পদাবলি
×
--
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২০ | ১২:০০
জন্মদিনের এপিটাফ
নির্মলেন্দু গুণ
বায়ুর ভিতর থেকে গ্রহণ করেছি আয়ু।
জানি, একদিন বায়ুতেই যাবো মিশে।
আমাকে তখন যদি দরকার হয় কারও,
আজকের মতো সহজে পাবে না খুঁজে।
চৈত্রের ঝড় হয়ে লুটিয়ে পড়বো আমি
বৃক্ষপত্রে, ধু-ধু মাঠে, মৃত মঠের গম্বুজে।
বায়ুর ভিতর থেকে গ্রহণ করেছি আয়ু
জানি, একদিন বায়ুতেই যাবো মিশে।
তখন আমাকে যদি খোঁজ, যদি খোঁজ-
শুভ্র অশ্রুবিন্দুবৎ তখন আমাকে পাবে
কম্পমান পদ্মের পাতায়, ঘাস-শিষে।
মধুর ভিতর থেকে গ্রহণ করেছি আয়ু;
একদিন মৃত্যু হয়ে মিশে যাবো বিষে।
মানসিক হাসপাতালে
মারুফ রায়হান
অন্তত একবার ঘুরে আসুন ওই প্রাচীরঘেরা স্বর্গ
খাদে ভরা অলঙ্করের মতো চূর্ণ হবে আত্মঅহঙ্কার
ওখানেই আছে সাচ্চা মানুষ, সুন্দর, কিছুটা অভিমানী
প্রকৃত মানুষ বলেই ওরা এই অ্যাবসার্ড পৃথিবীতে
আঘাতে মুষড়ে পড়েছে, বিটপির মতো দুমড়ে গেছে
সৎ ও সুস্থের এই নিভৃত নিবাসে এলে বুঝবেন
ব্যাধিগ্রস্ত মানুষই টিকিয়ে রেখেছে এই শকুনসমাজ
যদিও তাদের দাবি তারা সভ্য, বিবেচক, সুশীল
নিক্তিতে মাপা তাদের হাসি, ক্রোধও কৃত্রিম- ভক্তি নেই
ভালোবাসায়, যদিও কেনে ভ্যালেন্টাইন গোলাপ
যারা আছে এখানে ওষুধের শাসনে বিহ্বল প্রজাপতি
তাদের এত হিসেব নেই, কাউকে নিকেশের দায় নেই
সামাজিক মানুষের মতো খাপ-খাওয়া ভদ্রবেশ
মুখোশ পরে সুআচরণ, দস্তানায় বিদ্বেষ ঢেকে
করমর্দন, আলিঙ্গনকালে বন্ধুর মৃত্যুকামনা
-এইসব হিপোক্রেসি থেকে তারা মুক্তি নিয়েছে
আমি তাই ঈর্ষা করি এই অমলধবল বয়স্ক শিশুদের
ওদের সান্নিধ্যে এসে জেনে যাই মানুষ নামের অভিধান
মানসিক হাসপাতাল আজ হয়ে উঠছে পরম জাদুঘর
বিশুদ্ধ আবেগ নিয়ে যেখানে আছে শুধু স্বচ্ছ মানুষ
বিরল হতে থাকা প্রকৃতিসম্মত প্রজাতির অপূর্ব প্রতিনিধি
যাত্রা অশুভ
চাঁদনী মাহরুবা
রাশিফলের ভেতর ঝরছে অজস্র যাত্রাপথ।
নিরেট রাস্তায় সাইসাই করে ছুটছে অশুভচিহ্ন।
বাড়ি ফেরার কাছে উবে গেছে আয়ুরেখা।
একধারে বরফের মতো জমাট রক্ত
পোড়া হাড়মাংস আর মবিলের ঘ্রাণ উপেক্ষা করে
চলে যাচ্ছে বাস, ট্রাম অথবা সময়কাল...
হে মহামতি, এবার তবে যাত্রাবিরতি নিন।
আপনি কি জানেন পা হারাবার দুঃখ কেমন?
