সিএনএনের বিশ্লেষণ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে যা ঘটতে পারে
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ০৭:৩৩
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র একদিন বাকি। ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যাপক নির্বাচনী জালিয়াতি নিয়ে ধারাবাহিক ও ভিত্তিহীন বক্তব্যের জেরে যে পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, সেটির সময় ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে।
নির্বাচনকে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য তিনি জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেননি। ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগকে ব্যবহারের তাঁর প্রচেষ্টাও অন্তত এবার ব্যর্থ হয়েছে। ইতোমধ্যে লাখো মার্কিন নাগরিক আগাম ও ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন বলছে, নির্বাচনের দিন ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যেসব ভোটার, তাদের মনোযোগ এখন ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া এবং ভোটের পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ডলি পার্টনের বোন স্টেলা সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছেন। তাঁর দাবি, একটি ভোটিং মেশিন তাঁর দেওয়া ভোট পরিবর্তন করে দিয়েছে।
সিএনএনকে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভোটারদের নিজেদের ব্যালটের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। তবে এ ধরনের ভুলের পেছনে সাধারণত ভোট দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত অন্য জায়গায় স্পর্শ করা কিংবা নখ বড় হওয়ার মতো বিষয় কাজ করে। অন্য কথায়, এটি মূলত ব্যবহারকারীর ভুল।
২০২৪ সালে একের পর এক বোমা হামলার হুমকিতে জর্জিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোট গ্রহণ ব্যাহত হয়েছিল। ধারণা করা হয়, দেশের বাইরে থেকে এসব হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
এ বছরও নির্বাচন কর্মকর্তারা এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। খারাপ আবহাওয়া, নেটওয়ার্ক অচল হয়ে যাওয়া কিংবা মৌমাছির ঝাঁকের মতো নানা অপ্রত্যাশিত ঘটনা নিয়েও তাদের প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচনকর্মীরা সম্ভাব্য নানা পরিস্থিতি মোকাবিলার মহড়া দিয়ে থাকেন। অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচন কর্মকর্তারা সাধারণত একমত হয়ে বলেন, ভোট গ্রহণ ও গণনা নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হবে। অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক এখনও নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান ভিন্ন।
০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কীভাবে আপত্তি তুলতে পারে, তা নিয়ে অনেক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর কিছু যৌক্তিক, আবার কিছুটা অতিরঞ্জিত। চলতি সপ্তাহে নির্বাচনের ফল মেনে নেবেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে শর্তসাপেক্ষে সম্মতি জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন সৎভাবে অনুষ্ঠিত হলে অবশ্যই মেনে নেব।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প যেসব নির্বাচনে নিজে জয়ী হয়েছেন, সেগুলোতেও জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন। তাই ধরে নেওয়া যেতে পারে, এবারও তিনি নির্বাচনকে সুষ্ঠু বলে মনে করবেন না; বিশেষ করে, রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেট কিংবা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে।
নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগের কারণে কারও বিরুদ্ধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটলে তথ্যদাতাকে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। তবে রিপাবলিকান দলের নির্বাচনী আইনজীবী বেন গিন্সবার্গ বিষয়টিকে অনেকটা হাস্যকর বলে মনে করেন।
- বিষয় :
- যুক্তরাষ্ট্র
- নির্বাচন