রিয়াদের আকাশে ড্রোন প্রতিহত, মদিনায় হামলার দাবি অস্বীকার
ফাইল ছবি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪৮
সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গতকাল শনিবার রিয়াদের আকাশে ড্রোন প্রতিহত করেছে বলে দাবি করেছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র এ তথ্য জানান। সৌদি আরব ও হুতিদের সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সৌদি আরবের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটি।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে তুর্কি আল-মালকি লিখেছেন, ‘রিয়াদ অঞ্চলে একটি শত্রু ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।’ তিনি আরও জানান, ড্রোনটি প্রতিহত করার পর এর ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়েছে। তবে এতে কেউ আহত হননি। ড্রোনটি কারা পাঠিয়েছিল, সে বিষয়ে কিছু জানাননি মালকি।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন বলছে, গত কয়েক সপ্তাহে সৌদি আরবে হামলা বাড়িয়েছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। এর মধ্যে রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলাও রয়েছে। এসব হামলার কারণে বিমানবন্দরটি দুই সপ্তাহ বন্ধ রাখতে হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আয়োজন বাতিল করা হয়। এর আগে গত শুক্রবার মালকি বলেছিলেন, হুতিরা মদিনা অঞ্চলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে পরে সে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে হুতি গোষ্ঠী।
এমন এক সময়ে সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো, বিমানবন্দর ও জাহাজে হুতিদের হামলার ঘটনা ঘটছে, যখন ইয়েমেনে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে হুতিদের ওই লড়াইয়ে সমর্থন দিচ্ছে রিয়াদ।
জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে এক হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন দুই লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ। জুলাইয়ে ২০২২ সালে হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটে। সৌদি আরবের নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়েমেনের আকাশসীমা উপেক্ষা করে হুতিরা দেশটির রাজধানী সানায় একটি ইরানি বিমান অবতরণের অনুমতি দেওয়ার পর পরিস্থিতির অবনতি হয়। এর পরপরই ধারাবাহিক হামলা শুরু হয়।
পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে হুতিরা। তারা সৌদি জাহাজ, ভূখণ্ড ও তেল স্থাপনায় হামলা শুরু করে। এর আগে এক ঝটিকা অভিযানে ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় গোষ্ঠীটি।
অন্যদিকে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে সৌদি বিমান হামলার খবর প্রায়ই প্রকাশ করছে গোষ্ঠীটি। হুতিদের হামলার জবাবে রিয়াদ এসব পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।
গত শুক্রবার ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুতিরা। সৌদি বাহিনী উপসাগরীয় দেশটিতে হুতিদের একটি হামলা প্রতিহত করার কথা জানানোর কয়েক ঘণ্টা পর এ ঘটনা ঘটে। ইয়েমেনের পুলিশের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
সৌদি-সমর্থিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সদরদপ্তর এডেন। জুলাইয়ে দেশটির দীর্ঘদিনের স্থবির গৃহযুদ্ধ নতুন করে শুরু হওয়ার পর থেকে শহরটি বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
ঘটনার পর এডেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে দেখেছেন বলে এএফপিকে জানিয়েছেন দুই প্রত্যক্ষদর্শী। প্রাসাদটি মূলত বেশ কয়েকটি ভবন নিয়ে গঠিত একটি বড় স্থাপনা। এর কিছু অংশ সরকার এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বাহিনী ব্যবহার করে।
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে পারে সিরিয়া
এদিকে ন্যাটোর আদলে গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে সিরিয়া। গতকাল শনিবার বাহরাইনে অনুষ্ঠিত মানামা সংলাপ সম্মেলনে দেশটির শীর্ষ কূটনীতিক এ কথা জানান।
ইয়েমেনের হুতিদের হামলার মুখে থাকা সৌদি আরব সিরিয়ার বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান সমর্থক। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাবেক শাসক বাশার আল-আসাদের পতনের পর দেশটিতে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি মানামা সংলাপ সম্মেলনে বলেন, ‘মক্কা জোটে সিরিয়ার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি মূল্যায়ন করতে বর্তমানে আলোচনা চলছে।’
হুতিদের ক্রমবর্ধমান হামলার বিরুদ্ধে সমর্থন আদায়ে কাজ করছে সৌদি আরব। চলতি মাসে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দুই সপ্তাহ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা বড় ধরনের হামলাও এর মধ্যে রয়েছে। আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে স্বাক্ষর করে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, এই তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর হামলাকে বাকি দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।