ইন্ডিয়া জোটের পাল্টা পথে নামল বিজেপি
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ২২:২৪
দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের প্রতিবাদ সমাবেশের পাল্টা হিসেবে দেশজুড়ে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ স্লোগান তুলে প্রতিবাদ ও কর্মসূচি নিয়ে সমাবেশ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। হায়দরাবাদে দেশের গণতন্ত্র বাঁচাও আন্দোলনে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কলকাতায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন ও শুভেন্দু অধিকারীরাও যোগ দেন।
সোমবার হায়দরাবাদে পৌঁছান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রোড শো করার পর সমাবেশে ভাষণ দেন তিনি। সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফের অনুপ্রবেশকারী বিষয় নিয়ে ইন্ডিয়া জোটের নেতা রাহুল গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন তিনি।
রাহুলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কটাক্ষ করে শাহ বলেন, রাহুল গান্ধী কখনোই প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। বছরে মাত্র তিন-চার মাস ভারতে থেকে, তারপর বিদেশে চলে গেলে নির্বাচনে জেতার আশা করা যায় না। রাহুলের উচিত আরও বেশি সময় দেশে থাকা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং তাদের সমস্যার সমাধানে কাজ করা। একই সঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করায় কংগ্রেসের সমালোচনা করেন তিনি। অমিত শাহর অভিযোগ, অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাংক রক্ষা করতেই কংগ্রেস এসআইআরের বিরোধিতা করছে।
একইভাবে কলকাতায় কলেজ স্ট্রিট থেকে গণতন্ত্র বাঁচাও স্লোগান দিয়ে পদযাত্রা শুরু করেন বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। জাতীয় পতাকা কাঁধে নিয়ে তারা প্রায় চার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ধর্মতলায় গিয়ে পদযাত্রা শেষ করেন।
এদিকে ভারতের লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুলকে পাশের দেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। রাহুলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, অসমে আসুন, আপনাকে ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেব। অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কংগ্রেস ও রাহুলকে আক্রমণ করতে গিয়ে এমন বিতর্কিত মন্তব্য করেন হিমন্ত।
রোববার হিমাচল প্রদেশের শিমলায় বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও ও নৈরাজ্য দূর করো’ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের সমাবেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে রাহুলের কড়া বক্তব্যের পরই পাল্টা আক্রমণে নামেন হিমন্ত।
কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কটাক্ষ করেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কংগ্রেস আর কখনও ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। হিমন্ত বলেন, ভারতে সরকার পরিবর্তন হয় জনগণের ভোটে। ভোটাররা ইলেকট্রনিক ভোটযন্ত্রের মাধ্যমে সরকার বদল করেন। কংগ্রেস শুধু ইলেকট্রনিক ভোটযন্ত্রেই নয়, ব্যালট পেপারেও পরাজিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা পরিষদের সদস্য নির্বাচনের প্রসঙ্গও টানেন হিমন্ত।
- বিষয় :
- বিজেপি