাজার ভূখণ্ড দখল
ছবি: ফাইল
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ | ১১:৫১ | আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৬ | ১১:৫৪
ইসরায়েলি হামলার ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেনি গাজা। এখনও সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ধ্বংসস্তূপ, ফিলিস্তিনিদের থাকতে হচ্ছে তাঁবুতে। যুদ্ধবিরতির মধ্যে তাদের ওপর হামলাও হচ্ছে। এসবের মধ্যেই গত সপ্তাহে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, উপত্যকার উত্তরের অংশে বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।
তিনটি নাহাল আউটপোস্ট গড়ে তোলা হবে বলে জানান কাটজ। তাঁর দাবি, এটি গাজায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে। ওই ঘাঁটিগুলোতে সামরিক উপস্থিতিতে কৃষি কাজ চলবে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মটরিচ নিশ্চিত করেছেন, এই বসতি স্থাপনের রূপরেখার কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন করে ফেলেছেন তারা। তিনি প্রকাশ্যেই পুরো গাজা দখলে নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন অতীতে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে, ইসরায়েলের এ কার্যক্রমগুলো অবৈধ। তবে গাজায় বসতি স্থাপন ইসরায়েলের বর্তমান সরকারের অন্যতম মূল লক্ষ্যগুলোর একটি। তারা দীর্ঘদিন ধরেই এতে সমর্থন দিয়ে আসছে। আলজাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার অনেক আগে থেকেই সম্প্রসারণের পক্ষে– শুধু গাজায় নয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরেও।
এ প্রসঙ্গে ফিলিস্তিনের মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী ইসাম ইউনিস বলেন, প্রথম দিন থেকেই এটি স্পষ্ট ছিল যে এই গণহত্যার মূল উদ্দেশ্য গাজায় সব ধ্বংস করে জীবনধারণকে অসম্ভব বস্তুতে পরিণত করা। এটি সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা– আরও জমি নাও, গাজাবাসীকে অভুক্ত রাখো এবং তাদের জীবনধারণের কোনো সুযোগ দিও না। পাশাপাশি জনসাধারণকে বের করে দাও ও বসতি স্থাপন করো।
ইউনিস জানান, ইসরায়েল গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা মেনে নিয়ে যেভাবে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, তা মূলত তারা করেছে জনসাধারণকে বের করে দিয়ে ভূখণ্ডটি দখলে নেওয়ার জন্য।
ইসরায়েল এ লক্ষ্য গোপনের চেষ্টাও সেভাবে করেনি। ২০২৫ সালের প্রথম ভাগে সরকার ঘোষণা দিয়েছিল যে তারা একটি সংস্থা তৈরি করবে, যাদের কাজই হবে– ফিলিস্তিনিদের স্বেচ্ছায় গাজা ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টির তত্ত্বাবধান করা।
আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি ব্যাপকভাবে সমালোচনার জন্ম দেয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এ ধরনের পদক্ষেপ যুদ্ধাপরাধের সমতুল্য হবে। গত মাসে ইসরায়েলি সরকার ওই সংস্থাকে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেয় এবং ‘স্বেচ্ছায় অভিবাসন’ শব্দ দুটিকে বদলে দেয় ‘মুক্ত চলাচল পরিকল্পনা’য়। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নতুন শব্দগুচ্ছ আন্তর্জাতিকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এই সম্প্রসারণ নীতির সমর্থন রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার করা ২০২৫ সালের এক জরিপে উঠে এসেছে, ৮২ শতাংশ ইহুদি ইসরায়েলি ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে বের করে দেওয়াকে সমর্থন করে।
গত ৯ মাসের যুদ্ধবিরতিতে গাজায় ইসরায়েলি আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১ হাজার ১২৭ জন ফিলিস্তিনি। জাতিসংঘের তথ্য বলছে, ক্ষুধা ও অপ্রতুল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে অন্তত ২৬৫ শিশু প্রাণ হারিয়েছে গাজায়। ইউনিস বলেন, ‘গাজায় পানি, খাবার ও জীবনধারণের জন্য যা যা প্রয়োজন, তার মাত্র ২০ শতাংশ প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। গাজাকে অভুক্ত ও তৃষ্ণার্ত রাখা হচ্ছে।’ তাঁর মতে, ইসরায়েলের লক্ষ্য পরিষ্কার। স্বেচ্ছায় অভিবাসন তকমা দিলেও এটি মূলত জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া।
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কিশোরকে গুলি করে হত্যা
ইসরায়েলি গুলিতে আহত ১৭ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি ফুটবলার গতকাল শনিবার মারা গেছেন। সপ্তাহখানেক আগে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছিল ওই কিশোর। কর্মকর্তা ও স্বজনদের বয়ানে উঠে এসেছে তথ্যটি। গত ১১ জুলাই ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা আক্রমণ চালানোর সময় গুলিবিদ্ধ হন ফাদি হামদাল্লাহ আল-নাসান নামের ওই কিশোর ফুটবলার। ইসরায়েলি বাহিনী তাঁর পা লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর ওই পা কেটে ফেলা হয়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, ওই আঘাত থেকেই মৃত্যু হয় তাঁর।
- বিষয় :
- গণহত্যা
- ইসরায়েলি বর্বরতা
- ইসরায়েলি গণহত্যা