সেই সু চি লড়বেন গণহত্যার পক্ষে
অং সান সু চি (ফাইল ছবি)
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০২:১৪ | আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১১:০৪
গৃহবন্দি ছিলেন ১৫ বছর। দেখা করতে পারেননি স্বামী ও সন্তানদের সঙ্গেও। বছরের পর বছর নিজ দেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করেছেন মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি।
শান্তিপূর্ণ পথে জাতিগত বিভেদ নিষ্পত্তির চেষ্টা করে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার নোবেল পান ১৯৯১ সালে।
তাকে সেনাশাসন থেকে মুক্তির প্রতীক হিসেবেই দেখত মিয়ানমারের সাধারণ জনগণ। ২০১৫ সালের নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয় পায় তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি।
অহিংস পথে লড়ে যাওয়ার জন্য যে সু চি শান্তিতে নোবেল পেয়েছিলেন, সেই তিনিই এখন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের ঘৃণার পাত্র হয়েছেন। এক সময়ে যিনি সেনাশাসনের বিরুদ্ধে লড়েছেন এখন তিনিই সামরিক বাহিনীর গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
রোহিঙ্গা গণহত্যা ও নির্যাতনের কারণে অভিযুক্ত সামরিক বাহিনীর পক্ষে সাফাই গাইতে এখন তিনি নেদারল্যান্ডসে।
হেগের আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের গণহত্যা নিয়ে অভিযোগের প্রথম শুনানি হবে মঙ্গলবার। শুনানি চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। এতে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন সু চি।
রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতাকে 'গণহত্যা' আখ্যা দিয়ে গত ১১ নভেম্বর জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত আইসিজেতে মামলা করে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।
মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর জোট ওআইসির সমর্থনে গাম্বিয়ার ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ এবং তাদের আবাসন ধ্বংস করেছে মিয়ানমার।
শুনানিতে উপস্থিত থাকছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মাসুদ বিন মোমেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। প্রয়োজনে বাদীপক্ষকে সহায়তা দেবেন তারা।
শুনানিতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অব্যাহত গণহত্যা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আদালতের প্রতি আহ্বান জানাবে গাম্বিয়া। শুনানি শুরুর আগের দিন গাম্বিয়ার উদ্যোগকে সমর্থন দিয়েছে কানাডা এবং নেদারল্যান্ডস।
সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে দেশ দুটি বলেছে, জবাবদিহি নিশ্চিত এবং দায়মুক্তি রোধ করতে তারা গাম্বিয়াকে সর্বতোভাবে সহায়তা করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব ছিল রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দেওয়া। অথচ নিরাপত্তা বাহিনীই হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে।
জানা গেছে, তৎপরতার অংশ হিসেবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত বব রে ইতোমধ্যে হেগে পৌঁছেছেন।
প্রথম দিনই শুনানি শুরু করবেন গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী আবুবকর ম্যারি তাম্বাদু। কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দেখে যাওয়ার পর তিনি মামলা করেছেন। শুনানি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
বৃহস্পতিবার শুনানি শেষ হলেও রায় অপেক্ষমাণ রাখা হতে পারে।
হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও (আইসিসি) রোহিঙ্গাদের গণহত্যা নিয়ে আরেকটি মামলা চলছে। আদালত এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ছাড়া আর্জেন্টিনার একটি আদালতেও রোহিঙ্গা গণহত্যায় সু চির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন রোহিঙ্গা নিধনের ঘটনায় খুঁজে পেয়েছে গণহত্যার আলামত। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।
সু চি'ও রোহিঙ্গাদের পক্ষে ইতিবাচক ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হন। বরং বরাবরই গণহত্যাকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন তিনি। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতেও কোনো উদ্যোগ নেননি সু চি। দেশটির সেনাবাহিনীর মতো মিয়ানমার নেত্রী সু চি'ও 'রোহিঙ্গা' শব্দটি ব্যবহার করেন না।
- বিষয় :
- অং সান সু চি
- মিয়ানমার
- সেনাবাহিনী
- আইসিজে