দেরাদুনে শেষ হলো ছয় দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সংস্কৃতি উৎসব
ছবি-সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ২২:২৯
ভারতের উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনের থানো গ্রামের ‘লেখক গ্রাম’-এ শেষ হয়েছে ছয় দিনব্যাপী তৃতীয় আন্তর্জাতিক সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিল্প উৎসব-২০২৬। গত ২৫ থেকে ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বিশ্বের ৬০টির বেশি দেশের তিন শতাধিক লেখক, কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পী অংশ নেন।
ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ও উত্তরাখণ্ডের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ড. রমেশ পোখরিয়াল ‘নিশঙ্ক’-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘লেখক গ্রাম’-এ হিমালয়ের পাদদেশের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। আঞ্চলিক ভাষার সংরক্ষণ ও প্রসার এবং বিশ্বমঞ্চে সাহিত্য ও সংস্কৃতির আদান-প্রদান জোরদার করাই ছিল আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
গত ২৫ অক্টোবর উৎসবের উদ্বোধন করেন উত্তরাখণ্ডের রাজ্যপাল ড. ঢাল সিং বিসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মরিশাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট পৃথ্বীরাজ সিং রূপন, উৎসবের প্রতিষ্ঠাতা ড. রমেশ পোখরিয়াল ‘নিশঙ্ক’, উত্তরাখণ্ডের পর্যটন ও সংস্কৃতিমন্ত্রী সাতপাল মহারাজ এবং যোগগুরু স্বামী রামদেব।
আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন সার্ক জার্নালিস্ট ফোরামের (এসজেএফ) কয়েকজন প্রতিনিধিও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সংগঠনটির সেন্ট্রাল সেক্রেটারি জেনারেল মো. আবদুর রহমান, ইন্ডিয়া চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট ড. অনিরুদ্ধ সুধাংশু কুমার, বিহার চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট ড. শশী ভূষণ কুমার এবং বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের উপদেষ্টা মোস্তাক আহমেদ মোবারকী।
উৎসবে সার্ক জার্নালিস্ট ফোরামের সদস্যদের সম্মাননা দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের উপদেষ্টা মোস্তাক আহমেদ মোবারকী।
ছয় দিনের এ আয়োজনে সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতিবিষয়ক ৩২টি বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি ছিল বইমেলা এবং স্থানীয় পাহাড়ি ভাষা ও লোকসংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা। প্রতিদিন সন্ধ্যায় আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।
উৎসবের অধিকাংশ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ‘লেখক গ্রাম’-এর পরিচালক বিদুষী নিশঙ্ক। তিনি ড. রমেশ পোখরিয়াল ‘নিশঙ্ক’-এর কনিষ্ঠ কন্যা।
এবারের উৎসবে শিল্প ও ইতিহাসে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও চিত্রশিল্পী পদ্মশ্রী ড. যশোধর মাঠপালকে ঐতিহ্যবাহী ‘সৃজন সম্মান’ প্রদান করা হয়।
দেশ-বিদেশের তিন শতাধিক লেখক, কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এ উৎসব আন্তর্জাতিক সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিল্পের আদান-প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।