মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্র
রাশিয়ার সহায়তায় সিআইএর স্থাপনায় হামলা চালায় ইরান
ছবি: রয়টার্স
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ২৩:৩৪
উপসাগরীয় অঞ্চলে সিআইএর অবকাঠামোতে ইরানকে ড্রোন হামলা চালাতে সহায়তা করেছে রাশিয়া। অন্তত বিশ্লেষকরাই তাই মনে করছেন। তাদের ধারণা, রাশিয়া অবস্থানগত তথ্য বা আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করেছে ইরানকে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।
নাম গোপন রাখার শর্তে ওই সূত্রগুলো জানায়, সিআইএর অবকাঠামোতে হামলায় রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। রাশিয়া প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে ইরানকে এমন সম্ভাব্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আগেই স্বীকার করেছেন, রাশিয়া মার্কিন অবকাঠামোতে হামলা চালাতে ইরানকে সহায়তা করেছে। তবে সিআইএর অবকাঠামোতে হামলা চালাতেও যে রাশিয়ার হাত ছিল, সে তথ্যটি নতুন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, গত মার্চে সিআইএর অন্তত দুটি অবকাঠামোতে আঘাত হানা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি সৌদি আরবে অবস্থিত সিআইএ স্টেশন, যা রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের ভেতরে অবস্থিত। আরেকটির অবস্থান পূর্ব ইরাকে। সূত্র জানায়, আরও বেশ কয়েকটি সিআইএ সাইটে হামলা হয়েছে, তবে সেগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
যুদ্ধবিরতি চায় ইরান: রুবিও
যুদ্ধ অবসানে ইরান ওয়াশিংটনকে সবার অলক্ষ্যে চাপ দিচ্ছে। তবে তেহরান এখনও যুদ্ধের ইতি টানার চুক্তিতে সম্মত হতে রাজি নয়। বৃহস্পতিবার ফিলিপাইনের ম্যানিলায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
রুবিও বলেন, ‘ইরান প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমাদের সঙ্গে চুক্তি করার জন্য ভিক্ষা চাইছে। আসুন চুক্তি করি, আসুন আলাপ করি। ইরানের সঙ্গে সমস্যা হলো, যতবার তারা চুক্তি করে, ততবার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা হয় সেটি ভাঙতে চায়, নয় পরিবর্তন করতে চায়। ফলে দেখে মনে হচ্ছে, তারা চুক্তি করতে প্রস্তুত নয়।’
রুবিওর মতে, ইরান এমন একটি দেশ, যা উগ্রবাদী ধর্মগুরুরা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ইরান মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে ধনী দেশে পরিণত হতে পারত, যদি তারা চাইত। অথচ তার বদলে তারা (কট্টর ধর্মগুরুরা) এর অর্থ নেয় এবং সেগুলো তারা ব্যবহার করে ও খরচ করে হিজবুল্লাহর পেছনে। তারা হামাসকে তা দেয়। তারা হুতিদের এগুলো দেয়, শিয়া মিলিশিয়াদের দেয়। তারা বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের অর্থায়ন করে।’
ইরান এর আগে ‘চোখের বদলে চোখ’ সামরিক নীতির কথা জানিয়েছিল। সাংবাদিকরা সে বিষয়ে রুবিওর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘চোখের বদলে মাথা’ পন্থা অনুসরণ করছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ইরানকে অনেক ভারী মূল্য পরিশোধ করতে হবে, তারা যা করছে, সেজন্য। তিনি দাবি করেন, ইরানের শিল্প অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য, ইরানকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ। আমাদের এক নম্বর হুমকি হলো, এই উন্মাদদের হাতে পরমাণু যাওয়া। আর তা হবে না।’
তবে ইরানকে রাশিয়া অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে– এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন রুবিও। তিনি বলেছেন, ইয়েমেনের হুতি আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে ইরান সৌদি আরব সংশ্লিষ্ট নৌযানে আঘাত হানছে। রুবিও বলেন, ‘আমি আশা করব, তারা সেটি বন্ধ করবে। তাদের এটি একদমই করা উচিত নয়।’
সৌদি ট্যাঙ্কারে হুতিদের হামলা
বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের হুতিরা জানিয়েছে, লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি তেলের ট্যাঙ্কারে তারা হামলা চালিয়েছে। এতে করে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে দ্বিতীয় আরেকটি পথ হুমকির মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার দুই সপ্তাহ পর এ রকম পদক্ষেপ নিতে দেখা গেল হুতিদের। এই গোষ্ঠীটি ইরান-সংশ্লিষ্ট এবং তাদের কাছ থেকে অস্ত্র পায় বলে অভিযোগ রয়েছে। যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর থেকে শুধু একে অন্যকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছিল।
যে দুটি নৌযানে হামলা হয়েছে, সেগুলোর নাম– এনসেলিয়া ও লায়লা। রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, হুতিদের হামলায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বাব এল-মান্দেব প্রণালি, যা লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জ্বালানি পারাপারের ক্ষেত্রে এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- বিষয় :
- ইরান
- যুক্তরাষ্ট্র
- হামলা
- রাশিয়া
- সিআইএ