ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার দাবি মৌচাক মার্কেটের ব্যবসায়ীদের

রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার দাবি মৌচাক মার্কেটের ব্যবসায়ীদের
×
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ২১:২১

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে গিয়ে বিক্রি কমে আর্থিক সংকটে পড়েছেন রাজধানীর মৌচাক মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। এ পরিস্থিতিতে দোকান খোলা রাখার সময় বাড়িয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে দোকান খোলা ও বন্ধের সময় নির্ধারণে বাধ্যবাধকতা তুলে নিয়ে ব্যবসায়ীদের নিজেদের সুবিধামতো সময় নির্ধারণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

গতকাল সোমবার মৌচাক মার্কেট বণিক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, দোকান খোলা রাখার সময়সীমা কমিয়ে দেওয়া এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যবসায়ীদের বিক্রি কমেছে। ইতোমধ্যে তিনটি মার্কেট বন্ধ হয়ে গেছে। অন্য মার্কেটগুলোও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

তিনি বলেন, শপিং মলগুলোতে বিক্রি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ দোকান খোলার সময়সীমা কমিয়ে আনা। বিক্রির সবচেয়ে ব্যস্ত সময়েই মার্কেট বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। দোকান খোলা রাখার সময় অন্তত আরও এক ঘণ্টা বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে না দিয়ে ব্যবসায়ীদের নিজেদের সুবিধামতো দোকান খোলা ও বন্ধের সুযোগ দেওয়া উচিত। এতে ক্রেতারা কেনাকাটার জন্য বেশি সময় পাবেন এবং মার্কেটগুলো ক্রেতাশূন্য হয়ে বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মৌচাক মার্কেট বণিক সমিতির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে মৌচাক মার্কেটকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে আদালতের শর্ত ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নির্দেশনা অনুসরণ করে দেশের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় মার্কেটটির সংস্কারকাজ শুরু করেন দোকান মালিকরা। বর্তমানে মার্কেটটি নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে এবং সংস্কারকাজের প্রায় ৬০ শতাংশ শেষ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের নিয়মিত ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে প্রান্তিক পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মার্কেটের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এটি বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না। কোনো মার্কেট যাতে দখল হয়ে না যায়, সে বিষয়েও সরকারের নজর দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি চাঁদাবাজি বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকার বাজারগুলোতে কেনাকাটার প্রধান সময় বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা। কিন্তু রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ করার বাধ্যবাধকতা থাকায় ক্রেতারা পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন না। এতে অনেক ক্রেতা অনলাইনে কেনাকাটার দিকে ঝুঁকছেন।

ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, দোকান খোলা রাখার সময় কমে যাওয়ায় আয় কমলেও দোকানভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, সরকারি কর ও বিদ্যুৎ বিলসহ নিয়মিত ব্যয় কমছে না। ফলে এসব ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। অনেকে ব্যাংকঋণ নিয়ে কিংবা চড়া সুদে ধার করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তাঁরা জানান, রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখবেন ব্যবসায়ীরা। এ জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত আকারে বাতি ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ব্যবহার করবেন তাঁরা।

আরও পড়ুন

×