ইয়েমেনে হুতিদের আকস্মিক হামলায় বাস্তুচ্যুত ৫০ হাজার মানুষ
ইয়েমেনের সানায় হুতি বিদ্রোহীদের মিছিল। ছবি: এপি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৫৬ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৩৩
পশ্চিম ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের আকস্মিক অগ্রগতির কারণে ফ্রন্টলাইনের লড়াইয়ের মুখে পড়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। চলতি সপ্তাহে লোহিত সাগর উপকূলের বেশ কয়েকটি শহর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের মিত্র বাহিনীর কাছ থেকে দখল করে নিয়েছে হুতিরা। এর ফলে নতুন করে একটি পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ত্রাণকর্মীদের মতে, পশ্চিম ইয়েমেনে হুতি বাহিনীর আকস্মিক অগ্রগতির কারণে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পালিয়েছে। পুরো গ্রামগুলো জনশূন্য হয়ে পড়েছে এবং সামনের সারির লড়াইয়ের কাছাকাছি আটকা পড়া পরিবারগুলোর খাদ্য সরবরাহ ফুরিয়ে আসছে।
অনেকেই আশঙ্কা করছেন, পুনরায় একটি পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে। আগের গৃহযুদ্ধ প্রায় দেড় লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) শুক্রবার জানিয়েছে, তাইজ এবং হোদেইদাহ প্রদেশ জুড়ে ৪৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অনেক পরিবারের জন্য এটি ছিল তাদের দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারের মতো বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হওয়ার ঘটনা।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষকে তাদের জিনিসপত্র নিয়ে শহর ছাড়তে দেখা গেছে। লড়াইয়ের কারণে প্রধান সড়কগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং কিছু এলাকায় টেলিফোন লাইনও বিকল। কায়রোতে আইওএম-এর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক মুখপাত্র জো লাওরি বলেন, ‘বাস্তুচ্যুতির মাত্রা দ্রুত বাড়ছে।’
লাওরি বলেন, ‘নতুন করে শুরু হওয়া ফ্রন্টলাইনের লড়াই, বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ এবং ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির কারণে বেসামরিক নাগরিকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। পালিয়ে আসা অনেকেই গোলাবর্ষণ এবং ফ্রন্টলাইনে অগ্রগতির কারণে হঠাৎ করে এলাকা ছেড়েছেন বলে খুব সামান্য জিনিসপত্র নিয়েই এসে পৌঁছেছেন।’
হুতিদের এই অগ্রগতি অপ্রত্যাশিত এবং দ্রুতগতিতে এসেছে, বিশেষ করে কৌশলগত বন্দর শহর মোখার পতন বিশ্লেষকদের বিস্মিত করেছে। মোখাকে বিশ্বব্যাপী কফি বাণিজ্যের জন্মস্থান এবং চকলেট স্বাদের কফির সমার্থক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মাঝরাতে মোখা ছেড়ে আসা ৪৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেন, শহরটিতে একটি ‘কেয়ামতের মতো’ পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। দক্ষিণাঞ্চলীয় সরকার নিয়ন্ত্রিত শহর এডেনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া আরেক ব্যক্তি মুজাহিদ তাহামি জানান, কিছু পরিবার পালানোর চেষ্টা করার সময় স্থানীয় গ্যাংগুলোর লুটপাটের শিকার হয়েছে।
উপকূলীয় দ্বীপগুলোসহ এই সপ্তাহে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে পশ্চিমা-বিরোধী হুতিরা বাব-আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি সরাসরি উপস্থিতি অর্জনের আশা করছে। বাব-আল-মান্দেব এশিয়া ও ইউরোপকে সংযুক্তকারী ২০ মাইল দীর্ঘ একটি জলপথ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও জ্বালানি রুট।
হুতিরা যদি প্রাকৃতিকভাবে সংকীর্ণ এই পথটি (চোকপয়েন্ট) বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব বিপর্যয়কর হতে পারে। সেক্ষেত্রে জাহাজগুলোকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে যেতে হবে, যা তাদের যাত্রাপথে অতিরিক্ত হাজার হাজার নটিক্যাল মাইল যুক্ত করবে। কয়েক সপ্তাহ ধরে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারের কাছাকাছি থাকার পর এই লড়াইয়ের কারণে তা ইতোমধ্যেই ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
ইয়েমেনের এই লড়াই এবং সৌদি আরবের ওপর হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলো ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তি চুক্তির পর দেশটিতে হওয়া সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংঘাত। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান/