ঢাকা রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

উপসাগরীয় মিত্রদের সতর্কতা

ইরানে ৪ নভেম্বর হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

যে কোনো হুমকিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার নির্দেশ খামেনির

ইরানে ৪ নভেম্বর হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
×
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ০৯:০০ | আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ০৯:২১

| প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিন ৪ নভেম্বর ইরানে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এই বিষয়ে উপসাগরীয় আরব মিত্রদের প্রস্তুতি ও সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত তিনটি উপসাগরীয় দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএসনাউ এ তথ্য জানিয়েছে। 

অন্যদিকে হামলা হলে ভৌগোলিক সীমারেখা ছাড়িয়ে তাৎক্ষণিক ও ধ্বংসাত্মক জবাব দিতে সশস্ত্র বাহিনীকে চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। 

উপসাগরীয় সূত্রগুলো এমএসনাউকে জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনীর এই সম্ভাব্য হামলাটি স্বল্পমেয়াদি হলেও অত্যন্ত বিধ্বংসী ও তীব্র হতে পারে। তবে ইরানের পাল্টা আঘাতের আশঙ্কায় এ অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা যেন না বাড়ে, সে জন্য উপসাগরীয় দেশগুলো ওয়াশিংটনকে সর্বাত্মক চাপ দিচ্ছে। 

এমনকি এ অভিযানের জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার বিষয়ে কোনো কোনো দেশ প্রকাশ্যে আপত্তি জানাতে পারে। গত ১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ওয়াশিংটন ইরানে নতুন কোনো হামলা চালায়নি। 

ভৌগোলিক সীমা ছাড়িয়ে জবাবের নির্দেশ 

যুক্তরাষ্ট্রের এই সম্ভাব্য হামলার খবরের মধ্যেই ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারদের সঙ্গে গতকাল শনিবার জরুরি বৈঠক করেছেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। বৈঠকে শত্রুপক্ষ যে কোনো ধরনের হুমকি বা হামলা করার সঙ্গে সঙ্গেই ভৌগোলিক সীমারেখা ছাড়িয়ে তাৎক্ষণিক, কার্যকর ও ধ্বংসাত্মক জবাব দেওয়ার জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি সর্বোচ্চ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন। 

খামেনি জানিয়েছেন, শত্রুরা যদি আরেকবার সন্ত্রাসী হামলা চালানোর দুঃসাহস দেখায়, তবে সেই যুদ্ধের সময়সীমা এবং তা কখন ও কোন শর্তে শেষ হবে– সে সিদ্ধান্ত পুরোপুরি নির্ধারণ করবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। 

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব ধরনের দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য সম্পদের ওপর আঘাত হানার জন্য ‘টার্গেট ব্যাংক’ নতুন করে হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

আরাঘচির হুঁশিয়ারি ও জার্মানির উদ্বেগ 

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার বিপরীতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে ইউরোপকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে আরাঘচি এক্সে এক পোস্টে লেখেন, ইউরোপ যদি এই সংঘাতের কারণে ১০ হাজার কোটি ইউরো অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ বা অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়ে থাকে, তবে তা কিছুই নয়। ইরানি সশস্ত্র বাহিনী যে ধ্বংসাত্মক ও বিধ্বংসী পাল্টা আঘাত হানা শুরু করবে, তার পরিণতি ইউরোপের জন্য এর চেয়ে বহু গুণ ভয়াবহ হবে। 

অন্যদিকে ইউরোপে চলমান অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। সিউলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, গত আট মাসে এই যুদ্ধের কারণে ইউরোপের ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তাদের ১০ হাজার কোটি ইউরোর বেশি অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হয়েছে। কেবল সামরিক পন্থায় এই সংঘাতের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য অতি দ্রুত কূটনৈতিক আলোচনার পথ খুঁজে বের করতে হবে। 

মধ্যস্থতার জোর চেষ্টা ও ট্রাম্পের দাবি 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ এড়াতে ইরানের রাজধানী তেহরানে গত শুক্রবার টানা ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ম্যারাথন বৈঠক করেছেন কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা। গতকাল দোহায় এই আলোচনা অব্যাহত থাকার কথা রয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি ও অন্যান্য বিষয়ে উভয় পক্ষকে টেবিলে ফেরাতে পারস্পরিক ছাড় আদায়ের চেষ্টা করছেন মধ্যস্থতাকারীরা।

শুক্রবার দিনভর তেহরানে চলা এসব বৈঠকের পুরো সময়ে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে গেছে কাতার এবং এতে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্র। 

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক রেডিও সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি খুব শিগগিরই একটি সমাপ্তির দিকে যাচ্ছে। তবে ঠিক কীভাবে এই যুদ্ধের নিষ্পত্তি হবে, সে বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা দেননি। তিনি কেবল একটি বিষয় পুনর্ব্যক্ত করেছেন, ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না– যুক্তরাষ্ট্রের কেবল এই নিশ্চয়তাটুকুই প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

×