ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শবাগারে জায়গা নেই, গণকবরের প্রস্তুতি নেপালে

শবাগারে জায়গা নেই, গণকবরের প্রস্তুতি নেপালে
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ০০:০২ | আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ০০:০৮

নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। বন্যার তাণ্ডবে প্রাণহানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির হাসপাতাল ও শবাগারগুলোতে (মরচুয়ারি) ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মরদেহ জমা হয়েছে। সংরক্ষণের জায়গা সংকটের কারণে শেষ পর্যন্ত অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহগুলো গণকবর দেওয়ার চিন্তা করছে প্রশাসন। রোববার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর জানায়, তিব্বত সীমান্তবর্তী ত্রিশূলী নদী অববাহিকায় সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার পর ভাটি অঞ্চল থেকে শত শত মরদেহ সংগ্রহ করে কাঠমান্ডুতে নেওয়া হচ্ছে। এসব লাশ সংরক্ষণের জন্য রাজধানীতে জরুরি ভিত্তিতে অবকাঠামো বাড়ানো হয়েছে। তবে তাতেও লাশের চাপ সামলানো সম্ভব হচ্ছে না। কেন্দ্রীয়ভাবে মরদেহ গণকবরের সিদ্ধান্ত আসার আগেই সম্প্রতি কাঠমান্ডুর চিতওয়ান জেলায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণের জায়গা সংকটে অজ্ঞাত ৭০টি মরদেহ দাফন করতে বাধ্য হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টরা জানান, নেপালের ট্র্যাজেডির মূলে রয়েছে তিব্বত সীমান্তের একটি বড় হিমবাহের ধস। হিমবাহটি ধসে পড়ার পর ভোতে কোশী নদী উত্তাল হয়ে ওঠে এবং এর পানি তীব্র বেগে ত্রিশূলী নদীতে আছড়ে পড়ে, যা মুহূর্তেই আশপাশের বিস্তীর্ণ জনপদ ভাসিয়ে নিয়ে যায়। আকস্মিক এই ঢলে নেপালের রসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলা পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। সবশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত অন্তত ৭৫২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত আড়াই হাজার মানুষ। 

রাজধানী কাঠমান্ডুর সবচেয়ে বড় মরদেহ সংরক্ষণ সুবিধাসম্পন্ন সরকারি কেন্দ্র ইনস্টিটিউট অব মেডিসিন। সেখানকার এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাদের শবাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার চার গুণের বেশি মরদেহ রাখা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন আর কোনো মরদেহ সেখানে রাখা অসম্ভব।

নেপাল সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গণকবরের কাজ শুরু হয়েছে। তবে প্রতিটি মরদেহের ডিএনএ নমুনা সতর্কতার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হবে। পরে নিখোঁজদের স্বজনরা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করলে ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী শেষকৃত্য করার জন্য মরদেহগুলো কবর থেকে তুলে তাদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা থাকবে।

এদিকে বিপর্যয় মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চীন থেকে উদ্ধারকারী দল নেপালে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও উদ্ধারকারীরা এ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ৪০০ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। 

আরও পড়ুন

×