বেতন বৃদ্ধির দাবি
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ শ্রমিকদের, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ৫০
ছবি: সমকাল
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:৪১ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:০২
ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি করে ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে প্রায় তিন ঘণ্টা মহাসড়কে বিক্ষোভ করেছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। আজ শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পুলিশ শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশের টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ফয়সাল আহমেদ ও রোজিনা আকতারসহ একাধিক শ্রমিক জানান, এ সময় অর্ধশতাধিক বিক্ষোভকারী শ্রমিক আহত হয়েছেন।
এর আগে বেলা আড়াইটা থেকে শ্রমিকদের অবরোধের ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে। এর আগে, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকার অন্তত ১৮টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন ইন্টারস্টপ কারখানার শ্রমিকেরা। পরে আরও কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভে অংশ নেন।
আন্দোলনরত শ্রমিকেরা বলেন, বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আগের মতো ওভারটাইমের সুযোগও নেই। অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বাড়লেও তাদের বেতন বাড়েনি। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।
শিল্প পুলিশ, কারখানার শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, মৌচাকসহ বিভিন্ন এলাকায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করছেন। এর মধ্যে সরকার শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপরও বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার দুপুরে টিফিন বিরতির সময় কাজে যোগ না দিয়ে ইন্টারস্টপ কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন। পরে আশপাশের ময়লা-আবর্জনার বস্তা রাস্তায় ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন তারা। একপর্যায়ে পাশের ডিভাইন টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিকরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। এতে চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে থানা-পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। বেলা আড়াইটা থেকে অবরোধ শুরু হলে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকরা।
চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় কথা হয় বাসচালক খবির উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চন্দ্রা এলাকায় বসে আছি। এর আগে গত বৃহস্পতিবারও একই পরিস্থিতি হয়েছিল। পোশাকশ্রমিকেরা প্রায়ই এভাবে রাস্তা বন্ধ করে রাখলে আমাদের কী হবে?’
যাত্রী মো. কারেকুল ইসলাম বলেন, জরুরি কাজে ঢাকায় যাওয়া প্রয়োজন। চন্দ্রায় এসে বাস থেকে নেমে বাধ্য হয়ে হেঁটে যাচ্ছি।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। তবে দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে হবে। মানুষের জানমালের ক্ষতি বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়, এমন কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার জন্য শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আশপাশের ১০ থেকে ১২টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পাঁচটার দিকে শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।