সৌদির ডাকে সাড়া দেননি ট্রাম্প, বাব এল-মান্দেবের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে হুতিরা
ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। ফাইল ছবি: এএফপি
এএফপি
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:১০ | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৩৭
ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা শুক্রবার লোহিত সাগরের একটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এই দ্বীপটি জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালির মাঝখানে অবস্থিত। এটি দখলের মধ্য দিয়ে তারা প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রচেষ্টা সম্পন্ন করেছে।
ইয়েমেনের এক সরকারি কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দ্বীপটি মায়ুন ও পারিম নামে পরিচিত। এটি প্রণালিকে দুটি ভাগে ভাগ করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, বৃহস্পতিবার সরকারি বাহিনী দ্বীপটি থেকে সরে যায়। এরপর হুতি যোদ্ধেদের বহনকারী নৌকা মায়ুনে পৌঁছায়।
এএফপিকে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘হুথিরা বাব এল-মান্দেব এলাকা ও প্রণালির মাঝখানে অবস্থিত মায়ুন দ্বীপের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।’ ধারণা করা হচ্ছে এই দ্বীপের পাহাড় থেকে হুতিরা প্রণালির ওপর নজর রাখবে। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, বন্দুকধারীরা বাব এল-মান্দেবের উপকূলজুড়েও অবস্থান নিয়েছে। সামরিক যানবাহনে করে ঘোরাফেরা করছে।
তেল রপ্তানির জন্য সৌদি আরবের কাছে এই প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রণালির আশপাশে থাকা রিয়াদ সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে অভিযান শুরু করে হুতিরা। এ সময়ে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
জলপথটিতে চারটি কৌশলগত দ্বীপ আছে। এগুলো হলো জুকার, মায়ুন, গ্রেট হানিশ ও লিটল হানিশ। মায়ুনের আগে হুতিরা বৃহস্পতিবার জুকারের দখল নেয়। সামরিক সূত্র জানিয়েছে, হুথিরা হানিশ দ্বীপপুঞ্জে সরকারি বাহিনীর সেনাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
_1789128806.png)
সূত্র আরও জানায়, হানিশে থাকা ২ হাজারের বেশি সেনার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন। সম্ভবত তাদেরকে আত্মসমর্পণ করতে বলেছে হুতিরা। একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা বলেন, অবরুদ্ধ সেনারা কর্তৃপক্ষের কাছে খাবার, পানি ও উদ্ধার সহায়তা চেয়েছে। কিন্তু অবরোধ দশা থেকে মুক্তির জন্য সেখানে বিমান পাঠানো প্রয়োজন।
বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ লোহিত সাগরে প্রবেশের পর সুয়েজ খালের দিকে যায়। সরু জলপথটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর হুতিদের পলিটব্যুরোর সদস্য হাজেম এল-আসাদ বলেছেন, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়ে যে বৈশ্বিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেটি কমানোর চেষ্টা চলছে।
আল-আরাবি আল-জাদিদ নামের একটি গণমাধ্যমে হাজেম বলেন, ‘লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ চলাচল নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অবস্থায় আছে। আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
সৌদির অনুরোধে ট্রাম্পের ‘না’
দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইয়েমেনের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তখন তিনি পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার কথা জানান। কয়েক ঘণ্টা পর আবার কল করে হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে রাজি হননি।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন সৌদি আরবকে হুতিদের বিষয়ে গোয়েন্দা ও লক্ষ্যবস্তু সংক্রান্ত তথ্য দেবে। ইতোমধ্যে সৌদিতে অবস্থান করা ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা সদস্য রিয়াদকে ‘নন-কাইনেটিক সহায়তা’ দিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি যুবরাজের প্রথম দফার ফোনালাপের সময় হুতিরা বাব এল-মান্দেবের কাছের উপকূলীয় শহর মোচার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। পরে তারা শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। শুক্রবার প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার খবর জানা গেল।