ঢাকায় আট অঞ্চলে চলবে ৮ রঙের ই-রিকশা
ছবি: ফাইল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ১২:৩৬
দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ। আগ্রহীরা সিটি করপোরেশন থেকে ই-রিকশার নিবন্ধন করতে পারবেন। একজনের নামে সর্বোচ্চ পাঁচটি রিকশার নিবন্ধন করানো যাবে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকা আটটি ভাগ করে আট রঙের ই-রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হবে।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রণীত ‘তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা ২০২৬’ নিয়ে গতকাল রোববার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব কথা জানান। তিনি বিধিমালার সারসংক্ষেপ গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তুলে ধরেন।
বিধিমালায় বলা হয়েছে, এসব রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ২৫ কিলোমিটার। যাত্রীধারণ ক্ষমতা হবে দুই থেকে চারজন। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো জায়গাগুলোতে সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ১৫ কিলোমিটার। প্রতিটি রিকশায় স্পিডোমিটার থাকতে হবে। সিটি করপোরশন, ট্রাফিক বিভাগ ও প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ই-রিকশা চালাতে হবে। রিকশা কোথায় কতগুলো চলবে, তা সিটি করপোরেশন ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা নির্ধারণ করে দেবেন। তবে প্রতিটি রিকশা বুয়েট নির্ধারিত মানদণ্ডে নির্মিত হতে হবে। প্রতিটি রিকশায় থাকতে হবে স্পিডোমিটার।
জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস চলাচলের সড়ক বা করিডোর এবং প্রশাসনের নিষিদ্ধ ঘোষণা করা সড়কে ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে না।
প্রতিটি রিকশায় কিউআর কোডযুক্ত নিবন্ধন নম্বর থাকবে। নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। একটি রিকশার আয়ুষ্কাল হবে ১২ বছর। দুজন যাত্রী বহনের প্রতিটি রিকশার নিবন্ধন ফি হবে আট হাজার টাকা। বার্ষিক নবায়ন ফি চার হাজার টাকা। চারজন যাত্রী বহনের একটি ই-রিকশার নিবন্ধন ফি হবে ১০ হাজার টাকা। প্রতি বছর নবায়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা। এ ছাড়া কিউআর কোডের জন্য সিটি করপোরেশন এক হাজার টাকা ফি নিতে পারবে। নির্দিষ্ট এলাকা (জোন) অনুযায়ী ই-রিকশার রং হবে ভিন্ন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে আটটি ভাগ করে আট রঙের ই-রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হবে। এক জোনের রিকশা অন্য জোনে চলতে পারবে না। চার্জিং স্টেশনগুলোতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রাথমিকভাবে ই-রিকশার চালকদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। তবে তা ড্রাইভিং লাইসেন্স নয়। নিবন্ধন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পর পর্যায়ক্রমে তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।
মীর শাহে আলম বলেন, নিবন্ধন কাজ শুরু হচ্ছে। তবে বর্তমানে যেসব রিকশাচালক আছেন, তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তারা পর্যায়ক্রমে বুয়েটের মানদণ্ড মেনে তাদের রিকশাগুলোকে পরিবর্তন করে নেবেন। এভাবে রাস্তা থেকে বিদ্যমান রিকশাগুলোকে ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া হবে। চালকদের সে সুযোগ দেওয়া হবে। তা না হলে এই সুযোগ নিয়ে কোনো গোষ্ঠী অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে।
মীর শাহে আলম ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের বরাত দিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের ৭০০টি ব্যাটারিচালিত রিকশা থাকার কথা উল্লেখ করেন। প্রতিমন্ত্রী রসিকতা করে বলেন, তবে তিনিও পাঁচটি রিকশার মালিক হতে পারবেন। তাঁর হতাশ হওয়ার কিছু নেই।
- বিষয় :
- সিটি করপোরেশন