ঢাকা সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উইটকফ-কুশনারের সঙ্গে বৈঠকে জেলেনস্কি বললেন, যুদ্ধ শীতকাল পর্যন্ত গড়াতে পারে

উইটকফ-কুশনারের সঙ্গে বৈঠকে জেলেনস্কি বললেন, যুদ্ধ শীতকাল পর্যন্ত গড়াতে পারে
×

ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ট্রাম্পের দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ। ছবি: রয়টার্স

বিবিসি

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:২৬

কিয়েভে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আলোচনার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শীতকাল পর্যন্ত গড়াতে পারে। রোববার কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আপাতত পরিস্থিতি তেমনই মনে হচ্ছে।’

রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর প্রথমবারের মতো ইউক্রেন সফরে যান উইটকফ ও কুশনার। তবে বৈঠক থেকে কোনো বড় ধরনের অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি। এর আগের দিন শনিবার মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন তারা।

কিয়েভের আলোচনাকে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ ও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে উইটকফ বলেন, তিনি এতে ‘উৎসাহিত’ বোধ করছেন। আমরা নিশ্চিত যে এখান থেকে একটি ভালো সমাধান বেরিয়ে আসবে। মস্কোর বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেখানে আলোচকরা অনেকটা অগ্রগতি করেছেন।

জেলেনস্কি বলেন, তিনি এমন একটি ন্যায়সংগত শান্তি চান, যেখানে রাশিয়ার পুনরায় আগ্রাসনের সুযোগ থাকবে না। তিনি জানান, ইউক্রেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে অদূর ভবিষ্যতে আরও বৈঠকের বিষয়ে একমত হয়েছে পক্ষগুলো। একই সঙ্গে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকেরও আহ্বান জানান তিনি।

কুশনার বলেন, মস্কোর বৈঠকে অতীতে কার্যকর হয়নি এমন বিভিন্ন ধারণা ও পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং টেকসই শান্তির জন্য প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উইটকফ জানান, কিয়েভে যাওয়ার আগে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করা জরুরি ছিল, কারণ তাঁর অবস্থান জানা প্রয়োজন।

জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধ শীতকাল পর্যন্ত গড়ালে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও জ্বালানি খাতে সহায়তা প্রয়োজন হবে। রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ‘প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর’-এর ওপর নির্ভর করে। তবে ইরানকেন্দ্রিক সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র তার মজুতের একটি বড় অংশ ব্যবহার করেছে।

বিগত বছরগুলোতে শীতকালে রাশিয়ার হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের নিজস্ব অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উৎপাদন বাড়াবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মার্কিন প্রতিনিধিরা প্রথমে বিমানে পোল্যান্ডে পৌঁছান। সেখান থেকে ট্রেনে কিয়েভে যান তারা। জেলেনস্কি জানান, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও তাদের বিমান কিয়েভে অবতরণ করতে পারেনি। সফরের সময় পুতিন ও জেলেনস্কি একে অপরের রাজধানীতে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন।

তবে আলোচনার মধ্যেও রুশ ও ইউক্রেনীয় বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত ছিল। ইউক্রেন জানিয়েছে, তারা একটি তেল শোধনাগার, একটি বিমানঘাঁটি ও দুটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় হামলা চালিয়েছে। এর আগে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, রাশিয়া ১০৮টি দূরপাল্লার ড্রোন ও ছোট আকারের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৮২টি ড্রোন ও ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করলেও ১১টি স্থানে আঘাত লাগে এবং সাতটি স্থানে ধ্বংসাবশেষ পড়ে।

রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মস্কোতে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকটি তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয়। পুতিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ আলোচনাকে ‘গঠনমূলক ও অত্যন্ত খোলামেলা’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, যুদ্ধ অবসানের উপায়, অর্থনৈতিক বিষয় এবং রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পারস্পরিক লাভজনক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি ও সংঘাতের ‘মূল কারণগুলো’ নিয়েও কথা হয়েছে।

কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জোরদারের মধ্যেই এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় পক্ষই বিমান হামলা বাড়িয়েছে। তবে যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন

×