ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সাতক্ষীরায় শামীম হত্যা

প্রধান আসামি আমিনী কারাগারে, জামায়াত নেতার গ্রেপ্তার দাবি

প্রধান আসামি আমিনী কারাগারে, জামায়াত নেতার গ্রেপ্তার দাবি
×
×

ফজলুল হক আমিনী

 সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৪৩

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গতকাল রোববার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শামীমের স্বজনরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় জামায়াত নেতাসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্বজনদের অভিযোগ, দেবহাটায় শামীমের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত মঙ্গলবার ফেসবুকে লাইভ করে লোকজন জড়ো করেন আমিনী। শামীমকে দুই দফায় পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় নেতৃত্ব দেন তিনি। গ্রেপ্তার এড়াতে নতুন সিম ও ফোন ব্যবহার করছিলেন। গত শনিবার রাত ১১টার দিকে পার্শ্ববর্তী কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ফেসবুক লাইভে লোকজন জড়ো করার অভিযোগ

ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত মঙ্গলবার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা আমিনী তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দুই দফা লাইভ করেন। প্রথম লাইভে শামীম ও তাঁর স্ত্রীর কথোপকথনের একটি অডিও প্রচার করে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলেন। শামীমের বাড়ির ঠিকানা প্রকাশ করেন এবং তাঁর শাস্তি দাবি করেন।

একই দিন বিকেলে স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসকের চেম্বারের সামনে দ্বিতীয়বার লাইভ করেন আমিনী। সেখানে তখন চিকিৎসাধীন ছিলেন শামীম। লাইভে তিনি লোকজনকে চেম্বারের সামনে আসার আহ্বান জানান। পরে সেখানে কয়েকশ মানুষ জড়ো হন। এক পর্যায়ে শামীমকে চেম্বার থেকে বের করে গণপিটুনি দেওয়া হয়। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শামীম মাটিতে পড়ে আছেন। কয়েকজনকে তাঁর বুকের ওপর পা দিয়ে আঘাত করতেও দেখা যায়। এ সময় একজন হেলমেট পরা ছিলেন। শামীমের শাস্তির দাবিতে দেবহাটা উপজেলা সদরে একটি মিছিল হয়। সেই মিছিলের সামনেও আমিনীকে দেখা গেছে।

মঙ্গলবার রাতে শামীমের মৃত্যুর পর আমিনী ফেসবুকে দুটি পোস্ট দেন। এসব পোস্ট, লাইভ ও ভিডিওতে আমিনীর ভূমিকা নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

হাসপাতালে হামলা, মৃত্যু

শামীমের স্বজনদের দাবি, তাঁর ও স্ত্রীর কথোপকথনের একটি অডিও গত সোমবার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিওতে ধর্ম অবমাননাকর বক্তব্য রয়েছে– এমন অভিযোগ এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। শামীমের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয় সুবর্ণাবাদ বাজারে তাঁকে মারধর করা হয়। বাড়িতে ফিরে তিনি বিষপান করেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। এরপর তাঁকে পল্লিচিকিৎসকের চেম্বারে নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামীমকে ওই চেম্বার থেকে বের করে এনে বেধড়ক পেটানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানেও শতাধিক লোক ওয়ার্ডে ঢুকে তাঁকে মারধর করে। পরে তাঁকে হাসপাতালের বাইরে এনে পেটায়। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে শামীমের মৃত্যু হয়।

মামলায় ১০ জনের নাম, অজ্ঞাতনামা ২০০-২৫০ 

শামীমের বড় ভাই আবদুল জলিল বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আমিনীকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার ভোরে মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচ ও ছয় নম্বর আসামি মোক্তার হোসেন খান ও আসাদুল ইসলাম মোল্যাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

শামীমের ছোট ভাই তাওসিফ রহমান জানান, প্রধান আসামি গ্রেপ্তারের খবরে তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। তিনি ভাইয়ের হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি আরও জানান, শামীম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। তাদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

মামলার অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তাওসিফ বলেন, দুই ও তিন নম্বর আসামি কামরুল গাজী ও সাদিকুলকে গ্রেপ্তার করা হলে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কারা মূল ভূমিকা পালন করেছে, সে বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাঁর দাবি, কামরুল গাজী পুলিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। সাদিকুলের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন।

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচএম শাহীন বলেন, আমিনীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন

×