ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

মালয়েশিয়ায় ১১ বাংলাদেশিসহ আটক ২০

মালয়েশিয়ায় ১১ বাংলাদেশিসহ আটক ২০
×
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী সরবরাহের কোটা অপব্যবহারে জড়িত থাকার সন্দেহে ১১ বাংলাদেশিসহ ২০ জনকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। আটকদের বয়স ২৩ থেকে ৪৭ বছরের মধ্যে। গতকাল তামান দাতুক আহমাদ রাজালিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, সকাল সাড়ে ৭টায় অভিযান শুরু হয়। পুত্রজায়ায় অভিবাসন বিভাগের সদরদপ্তরের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান বিভাগ এ অভিযান পরিচালনা করে। এতে কৌশলগত কমপ্লায়েন্স শাখা এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বোর্ডের (আইআরবি) গোয়েন্দা ও প্রোফাইলিং বিভাগ সহযোগিতা করে।
তিনি বলেন, জনসাধারণের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং বিভাগের সংগৃহীত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। গতকাল দেওয়া এক বিবৃতিতে জাকারিয়া বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি পুরুষ রয়েছেন, যাদের ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক ও ব্যবস্থাপক বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ছয়জন মালয়েশীয় নারীকর্মী এবং ১২ জন বিদেশি গ্রাহক রয়েছেন। বিদেশি গ্রাহকদের মধ্যে ৯ জন বাংলাদেশি পুরুষ ও তিনজন ইন্দোনেশীয় নারী।

অভিযান চালিয়ে ২৬৫টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ৬৩টি ইন্দোনেশীয় পাসপোর্ট, ১২টি পাকিস্তানি পাসপোর্ট এবং একটি ভারতীয় পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া নগদ অর্থে ছয় হাজার ৭০০ মালয়েশীয় রিঙ্গিত জব্দ করা হয়েছে। 
জাকারিয়া জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, চক্রটি কথিত ‘এ-টু-বি’ নিয়োগকর্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করত। এ ব্যবস্থায় একটি প্রতিষ্ঠান (নিয়োগকর্তা এ) বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা অনুমোদন করিয়ে অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাসের (পিএলকেএস) আওতায় কর্মীদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে আসত। কিন্তু পরে মূল নিয়োগকর্তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করানোর পরিবর্তে মুনাফার বিনিময়ে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে (নিয়োগকর্তা বি) তাদের সরবরাহ করা হতো।

বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা অনুমোদন পেতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত অবস্থা ও পরিচিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, এমন তথ্য জমা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে।
তদন্তে আরও দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা চেয়ে আবেদন করেছিল, মালয়েশিয়ায় আসার পর ওই কর্মীরা সেসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন না। বরং তারা স্বাধীনভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন।
জাকারিয়া বলেন, ‘এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতি কর্মীর কাছ থেকে তিন হাজার ৮০০ থেকে পাঁচ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত মুনাফা অর্জন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, কর পরিশোধ এড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রকৃত আর্থিক হিসাবের তুলনায় অনেক কম মুনাফা ঘোষণা করত। পাশাপাশি ২০২০ থেকে ২০২৩ করবর্ষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত আয়ও ঘোষণা করা হয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন

×