মধ্যবর্তী নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে রীতি ভেঙেছে ট্রাম্পের বিচার বিভাগ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে মঙ্গলবার। ছবি: সংগৃহীত
রয়টার্স
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ২০:২০ | আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ২০:২৭
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপের আগ্রহ দেখিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিচার বিভাগ। এর মধ্য দিয়ে তারা কয়েক দশকের প্রচলিত রীতি ভেঙেছে। আইন প্রয়োগের ক্ষমতা যাতে কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর পক্ষে না যায় তা এতদিন নিশ্চিত করা হতো।
ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রায় ২০ হাজার ভোটারের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট বাতিলের আবেদন জানিয়েছে বিচার বিভাগ। তাদের অভিযোগ, এসব ভোটারের অনেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট একটি ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় নথিপত্রও চাওয়া হয়েছে।
এমন হস্তক্ষেপের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভোট বাতিলের এখতিয়ার বিচার বিভাগের নেই। তাছাড়া, যারা নাগরিক নন তাদের ভোট দেওয়া ঠেকাতে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আরেক অঙ্গরাজ্য আলাস্কায় বিচার বিভাগ একটি ফৌজদারি তদন্ত জোরদার করেছে। এটি ছিল রিপাবলিকান পার্টির বর্তমান সিনেটর ড্যান সুলিভানের নাম সংক্রান্ত। একই নামে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে প্রার্থী হয়েছেন কি না বিচার বিভাগ সেটি তদন্ত করছে।
এর আগে বিচার বিভাগ আবেদন করেছিল- ড্যান সুলিভান অল্প ব্যবধানে হেরে গেলে ফলাফলের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রক্রিয়া যেন আটকে রাখা হয়। তবে রোববার এক ফেডারেল বিচারক আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বিচার বিভাগের (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) নেতৃত্ব দেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি প্রেসিডেন্ট কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত। আর ফেডারেল জুডিশিয়ারির নেতৃত্ব দেন প্রধান বিচারপতি ও ফেডারেল বিচারকরা।
এখন পর্যন্ত দুই অঙ্গরাজ্যের বিরুদ্ধেই বিচার বিভাগের করা মামলা ফেডারেল আদালতে খারিজ হয়েছে। কিন্তু এসব মামলা ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরেছে। সেটি হলো- ভোট গণনা ও ফলাফল অনুমোদনের ওপর বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ করতে চাওয়ার আগ্রহ। তারা ইতোমধ্যে আলাস্কার মামলায় ফেডারেল আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।
সমালোচকদের আশঙ্কা, বিচার বিভাগের এমন পদক্ষেপ মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল নিয়ে সন্দেহ তৈরির প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদ নির্ধারিত হবে।
‘রুল অব ল প্রজেক্টের’ প্রতিষ্ঠাতা মার্ক ব্লুমবার্গ বলেন, ‘আগে যা নিষিদ্ধ ছিল, এখন সেই কাজে প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রশাসন বিচার বিভাগকে সুযোগ দিতে চাইছে বলে মনে হচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেছেন, বিচার বিভাগের পদক্ষেপ আইনসম্মত। ভোটের স্বচ্ছতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য। অপরদিকে বিভাগটির মুখপাত্র কিয়ার্স্টেন পেলস এক বিবৃতিতে বলেছেন, বিচার বিভাগ কোনো নির্বাচনী প্রচার শিবিরকে সহায়তা করছে না। তারা আইন প্রয়োগ করছে।
প্রতারণার ভিত্তিহীন অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যগুলোর। তবে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিযোগ, ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যগুলো অনাগরিকদের ভোট দেওয়া ঠেকাতে যথেষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
ট্রাম্প এখনো দাবি করেন, ২০২০ সালের নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির কারণেই তিনি হেরেছিলেন। তবে স্বাধীন গবেষণা ও অঙ্গরাজ্যগুলোর নিরীক্ষায় দেখা গেছে, ভোটার জালিয়াতির ঘটনা বিরল।
২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়কে চ্যালেঞ্জ করে তাঁর সমর্থক সংগঠনগুলো ৬০টির বেশি মামলা করেছিল। সবগুলোই ব্যর্থ হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের হয়ে আদালতে প্রতিনিধিত্ব করা ইলাইয়াস ল গ্রুপের ভোটাধিকার বিষয়ক আইনজীবী লিস ফ্রস্ট বলেন, এ বছর ট্রাম্পপন্থি সংগঠনগুলোকে আর মামলার কাজ করতে হবে না। কারণ, খোদ বিচার বিভাগই এ কাজ করতে আগ্রহী।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে এতদিন বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল অধিকার নিশ্চিত করা সংক্রান্ত। অর্থাৎ, জাতিগত সংখ্যালঘু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মানুষ যাতে বাধাহীনভাবে ভোট দিতে পারে তা নিশ্চিত করা। কিন্তু ট্রাম্পের মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচন ভিন্ন কিছুর সাক্ষী হচ্ছে।