ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

লাভরভের সঙ্গে ছবি তুলতে নারাজ পশ্চিমারা, জি-২০-এর ‘পারিবারিক ছবি’ বাতিল

অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশের বয়কটের হুমকির মুখে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের

লাভরভের সঙ্গে ছবি তুলতে নারাজ পশ্চিমারা, জি-২০-এর ‘পারিবারিক ছবি’ বাতিল
×
×

ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:১৯

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে আপত্তি জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এসব দেশের বয়কটের হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্রে জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের শুরুতে প্রচলিত ‘পারিবারিক ছবি’ তোলার আয়োজন বাতিল করা হয়েছে।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় শুরু হওয়া বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দেশ রুশ প্রতিনিধিদের সঙ্গে একই ছবিতে থাকতে চায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

ছবি তোলার আয়োজন বাতিল হলেও বৈঠকের উদ্বোধনী বক্তব্যে ঐক্যের আহ্বান জানান রুবিও। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সংকটময় সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সংকটের একটি ধারাবাহিকতার মুখোমুখি আমরা, যেগুলো একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, রুশ প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো ছবি তোলা হলে তারা তাতে অংশ নেবে না। শুক্রবারের বৈঠকের আগে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল বলেন, ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে লাভরভের কোনো ‘পারিবারিক ছবি’ তোলা হবে না। কারণ, রাশিয়ার সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কের পরিস্থিতি নেই।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও একই অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা রাশিয়ার সঙ্গে এভাবে সম্পৃক্ত হই না এবং বেশ কয়েক বছর ধরেই তা করছি না।’

বৈঠকের উদ্বোধনী অধিবেশনে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের নিন্দা জানান। লাভরভের উপস্থিতিতেই তিনি এই যুদ্ধকে নিষ্ঠুর ও অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, রাশিয়ার অবৈধ যুদ্ধ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলেছে এবং বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তার পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এক মুখপাত্র বলেন, পারিবারিক ছবি বাতিলের মার্কিন সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে অস্ট্রেলিয়া। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না- এ বিষয়ে দেশটির অবস্থান স্পষ্ট ও ধারাবাহিক।

আটলান্টার এই মতবিরোধ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়াকে আবারও সম্পৃক্ত করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে বিভাজনের আরেকটি দৃষ্টান্ত। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ চলার মধ্যেই দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত করতে চাইছে ওয়াশিংটন।

বৈঠকের উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশ নেওয়া কূটনীতিকেরা জানিয়েছেন, আলোচনা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শুরু হলেও ইউক্রেন প্রশ্নে রাশিয়ার অবস্থানে কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। জি-২০-তে পোল্যান্ডের সদস্যপদ নিয়েও রাশিয়ার আপত্তি রয়েছে।

এ ছাড়া জি-২০-এর সদস্য দক্ষিণ আফ্রিকাকে যুক্তরাষ্ট্র আমন্ত্রণ না জানানো নিয়েও মতবিরোধ রয়েছে। এসব মতপার্থক্যের কারণে শনিবার বৈঠক শেষ হওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথ বিবৃতি দিতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অংশগ্রহণকারীরা।

জি-২০ বৈঠকে প্রথমবারের মতো অতিথি হিসেবে অংশ নেওয়া পোল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি বলেন, ‘আমাদের সামনে যুদ্ধ চলছে এবং সেই যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোও একই টেবিলে বসেছে। তাই একটি অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছানো খুব কঠিন।’

বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সবাই তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতে সম্মত হয়েছেন। আগামী মাসে ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের আয়োজনে জি-২০ নেতাদের সম্মেলন সফল করাও তাদের লক্ষ্য।

এবারের বৈঠকে ইউক্রেনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। দেশটি জি-২০-এর সদস্য নয়। এর আগে বিভিন্ন বৈঠকে ইউক্রেনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও এবার কেবল আনুষ্ঠানিক সদস্যদেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে পোল্যান্ড জি-২০-এর সদস্য না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে সদস্যপদ পাওয়ার চেষ্টা করছে।

তবে আমন্ত্রণের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটি জি-২০-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং জোটের একমাত্র আফ্রিকান দেশ। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দেশটির কয়েকটি বিষয়ে বিরোধ রয়েছে। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকা জি-২০-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করার সময় ট্রাম্প ও রুবিওসহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা দেশটির আয়োজিত বৈঠকগুলো এড়িয়ে গিয়েছিলেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আরও পড়ুন

×