ঢাকা রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলে ইহুদি-আরব জোট সরকার গঠনের দাবিতে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

ইসরায়েলে ইহুদি-আরব জোট সরকার গঠনের দাবিতে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ
×
×

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেজেছেন এক বিক্ষোভকারী, তার হাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আদলে একটি পুতুল। ছবি: এএফপি

টাইমস অব ইসরায়েল

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ১০:১২ | আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ১০:১৪

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরোধিতা করে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। পার্লামেন্ট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদি ও আরব রাজনৈতিক দলগুলোকে একজোট হয়ে সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

গতকাল শনিবার তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে প্রায় দুই হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় তাদের হাতে নেতানিয়াহুবিরোধী বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা ‘ইহুদি ও আরবরা একে অপরের শত্রু হতে চায় না’ এবং ‘বর্ণবাদের বিরুদ্ধে, সম্প্রীতির পক্ষে’-এমন স্লোগান দেন।

পরে হাবিমা স্কয়ার থেকে মিছিল নিয়ে রাবিন স্কয়ারে যান বিক্ষোভকারীরা। সেখানে তারা ঢোল বাজিয়ে ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘পরিবর্তন আনার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে’ এবং ‘সবার জন্য সমতা’। এ সময় ‘অংশীদারত্ব ও সমতার মধ্য দিয়ে আমরা সরকার পরিবর্তন করব’ বলেও স্লোগান দেন তারা।

একই দাবিতে গতকাল জেরুজালেমেও বিক্ষোভ হয়েছে। ‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’ নামের একটি সংগঠন ইসরায়েলজুড়ে এসব কর্মসূচির আয়োজন করে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার হার্জলিয়া শহরেও একই দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বাসভবনের বাইরে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভকারীরা। ছবি: এএফপি

গত ২৮ অক্টোবর ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন কোনো দল বা জোট এককভাবে পায়নি। নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। অন্যদিকে আরব দল রাআম ও জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ১৯টি আসন।

এ হিসাবে আইজেনকটের বিরোধী জোটের সঙ্গে আরব দলগুলো যুক্ত হলে আসনসংখ্যা দাঁড়াবে ৬৭। এতে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে আরব দলগুলোর বৈঠকও হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলানও আরব দলগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন।

এদিকে নতুন পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশনেই স্পিকার আমির ওহানাকে সরানোর বিষয়ে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বারাক সেরি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ পদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদকে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাজে এক বিক্ষোভকারীর হাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আদলে তৈরি পুতুল। ছবি: এএফপি

তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে বিরোধী শিবিরে মতপার্থক্য রয়েছে। নেতানিয়াহুবিরোধী চার দলের মধ্যে ইয়াশার, বি’য়াচাদ ও ইসরায়েল বেইতেনু-এই তিন দল আরব দলগুলোকে নিয়ে সরকার গঠনে আগ্রহী নয়। ফলে সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৬৭ হলেও বিরোধীদের পক্ষে সরকার গঠন করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

নেতানিয়াহুর সমর্থকদের পাল্টা বিক্ষোভ

এদিকে একই দিন তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে নেতানিয়াহুর সমর্থকেরাও পাল্টা বিক্ষোভ করেছেন। তাদের অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২০০। তাদের অভিযোগ, আরব দলগুলো নির্বাচন ‘চুরি’ করেছে।

এ সময় বিক্ষোভকারীদের ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ এবং ‘সন্ত্রাসীদের গাজায় পাঠাও, সরকারে নয়’-এমন স্লোগান দিতে দেখা যায়। কয়েকজন তরুণ বিক্ষোভকারী বর্ণবাদী স্লোগানও দেন। তাদের একজন বলেন, ‘তোমাদের গ্রাম পুড়ে ছাই হোক।’

বিক্ষোভে রাআম ও জয়েন্ট লিস্টের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির। তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে নির্বাচন চুরি করতে দেব না।’

তার পাশে থাকা একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ইহুদি রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণের অধিকার আরবদের দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন

×