আমি আমার একজোড়া জুতো কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না।
নির্মলেন্দু গুণ
বায়ুর ভিতর থেকে গ্রহণ করেছি আয়ু।
জানি, একদিন বায়ুতেই যাবো মিশে।
আমাকে তখন যদি দরকার হয় কারও,
আজকের মতো সহজে পাবে না খুঁজে।
চৈত্রের ঝড় হয়ে লুটিয়ে পড়বো আমি
বৃক্ষপত্রে, ধু-ধু মাঠে, মৃত মঠের গম্বুজে।
বায়ুর ভিতর থেকে গ্রহণ করেছি আয়ু
জানি, একদিন বায়ুতেই যাবো মিশে।
তখন আমাকে যদি খোঁজ, যদি খোঁজ-
শুভ্র অশ্রুবিন্দুবৎ তখন আমাকে পাবে
কম্পমান পদ্মের পাতায়, ঘাস-শিষে।
মধুর ভিতর থেকে গ্রহণ করেছি আয়ু;
একদিন মৃত্যু হয়ে মিশে যাবো বিষে।
মানসিক হাসপাতালে
মারুফ রায়হান
অন্তত একবার ঘুরে আসুন ওই প্রাচীরঘেরা স্বর্গ
খাদে ভরা অলঙ্করের মতো চূর্ণ হবে আত্মঅহঙ্কার
ওখানেই আছে সাচ্চা মানুষ, সুন্দর, কিছুটা অভিমানী
প্রকৃত মানুষ বলেই ওরা এই অ্যাবসার্ড পৃথিবীতে
আঘাতে মুষড়ে পড়েছে, বিটপির মতো দুমড়ে গেছে
সৎ ও সুস্থের এই নিভৃত নিবাসে এলে বুঝবেন
ব্যাধিগ্রস্ত মানুষই টিকিয়ে রেখেছে এই শকুনসমাজ
যদিও তাদের দাবি তারা সভ্য, বিবেচক, সুশীল
নিক্তিতে মাপা তাদের হাসি, ক্রোধও কৃত্রিম- ভক্তি নেই
ভালোবাসায়, যদিও কেনে ভ্যালেন্টাইন গোলাপ
যারা আছে এখানে ওষুধের শাসনে বিহ্বল প্রজাপতি
তাদের এত হিসেব নেই, কাউকে নিকেশের দায় নেই
সামাজিক মানুষের মতো খাপ-খাওয়া ভদ্রবেশ
মুখোশ পরে সুআচরণ, দস্তানায় বিদ্বেষ ঢেকে
করমর্দন, আলিঙ্গনকালে বন্ধুর মৃত্যুকামনা
-এইসব হিপোক্রেসি থেকে তারা মুক্তি নিয়েছে
আমি তাই ঈর্ষা করি এই অমলধবল বয়স্ক শিশুদের
ওদের সান্নিধ্যে এসে জেনে যাই মানুষ নামের অভিধান
মানসিক হাসপাতাল আজ হয়ে উঠছে পরম জাদুঘর
বিশুদ্ধ আবেগ নিয়ে যেখানে আছে শুধু স্বচ্ছ মানুষ
বিরল হতে থাকা প্রকৃতিসম্মত প্রজাতির অপূর্ব প্রতিনিধি
যাত্রা অশুভ
চাঁদনী মাহরুবা
রাশিফলের ভেতর ঝরছে অজস্র যাত্রাপথ।
নিরেট রাস্তায় সাইসাই করে ছুটছে অশুভচিহ্ন।
বাড়ি ফেরার কাছে উবে গেছে আয়ুরেখা।
একধারে বরফের মতো জমাট রক্ত
পোড়া হাড়মাংস আর মবিলের ঘ্রাণ উপেক্ষা করে
চলে যাচ্ছে বাস, ট্রাম অথবা সময়কাল...
হে মহামতি, এবার তবে যাত্রাবিরতি নিন।
আপনি কি জানেন পা হারাবার দুঃখ কেমন?
আমি আমার একজোড়া জুতো কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না।
- বিষয় :
- পদাবলি