ঢাকা রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

পাতের ভাত শেষের আগেই হামলা হয় বৃদ্ধার ওপর

মাদ্রাসার রন্ধনশালায় ক্ষুধার্ত ভবঘুরের হামলায় দুজন নিহত

পাতের ভাত শেষের আগেই হামলা হয় বৃদ্ধার ওপর
×
×

সোনাভান বিবি, মো. ফজের আলী

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

পেটপুরে একটু ভালো খাবারের আশায় হতদরিদ্র সোনাভান বিবি (৭০) আসেন দৌলতদিয়া আঞ্জুমান কাদরীয় খানকা শরিফের সাবিয়াতুল হাসান মাদ্রাসার রন্ধনশালায়। খাবারও পান তিনি, কিন্তু পাতের ভাত শেষ করা হয়নি তাঁর। এর আগেই ক্ষুধার্ত আরেক ভবঘুরের লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। গত শুক্রবার বিকেলে হামলার শিকার সোনাভান গতকাল শনিবার ভোরে ঢাকায় মারা গেছেন।
সোনাভান বিবি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহিরচর সিদ্দিক কাজীরপাড়া গ্রামের মৃত সাইমুদ্দিন শেখের স্ত্রী। ভবঘুরের হামলায় ঘটনাস্থলে নিহত হন রন্ধনশালাটির প্রধান বাবুর্চি মো. ফজের আলী (৭০)। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া গ্রামের আহমেদ আলীর ছেলে।
গতকাল শনিবার দুপুরে দৌলতদিয়ার ওই খানকা শরিফে দেখা যায়, রন্ধনশালাটি প্রশাসনের নির্দেশে তালাবদ্ধ। সেখানে ছোপ ছোপ রক্ত জমে আছে। খানকা শরিফ ও মাদ্রাসায় থমথমে অবস্থা। কিছুক্ষণ পর পর প্রশাসন ও আইশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আসছেন।

এ সময় কথা হয় নিহত বাবুর্চি মো. ফজের আলীর সহকারী নূরজাহান বেগমের সঙ্গে। তিনি দৌলতদিয়া মসজিদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। নূরজাহানের ভাষ্য, ঘটনার সময় তিনি চুলায় কাজ করছিলেন। বাবুর্চি ফজের আলী বসেছিলেন রন্ধনশালার সামনের দিকে। শুক্রবার বিকেল ৩টার কিছু আগে সেখানে এসে খাবার চান সোনাভান বিবি। তাঁকে খাবার দেওয়া হলে বাবুর্চির পাশে বসেই খেতে শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে এসে খাবার চান। কিন্তু ভাত শেষ হয়ে যাওয়ায় বাবুর্চি ফজের আলী তাঁকে অপেক্ষা করতে বলেন। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে রন্ধনশালায় থাকা রান্নার লাকড়ি দিয়ে ফজের আলীকে পেটাতে থাকেন ওই ব্যক্তি। পাশে থাকা সোনাভান বিবি চিৎকার দিলে তাঁকেও পেটানো হয়। ভয়ে নূরজাহান দৌড়ে পালিয়ে যান। বাইরে গিয়ে সবাইকে ডাকাডাকি করেন।
নূরজাহান আরও জানান, সেখানে উপস্থিত খানকা শরিফের ভক্ত ও মাদ্রাসার ছাত্ররা দুজনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক বাবুর্চি ফজের আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সোনাভান বিবিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

পুলিশ ও সোনাভানের স্বজনরা জানান, অবস্থার আরও অবনতি হলে রাতেই তাঁকে ফরিদপুর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। সেখানে শনিবার ভোররাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী ভবঘুরের নাম মো. সেন্টু। তিনি নাটোর সদর উপজেলার একডালা দক্ষিণপাড়ার মো. আবুল হোসেনের ছেলে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারীকে আটক করা হয়। তাঁকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পুলিশ। আঙুলের ছাপ নিয়ে ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁর স্বজনরা ওই ব্যক্তির নাম মো. সেন্টু বলে জানিয়েছেন। তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পাঁচ-ছয় বছর ধরে নিখোঁজ ছিলেন। 

আরও পড়ুন

×