১৪ বছর জেল খাটার পর জানা গেল ভুল মামলার প্রতিবেদনে হয়েছিল সাজা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:০৮ | আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:৩৮
ভুল মামলার ফরেনসিক প্রতিবেদন (এফএসএল) ব্যবহার করে দেওয়া হত্যা মামলার রায় বাতিল করেছেন ভারতের মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। এ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া দুই ব্যক্তি ১৪ বছর কারাগারে থাকার পর আদালতের এই সিদ্ধান্ত পেলেন।
ভারতের মধ্যপ্রদেশের দামোহের একটি বিশেষ আদালত ২০১২ সালে তুলসীরাম রাজপাল ও হরপ্রসাদকে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। সম্প্রতি বিচারপতি বিবেক আগরওয়াল ও অবনীন্দ্র কুমার সিংয়ের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ ওই রায় বাতিল করেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ২৫ আগস্ট রাতে পিয়ারেলাল গাদারিয়া অভিযোগ করেন, কয়েকজন ব্যক্তি তার বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের গালাগাল ও তাকে মারধর করেছেন। প্রসিকিউশনের দাবি, তুলসীরাম পিয়ারেলালের পেটে ছুরিকাঘাত করেন এবং হরপ্রসাদসহ আরেকজন তাকে আটকে রাখেন। পরে পিয়ারেলালের মৃত্যু হয়।
এই মামলায় ১৫ জনের সাক্ষ্য নেয় আদালত। তবে পরে মামলার নথি পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট দেখতে পান, যে ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির (এফএসএল) প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছিল, সেটি এই মামলার নয়। প্রতিবেদনটি ছিল সম্পূর্ণ অন্য একটি মামলার। ওই মামলার আসামি, অস্ত্র ও আহত ব্যক্তিরাও ছিলেন ভিন্ন।
এরপরও ওই প্রতিবেদনটি মামলার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের সময়ও প্রতিবেদনটি তাঁদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। পরে ওই প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে তাদের দণ্ড দেন বিচারিক আদালত।
এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে হাইকোর্ট বলেন, বিচারিক আদালতের এমন গাফিলতি কীভাবে হলো, তা তারা বুঝতে পারছেন না। আদালত আরও বলেন, মামলার চূড়ান্ত শুনানির সময়ও কোনো পক্ষ বিষয়টি তুলে ধরেনি। শুধু এই কারণেই বিচারিক আদালতের রায় বাতিল করা যায়।
মামলার এফআইআর নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। তদন্ত কর্মকর্তা অশোক কুমার নানামা আদালতে জানান, এফআইআরটি তার নিজের হাতে লেখা হয়নি। যিনি এটি লিখেছিলেন, তাকেও শনাক্ত করতে পারেননি তিনি।
হাইকোর্ট বলেন, যিনি এফআইআর লিখেছেন, তার সাক্ষ্য নেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অন্য এক পুলিশ সদস্য এফআইআরটি লিখেছেন এবং তদন্ত কর্মকর্তা শুধু তাতে স্বাক্ষর করেছেন।
পিয়ারেলাল নিজে এফআইআর করেছিলেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন আদালত। কারণ, চিকিৎসকের সাক্ষ্য অনুযায়ী, পিয়ারেলালকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তিনি মৃত ছিলেন।
আদালত বলেন, এ অবস্থায় পিয়ারেলাল নিজে এফআইআর করেছিলেন, নাকি তার মৃত্যুর পর পরিবারের কেউ অভিযোগ করেছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এমনকি এফআইআরে থাকা আঙুলের ছাপটি পিয়ারেলালের কি না, সেটিও প্রমাণিত হয়নি।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, তদন্ত ও প্রসিকিউশনের প্রমাণে থাকা এসব গুরুতর ত্রুটি মামলার ভিত্তিকেই দুর্বল করে দিয়েছে। এসব কারণে দুই আসামির দণ্ড ও সাজা বহাল রাখা সম্ভব নয়। এরপর হাইকোর্ট ২০১২ সালে দেওয়া ওই রায় বাতিল করে দুই ব্যক্তিকে দণ্ড থেকে অব্যাহতি দেন।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস