পদাবলি
অলংকরণ :: তন্ময় শেখ
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
বকুলকে ভাবতে সুযোগ দাও
ইরাজ আহমেদ
চলে যেতে চাও আবার শীত আসার আগে অন্য কোনো শহরে?
বকুল তোমাকে একা জানে;
এই ঘরদোর, বড় বড় সেতু থেকে লাফিয়ে পড়ার আগে
তাকে ভাবতে সুযোগ দাও তুমি কবি ছিলে।
তাকে বলো, এই অচেনা শহরে তোমার আর কোনো স্মৃতি নেই
সব প্রমাণ নষ্ট হয়েছে থানার ইন্টারোগেশন রুমে;
চোখ গেছে,
পালক খসেছে,
কবিতা লেখার খাতাও নিয়ে গেছে অভিমান এসে।
চলে যেতে চাও আবার শীত আসার আগে অন্য কোনো শহরে?
সেখানে তোমাকে আর কে কে জানে বকুলের মতো করে,
কাদের শরীর থেকে পাতা ঝরে পড়ে বকুলের মতো?
মুখ ভর্তি দাড়ি
তোমার ক্ষুধা পায় না?
শরীরে নুনের দাগ,
মাছেদের অভিনীত অসংখ্য সিকোয়েন্স;
তুমি আজও ভাবতে ভালোবাস।
অন্য কোনো শহরে বকুলের মতো কে তোমাকে ভাত মেখে দেবে?
বকুলকে ভাবতে সুযোগ দাও তুমি কবে কোনো এক কালে কবি ছিলে।
আমি চলে গেলে
জাকির জাফরান
আমি চলে গেলে
তুমি ফোন করে আমাকে পাবে না।
পৃথিবীতে তখনও করবী গাছ বেঁচে থাকবে,
কদম ফুল ঝরে ভেসে থাকবে পুকুরে।
কদম পচা গন্ধের ভেতর দিয়ে
একটি বিড়াল আসবে যাবে–
কিন্তু কেউ তাকে দেখবে না।
কেউ কোনোদিন জানবেও না
এক দীর্ঘ অপেক্ষার রং ফিকে হতে হতে
শেষমেশ মাটিতেই মিশে যাবে।
আমি চলে যাব–
কিন্তু আমার হৃদয় শুকনো পাতা হয়ে
পড়ে থাকবে পথে,
সেই পথ দিয়ে হেঁটে যাবে মানুষ
মচমচে আওয়াজ হবে খুব
আহা কী হৃদয়গ্রাহী মর্মরিত ধ্বনি!
সেই ধ্বনির ভেতর দিয়ে হেঁটে হেঁটে
তুমি ফোন দেবে আমাকে, কিন্তু পাবে না।
আর এক গিরগিটি প্রচণ্ড ছলনা বুকে নিয়ে
আরেক গিরগিটিকে বলবে– ভালোবাসি তোমাকে।
দুর্জ্ঞেয়
জিল্লুর রহমান শুভ্র
কী দারুণ! তোমার ব্লাউজের বোতাম খোলা
তবুও সহজে দিতে পারি না হাত
দূর নক্ষত্র থেকে ছুটে আসা আগুনের গোলা
ষোলোকলা চিনিয়েছে তোমার জাত।
কত অজানার গভীর ঘুম বুকে নিয়ে জেগে আছ
ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সির রহস্যময় দেবী
তর্জনী উঁচিয়ে কড়া ভাষায় হুকুম করো--নাচো!
নাচে গ্র্যাভিতির আস্তাবলে আমাদের এই পৃথিবী।
একদা ডাইমেট্রোডন অভিশপ্ত রক্ত খেয়েছিল চেটে
ঝাড়বংশে নিপাত গেছে হয়তো তাদেরই ভুলে!
গ্রন্থিকগণ লেখে কালান্তক বিবরণ পাঁজিপুঁথি ঘেঁটে
'গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ অমানুষী সাপ নির্মোক খুলে’।
জমছে অবহেলা
শোয়েব সর্বনাম
যাপন জুড়ে জমছে অবহেলা
ঝড়ের পরে নামবে সন্ধ্যাবেলা
বাতাস পরিষ্কার
ক্লান্ত শরীর ক্লান্ত আজ আবহাওয়া
অবশ হয়ে তোমার কাছে যাওয়া
হচ্ছেনা তো আর
আমরা দুজন একটু সাধারণ
জলের মধ্যে জলজ ফুলের বন
ভাসিয়ে দিলে যে
তার গহিনে একটা সবুজ ঘাস
টের পাচ্ছে তোমার গভীর শ্বাস
শুনছে তোমাকে
পথচারী পারাপার
অলভী সরকার
কেন এ সমৃদ্ধ শহরের প্রলোভন ফেলে উপকণ্ঠে
এসে দাঁড়িয়েছি?
কখনও কি জানে মানুষেরা, শাল্মলী বীজের অঙ্কুরিত
প্রশ্নের উত্তর?
আমরা নিখোঁজ হলে তামাম নগর চষে না বেড়িয়ে
এইখানে এসো।
পালকের প্রার্থনায় অযথা বাড়িয়ে তুলি সারি সারি
সভ্যতার সিঁড়ি!
ধাপে ধাপে পার হয়ে এসো মায়া-মদিরতা-মুদ্রাদোষ,
হে বিরলপ্রজ,
থেমে গেছে সহস্র প্রকট প্রলাপ। কেবল নিঃশব্দ
মহাপারাবার!
তুমি এসে না দাঁড়ালে আমৃত্যু অজানা হতো অশরীরী
আকুল উত্থান!
তুমি এসে না দাঁড়ালে, দেদীপ্যমান সুরেলা সংগীত−
নিছক বচন!
আমাদের যৌথ জলজ আখ্যান, সিঁড়িতে হয়েছে শুরু,
সিঁড়িতেই শেষ;
দুর্গেশ-দম্ভের পাশে, নীরবতা ঘন হয়ে আসে। পথ−
শেষ হলো না তো!
- বিষয় :
- কবিতা