তিব্বতেও ‘ব্যাপক হতাহত’, সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযানের ঘোষণা
বন্যা ও ভূমিধস
একটি ভবনে আছড়ে পড়ে বন্যার পানি। বুধবার তিব্বতে। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:২৯ | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:৩৮
নেপালের যে এলাকাগুলোতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে, সেগুলো চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতের সীমান্তবর্তী। তবে অঞ্চলটিতে কী পরিমাণে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাচ্ছে না। বুধবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি তিব্বতে ‘ব্যাপক হতাহতের’ কথা উল্লেখ করেছিল। তবে রাত সাড়ে সাতটা পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য জানায়নি।
সিসিটিভিতে ধারণ হওয়া একটি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়েছে। বিবিসির যাচাই করা ওই ফুটেজে দেখে যায়, তিব্বতের গিরং সীমান্ত চৌকির একটি ভবনে কাদা ও পানির বিশাল ঢেউ এসে আঘাত হানছে। এলাকাটি পর্বতারোহী ও ট্রেকারদের কাছে জনপ্রিয়। সেখানকার কয়েকটি গ্রাম আংশিকভাবে পানিতে ও কাদায় তলিয়ে গেছে।
চীন থেকে বিবিসির সাংবাদিক লরা বিকার জানিয়েছেন, দেশটিতে কোনো দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বোঝা সবসময়ই কঠিন। কারণ, সব গণমাধ্যম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। তিব্বতের ক্ষেত্রে এই নিয়ন্ত্রণ আরও বেশি। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যখন কোনো বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে নির্দেশনা দেন, তখন সাধারণত বোঝা যায়, ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর।
সিসিটিভির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দলগুলোকে ‘সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান’ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন শি জিনপিং। তিনি বলেছেন, সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা করা। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া এবং প্রাণহানি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা।
সম্প্রচারমাধ্যমটির প্রকাশ করা ফুটেজে প্রবল স্রোতে গাছের ডালপালা ও বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ ভেসে যেতে দেখা গেছে। একটি সড়কও পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে এএফপি তাৎক্ষণিকভাবে ফুটেজটির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। তিব্বতের পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিগাতসে এলাকার সড়কগুলো ভূমিধসের ঝুঁকিতে আছে এবং চলাচলের জন্য নিরাপদ নয়।
বিবিসির ওয়েবসাইটে লরা বিকার লিখেছেন, তিব্বতের গিরং এলাকার সীমান্তটি চীন-নেপালের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের প্রধান প্রবেশপথ। সেখানে প্রায় ৪ হাজার মানুষ বসবাস করে। স্থানীয় শ্রমিকরা জানিয়েছেন, সেখানে বেশ কয়েকটি নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছিল।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বত অঞ্চলে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, হিমালয় ঘেঁষা ওই এলাকায় ভূমিকম্পের পর শুরু হয় তুষারধস। সেখান থেকে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
বন্যায় নেপালে ৪০০ জন পর্যটক নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির ট্যুরিজম বোর্ডের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ২৯১ জনই বিদেশি নাগরিক। ১০৫ জন ভারতীয় এবং ১১১ জনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শনাক্ত হওয়া বাকিদের মধ্যে নেপালের স্থানীয়, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশের নাগরিক আছেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ৩১ জন নিহতের তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। নিখোঁজ ও হতাহতের সংখ্যা নিয়মিত বাড়ছে।