ঢাকা রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

এবার জার্মানিতে জেন-জি বিক্ষোভ সহিংস, দোকানপাটে লুটপাট

এবার জার্মানিতে জেন-জি বিক্ষোভ সহিংস, দোকানপাটে লুটপাট
×
×

দেশব্যাপী বিক্ষোভে রাস্তায় ব্যাটম্যানের পোশাক পরা এক ব্যক্তি। ছবি: রয়টার্স

রয়টার্স

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ১০:৫২

জার্মানিতে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে জেন-জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। শনিবার রাতে দেশটির ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন দোকানে লুটপাট চালিয়েছেন। এ সময় আরও কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করে পুলিশ।

শনিবার জার্মানির বড় শহরগুলোতে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জেন জেড রেগেল্ট’ (জেন-জিরাই দায়িত্ব নেবে) নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে দেশটির ৩৪টি শহরে এ কর্মসূচি পালিত হয়। বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখ ছিল এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে হবে এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বন্ধ করতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষা, সামাজিক সেবা, সংস্কৃতি ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় কমানোরও প্রতিবাদ জানান তারা।

জার্মানির আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ফ্রাঙ্কফুর্টে অন্তত দুটি দোকানে লুটপাট চালানো হয়েছে। রয়টার্সের একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আরও কয়েকটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে তৎপর হতে দেখা যায়।

জার্মানির আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ফ্রাঙ্কফুর্টে অন্তত দুটি দোকানে লুটপাট চালানো হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, শহরের কেন্দ্রে সহিংস পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। কয়েকটি দোকানের জানালা ভাঙচুর করা হয়েছে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের লক্ষ্য করে পেট্রলবোমাও নিক্ষেপ করা হচ্ছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষকে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকা এড়িয়ে চলার অথবা সেখান থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানায় পুলিশ।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ ও বার্লিনে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮ হাজার। তবে আয়োজকেরা শুরুতে দেশজুড়ে ১ লাখ ৮২ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের আশা করেছিলেন। তাদের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা প্রায় ৩৬ হাজার অংশগ্রহণকারীর তুলনায় পুলিশের হিসাব অর্ধেক।

জার্মান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবারের বিক্ষোভের বড় অংশই ছিল শান্তিপূর্ণ। তবে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো এই আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। হামবুর্গে কয়েকটি ব্যারিকেডে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

‘জেন জেড রেগেল্ট’-এর মুখপাত্র লিনা ফ্রিডরিখ শনিবার বার্লিনে বলেন, ‘যুদ্ধ ও জবরদস্তির পরিবর্তে শান্তি ও স্বাধীনতার জন্য আমরা এখানে এসেছি।’

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থায় আরও ভালো সহায়তা নিশ্চিত করাই তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তারা বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিরোধী এবং দায়িত্বের বোঝা সবার মধ্যে ন্যায্যভাবে বণ্টনের পক্ষে।

জার্মানির কোলনে স্কুলে অর্থায়ন সংকট, শিক্ষা, সামাজিক সেবা, সংস্কৃতি ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমানো, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের প্রতিবাদে ‘জেন জেড রেগেল্ট’ আয়োজিত দেশব্যাপী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন মানুষ। ছবি: রয়টার্স

আতঙ্কে দোকানের জানালা বন্ধ

জার্মানির কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কায় আগেভাগেই দোকানপাট বন্ধের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বার্লিনের অভিজাত কুরফুরস্টেনডাম বিপণিবিতান এলাকার কিছু দোকানের জানালা কাঠের পাটাতন দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

জার্মানির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠীর কিছু অংশ এবং বিদেশি উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি গোষ্ঠী আন্দোলনে সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করেছে।

হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোসেক বলেন, ফ্রান্সের বিক্ষোভে দোকানপাট লুটপাট, বাড়িঘরে আগুন, পুলিশের গাড়ি পোড়ানো এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার দৃশ্য সবার মনে রয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ফ্রান্সকে আদর্শ হিসেবে তুলে ধরা উচিত নয়।

অন্যদিকে মিউনিখের সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে ১৮ বছর বয়সী স্টিভের। তিনি জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের উদ্দেশে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের উদ্বেগের কোনো সমাধান দেওয়া হয়নি। বরং ব্যয় সংকোচন ও সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ অব্যাহত রয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা সমাবেশ করার সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করে যাবেন।

জার্মানিতে দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা বাড়া এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কমে যাওয়ায় পেনশন ও সরকারি সেবা খাতেও চাপ তৈরি হয়েছে।

তবে আন্দোলনটি কতটা প্রকৃত অর্থে তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনের অংশগ্রহণ রয়েছে। দেশটির জাতীয় স্কুলশিক্ষার্থী সংগঠন বিএসকে এই উদ্যোগ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে। তারা আগামী ২০ নভেম্বর আলাদা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করেছে।

বার্লিনের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী শন বেকারও শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কথা জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলোর বেহাল অবস্থা তুলে ধরাই তার উদ্দেশ্য। রয়টার্সকে তিনি বলেন, ভবনের ভেতরে প্রবেশ করলে পরিত্যক্ত বাড়ির মতো মনে হয়। অথচ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত সেখানে পড়াশোনা করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×