ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে ট্রাক্টর চালালেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা, অস্থায়ী স্থাপনা ভাঙচুর

পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে ট্রাক্টর চালালেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা, অস্থায়ী স্থাপনা ভাঙচুর
×
×

বাণিজ্য মেলার মাঠে অবশিষ্ট স্থাপনা ভেঙে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: সমকাল

শেকৃবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ১৫:১৩

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার অবশিষ্ট স্থাপনা ভেঙে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খামার থেকে দুটি ট্রাক্টর নিয়ে মাঠে গিয়ে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। 

সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা স্ট্যান্ডের সামনে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে দুটি ট্রাক্টরসহ পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে যান। সেখানে মেলার অবশিষ্ট স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলার পর ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো গবেষণার মাঠ হিসেবে পরিচিত জায়গাটিতে সচিবালয় স্থাপনের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে এর আগে এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা বন্ধের সময়সীমা বেঁধে দেন তারা। নির্ধারিত সময়ে মেলা বন্ধ না হওয়ায় মাঠের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে মন্ত্রণালয় থেকে মেলা বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হলেও মাঠ থেকে অবশিষ্ট স্থাপনা সরানো হয়নি। এর প্রতিবাদে সেগুলো অপসারণ করে মাঠে চাষের কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী রাফিউর রহমান রুহান বলেন, এই মাঠ শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, বরং পুরো এলাকার জন্য একটি ফুসফুস। ঐতিহাসিক এই গবেষণার মাঠে সচিবালয় স্থাপন করা হলে পুরো এলাকার জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে। মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে সবুজায়ন করা হলে পুরো অঞ্চল রক্ষা পাবে।

মেলার একটি স্টলের কর্মচারী রিফাত রহমান বলেন, মেলা বন্ধের ঘোষণা আসার পর আমরা মালামাল নিয়ে চলে যেতে চাইলেও মেলা কমিটির পক্ষ থেকে আমাদের বাধা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মেলা স্থগিতের সরকারি সিদ্ধান্তের পর এক দিনের মধ্যে মাঠের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল আয়োজক কমিটি। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। বরং স্থাপনা সরানোর উদ্যোগ না নিয়ে আয়োজকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এলাকার ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমঝোতার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছি।

আরও পড়ুন

×