বন্যার খবর সংগ্রহে বিদেশি সাংবাদিকদের মানতে হবে নেপালের নতুন নিয়ম
বন্যা ও ভূমিধসের পর নেপালের দেবঘাটে উদ্ধারকাজে এক বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিকে সরিয়ে নিচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: রয়টার্স
দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ১০:৩৯
নেপালে ভোতেকোশি নদীর ভয়াবহ বন্যার সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য নতুন কিছু নিয়ম চালু করেছে দেশটির সরকার। এখন থেকে বিদেশি সাংবাদিকদের পাসপোর্ট ও বৈধ ভিসার কপি, নিজ নিজ সংবাদমাধ্যমের পরিচয়পত্র এবং নিয়োগপত্র বা চুক্তিপত্রসহ বিভিন্ন নথি জমা দিতে হবে।
নেপালের তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন তথ্য প্রশাসন ও প্রেস শাখা এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বিদেশি সাংবাদিকদের নিজ নিজ সংবাদমাধ্যমের সুপারিশপত্র এবং সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অথবা নেপালে অবস্থিত ওই দেশের দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সুপারিশপত্র জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
তথ্য বিভাগের মুখপাত্র গোবিন্দ প্রসাদ পান্ডে অবশ্য বলেছেন, এটি নতুন কোনো নীতি নয়। বিদেশি সাংবাদিকদের প্রেস পাস দেওয়ার প্রক্রিয়া আগে থেকেই চালু রয়েছে। বিদ্যমান নিয়মের আওতায়ই এবারও তাদের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বিদেশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যবস্থা চালু আছে। মুদ্রণ ও সম্প্রচারমাধ্যমের জন্য প্রযোজ্য বিধি ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রেস পাস দেওয়া হয়। বিদ্যমান ব্যবস্থাই অব্যাহত রাখা হয়েছে।’
বুধবার ভোতেকোশি নদীতে ভয়াবহ বন্যার পর দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের অনেক সাংবাদিক পৌঁছেছেন। তাদের সংবাদ সংগ্রহের কার্যক্রম নিয়মের আওতায় আনতেই নতুন করে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল সরকার।
বিদেশি সাংবাদিকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের দেওয়া পরিচয়পত্রের পাশাপাশি বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিবরণও জমা দিতে হবে। এসব নথি জমা দেওয়ার পর অনলাইনে আবেদন করতে হবে। অনলাইন আবেদন অনুমোদিত হলে নির্ধারিত ফরম্যাটে দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি নিয়ে সাংবাদিককে নিজে তথ্য বিভাগে উপস্থিত হয়ে প্রেস প্রতিনিধি সনদ ও সাংবাদিক পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে।
তথ্য বিভাগের মুখপাত্র পান্ডে বলেন, বিদেশি সাংবাদিকদের যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা অপেক্ষার মধ্যে পড়তে না হয়, সে জন্য সরকারি ছুটির দিনেও বিভাগটির কার্যক্রম চালু রাখা হবে।
নেপালে ইতিমধ্যে অবস্থান করছেন কিন্তু প্রেস পাস নেননি-এমন বিদেশি সাংবাদিকদেরও সংবাদ সংগ্রহের আগে প্রেস পাস নিতে হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রেস পাস ছাড়া সংবাদ সংগ্রহ করলে তা বৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে না।
সরকারি এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য এটি স্থায়ী কোনো নতুন নিয়ম নয়। ভোতেকোশি বন্যার মতো বর্তমান দুর্যোগ পরিস্থিতিতে বিদেশি সাংবাদিকদের কার্যক্রম সুশৃঙ্খল ও নজরদারির আওতায় রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে নেপালি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও প্রেস প্রতিনিধি সনদ ও সাংবাদিক পরিচয়পত্রের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে বলা হয়েছে। তাদের নাগরিকত্ব সনদের কপি, সংবাদমাধ্যমের নিয়োগপত্র ও প্রতিষ্ঠানের সুপারিশপত্র জমা দিতে হবে।
এ ছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, সংবাদমাধ্যমের নিবন্ধন নবায়ন বা হালনাগাদের প্রমাণপত্র, অঙ্গীকারনামা এবং বেতন ও নিয়মিত ভাতা পাওয়ার প্রমাণ হিসেবে সত্যায়িত ব্যাংক হিসাবের তথ্য জমা দিতে হবে।
নেপালের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, দেশে কর্মরত বিদেশি সাংবাদিকদের বিষয়ে তথ্য সংরক্ষণ ও তাদের কার্যক্রমের হিসাব রাখতেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।