ঢাকা রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

তাহসিফের মৃত্যু

মোবাইল বন্ধের আগের ৭ ঘণ্টা খতিয়ে দেখছে পুলিশ

উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা, দীপ চার দিনের রিমান্ডে

মোবাইল বন্ধের আগের ৭ ঘণ্টা খতিয়ে দেখছে পুলিশ
×
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ০৯:০৩ | আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ০৯:১৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। এতে তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক অংশীদার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে তাহসিফের মোবাইল ফোন বন্ধ হওয়ার আগের সাত ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। 

ওই সাত ঘণ্টা তাহসিফ কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, কার সঙ্গে ছিলেন এবং কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং তাঁর সঙ্গে থাকা দীপের বক্তব্য যাচাই করছেন তদন্তকারীরা। 

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তাহসিফের সঙ্গে দীপের বিভিন্ন সময়ে অবস্থান এবং তাদের চলাচলের তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার দিন তারা একাধিক স্থানে গিয়েছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের সঙ্গে অন্য কেউ ছিলেন কিনা, থাকলে তার পরিচয় কী, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তাহসিফের মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ ঘটনাপ্রবাহ এবং এর সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।

গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাট-সংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। ঘটনার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়। পরে তাঁকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাহসিফের বাবার করা হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত গতকাল শনিবার দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশ তাঁকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিল।
নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান এবং মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

মোবাইল বন্ধ হওয়ার আগের সময়ের ঘটনাপ্রবাহ

এজাহার অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার পর দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। রাত বাড়লেও তিনি বাসায় ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরবেন বলে জানান। পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাঁর মোবাইল ফোন থেকে মায়ের মেসেঞ্জারে একটি ভয়েস বার্তা পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি।’

এর পর আর বাসায় ফেরেননি তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের খবর পায় পরিবার।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাহসিফ বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে মরদেহ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত তাঁর অবস্থান ও চলাচলের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে শেষ কয়েক ঘণ্টায় তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

রেস্তোরাঁ ও বারে এক নারীর সঙ্গে দেখা যায়
ঘটনার দিন রাতে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের জমজম টাওয়ারের কাছে নেস্ট রেস্তোরাঁ অ্যান্ড বারে গিয়েছিলেন তাহসিফ ও দীপ। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজে তাদের সঙ্গে এক নারীকে দেখা গেছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রও ওই স্থানে তাদের যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১০টা ১৭ মিনিটে তাহসিফ মোটরসাইকেলে সেখানে পৌঁছান। তাঁর পেছনে আরেকটি মোটরসাইকেলে ছিলেন দীপ। তাহসিফের মোটরসাইকেলে এক নারীও ছিলেন। তিনি নেমে ভবনের ফুটপাতে দাঁড়ান। তাঁর হাতে একটি সাদা ব্যাগ দেখা যায়। পরে তাহসিফ ওই নারীকে নিয়ে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। কয়েক সেকেন্ড পর দীপও সেখানে যান।

ফুটেজ অনুযায়ী, রাত ১১টা ৪৯ মিনিটের দিকে তাহসিফ ও ওই নারী ভবন থেকে বের হন। বাইরে দীপকে নিজের মোটরসাইকেলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। প্রথমে ওই নারীকে একটি রিকশায় তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। 

ওই নারীর পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি তাহসিফ ও দীপের সঙ্গে কী কারণে সেখানে গিয়েছিলেন, তা-ও তদন্তের বিষয়।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই রেস্তোরাঁ ও বারে যাওয়ার আগে বা পরে তারা অন্য কোথাও গিয়েছিলেন কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানের ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে তাদের চলাচলের ধারাবাহিকতা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।

মাজার বস্তি এলাকায় কী ঘটেছিল
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা। পিবিআইর জিজ্ঞাসাবাদে দীপ ওই এলাকায় যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেখান থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

তবে ওই এলাকায় যাওয়ার পর কী ঘটেছিল, তা নিয়ে দীপের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করছেন।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাহসিফের মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে কারা ছিলেন, সেখানে কোনো বিরোধ বা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল কিনা এবং তাঁর মৃত্যু কীভাবে হয়েছে– এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। এসব বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

হত্যা মামলা করলেন বাবা
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। এজাহারে ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

এজাহারে বলা হয়েছে, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফ আর ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর শেষ যোগাযোগের তথ্যও এতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের খবর পায় পরিবার।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন আদালতে দীপের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দীপের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন, অন্য আসামিদের শনাক্ত, প্রয়োজনীয় আলামত উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণের জন্য তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে রিমান্ড আবেদনে পুলিশের উল্লেখ করা অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

তদন্তের দাবি রাওয়ার
তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের কল্যাণ সংস্থা রাওয়া। গতকাল উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে তাহসিফের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন সংগঠনটির নেতারা। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
রাওয়ার যুগ্ম সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু নওরোজ খুরশিদ আলম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা ঘটনাটি তদন্ত করছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে তারা পরিবারের কাছ থেকে জেনেছেন।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) আল আমিন বলেন, তারা ঘটনাটির তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখবেন। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

নিরপেক্ষ তদন্ত চায় এইচআরএসএস
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। গতকাল সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলামের সই করা বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনার পর প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে মৃত্যুর কারণ এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, পুলিশের পোশাক পরা ব্যক্তিদের ধাওয়ার বিষয়ে দীপের বক্তব্য এবং পুলিশের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে কিনা, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

তাহসিফের শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন নিয়েও অস্পষ্টতা রয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এসব বিষয়ে অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্ত না নিয়ে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের আলোচিত ভিডিও তাহসিফের সামাজিক মাধ্যম থেকে প্রথম প্রচারিত হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে এইচআরএসএস।
সংগঠনটি ময়নাতদন্ত ও রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশ, সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণ এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
তাহসিফের মৃত্যুর কারণ, ঘটনার রাতে তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা– সবকিছুই এখন তদন্তের বিষয়। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে দায়ী না করে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করাই এখন পুলিশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

দীপের রিমান্ড শুনানি
বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে আসামি দীপকে এজলাসে তোলা হয়। এর পর শুনানি শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর ফিরোজ উদ্দিন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার ভিডিও করেছিলেন তাহসিফ সাউরি। পরবর্তী সময় তা সামাজিক মাধ্যমে ছাড়া হয়। এ কারণে ভিকটিমকে খুন করা হতে পারে। সে তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য, এ ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানার জন্য আসামির রিমান্ড প্রয়োজন।

দীপের পক্ষে দুই আইনজীবী মনিরুল ইসলাম ও মুতাসিম বিল্লাহ রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। প্রথমে মনিরুল ইসলাম বলেন, ভিকটিমের সঙ্গে আসামির পারিবারিকভাবে ছয় বছরের সম্পর্ক। ভিকটিমের বাবা কিন্তু একটিবারও বলেননি আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত। আর ভিকটিম বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা। রাত ২টার দিকে তিনি কেন মাদক আস্তানায় যাবেন, তা বোধগম্য নয়।
এর পর মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, ‘আসামি ঘটনার সাথে জড়িত নন। তিনি জড়িত থাকলে কিন্তু বাসায় থাকতেন না। প্রথম থেকে কিন্তু তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। আমরাও চাই প্রকৃত রহস্য উঠে আনুক।’ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে দীপকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার সাংবাদিকদের বলেন, দীপের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন, অপরাধের আলামত নষ্ট করা বা অপরাধীকে শাস্তি থেকে বাঁচানো ও যৌথ দায়বদ্ধতা অভিযোগ আনা হয়েছে দণ্ডবিধির ২০৩, ২০১ ও ৩৪ ধারায়। তিনি বলেন, ‘যিনি হত্যার শিকার হয়েছেন, ভিকটিম হয়েছেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার সময় যে ভিডিওটা আপনারা দেখেছেন … শেখ হাসিনা পালিয়ে যাচ্ছেন, এই যে ভিডিওটা হয়েছে, উনি এই ভিডিওটা করেছিলেন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে দিয়েছিলেন। যার কারণে ২০২৪ সালের এ আন্দোলন সফল হয়েছিল, এ কারণে হয়তো ভিকটিমকে মারার পরিকল্পনা করা হয়েছে।’

এদিকে রিমান্ডের আদেশ হওয়ার পর আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় দীপ এক স্বজনকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমি ফুললি স্ট্রং।’ তাঁকে নিয়ে দুশ্চিন্তা না করার কথা বলেন দীপ।

 

আরও পড়ুন

×