অন্যদের বাঁচাতে গিয়ে পেছনে পড়ে যাই: টানেল থেকে উদ্ধারের পর সঞ্জয়
ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে সঞ্জয়কে উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার নেপালে। ছবি: নেপালের সেনাবাহিনী
দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:১২ | আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:২১
নেপালের নুয়াকোটে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে নয়দিন পর জীবিত উদ্ধার হওয়া দুজনের একজন সঞ্জয় শাহ। উদ্ধারের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, ‘দুর্ঘটনার পর অন্যরা যখন টানেল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তখন তিনি পেছনে থেকে গিয়েছিলেন। কারণ, তাঁর দায়িত্ব ছিল সবাইকে নিরাপদে বের করে আনার।’
ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে যান্ত্রিক বিভাগের ফোরম্যান (প্রধান তত্ত্বাবধায়ক বা সুপারভাইজার) হিসেবে কাজ করেন সঞ্জয়। সপ্তারির এই বাসিন্দা বন্যার সময় প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণকক্ষে কাজ করছিলেন। তিনি বলেন, বিপর্যয়ের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পালিয়ে না গিয়ে প্রথমে অন্যদের নিরাপদে বের করে আনার চেষ্টা করেন।
টানেল থেকে উদ্ধারের পর নেপালি সেনাবাহিনীর একটি চিকিৎসক দলের সঙ্গে কথা বলেছেন সঞ্জয়। তিনি বলেন, ‘আমি নিয়ন্ত্রণকক্ষে কাজ করছিলাম। সবাইকে বাঁচিয়ে বের করে আনার দায়িত্ব ছিল আমার।’
সঞ্জয় বলেন, দুর্ঘটনার পর সবাইকে দৌড়ে বেরিয়ে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু অন্যরা বের হয়ে যাওয়ার পর তাঁর হাতে আর টানেল ছাড়ার সময় ছিল না।
‘আমি সবাইকে দৌড়াতে বলেছিলাম। এটা করতে গিয়ে আমার সময় চলে যায়। শেষ পর্যন্ত আর বের হতে পারিনি।’ সঞ্জয় জানান, উদ্ধারের অপেক্ষায় টানেলের ভেতরে তিনি মন্ত্র জপে সময় কাটিয়েছেন।
ভেতরে এখনো কতজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন- জানতে চাইলে সঞ্জয় বলেন, আশপাশে থাকা তিন-চারজনের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন বা তাদের কণ্ঠ শুনেছেন।
সঞ্জয় বলেন, টানেলের আরও গভীরে, এমনকি পাওয়ার হাউসের আশপাশে আরও মানুষ আটকা থাকতে পারে। সবাই হয়তো বের হতে পারেনি। টানেলটি অনেক লম্বা। বন্যার পানির তীব্র স্রোতে মানুষ আরও গভীরে ভেসে যেতে পারে।
গত ২৬ আগস্ট ত্রিশূলী উপত্যকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে নেপালের পূর্বাঞ্চলের গ্রামের পর গ্রাম বিধ্বস্ত হয়েছে। ভয়াবহ বন্যার নয়দিন পর শুক্রবার সঞ্জয়সহ দুজনকে টানেল থেকে উদ্ধার করা হলো। আরেকজনের নাম কবির মহার্জন। তিনি কাঠমান্ডুর বাসিন্দা।
- বিষয় :
- উদ্ধার
- জলবিদ্যুৎ প্রকল্প
- নেপাল