‘মেয়েকে ছিনিয়ে নেয়, আমার মুখে বিষ ঢেলে দেয়’
সিরাজদীখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
‘পাঁচ থেকে ছয়জন মুখোশ পরা লোক মোটরসাইকেলে এসে আমাদের অটোরিকশার গতিরোধ করে। আমার পাঁচ বছরের মেয়েকে ছিনিয়ে নেয়। এরপর জোর করে আমার মুখে বিষ ঢেলে দেয়। ধারালো চাকু দিয়ে আমার পেটে আঘাত করে। আমি কোনো রকমে দৌড়ে পালিয়ে যাই।’ মৃত্যুর আগে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এভাবেই নিজের ওপর হামলার বর্ণনা দেন মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের গোলাপ হোসেন।
সিরাজদীখান উপজেলার পাথরঘাটা এলাকায় গত বুধবার রাতে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়ে পাঁচ বছরের মেয়ে তোয়াবাকে গলা কেটে হত্যা করে ফেলে যায়। এ সময় তার বাবা গোলাপ হোসেনকে (৩৬) ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরদিন গত বৃহস্পতিবার সকালে রামকৃষ্ণদী গ্রামের মোল্লা ব্রিকসের কাছের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে তোয়াবার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় বাবা গোলাপ হোসেনও।
ভিডিওতে তাঁর এমন আকুতি ও ঘটনার বর্ণনা শুনে শোক ও ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা। বাবা-মেয়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ভিডিওটি ঘিরে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ভিডিওতে গোলাপ হোসেনের দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী, গত বুধবার রাতে পাঁচ থেকে ছয়জন মুখোশধারী ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে তাঁর অটোরিকশার গতিরোধ করে। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাঁর পাঁচ বছরের মেয়ে তোয়াবাকে ছিনিয়ে নেয়। পরে তাঁকে জোর করে বিষজাতীয় কিছু পান করায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে পেটে আঘাত করে। এক পর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি ছোট তোয়াবার। দুর্বৃত্তরা শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করে রামকৃষ্ণদী গ্রামের মোল্লা ব্রিকসের কাছে একটি পরিত্যক্ত জমিতে ফেলে যায়।
ভিডিওতে গোলাপ হোসেনের দেওয়া বর্ণনা এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারা এই হামলা চালিয়েছে, কেন পাঁচ বছরের নিষ্পাপ শিশুকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা করা হলো, আর কী ছিল এই নৃশংসতার নেপথ্যে– এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চান স্বজন ও এলাকাবাসী।
এই ঘটনায় নিহত গোলাপ হোসেনের বাবা জয়নাল মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেছেন। সোহরাব হোসেন নামে একজনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে ১২ থেকে ১৩ জনকে। এই মামলায় সোহরাব হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বাদী জয়নাল মিয়া জানান, প্রতিবেশী সোহরাবের সঙ্গে বাড়ির জায়গা নিয়ে তাদের বিরোধ ছিল। এর আগে সোহরাব একাধিকবার হামলা করেছে। সেসব নিয়ে আদালতে মামলা চলছে।
নিহত গোলাপ হোসেনের ভিডিও বার্তার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিরাজদীখান থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন। তিনি বলেন, যারা গোলাপ হোসেনকে হাসপাতালে নিয়েছিল তারাই এই ভিডিওটি করেছে। এই ঘটনায় একজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
- বিষয় :
- বিষ