ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

যশোরের অভয়নগর

চিকিৎসক ও সরঞ্জাম সংকট, বন্ধের পথে পরিবার পরিকল্পনার ৮ কেন্দ্র

চিকিৎসক ও সরঞ্জাম সংকট, বন্ধের পথে পরিবার পরিকল্পনার ৮ কেন্দ্র
×
×

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা অভয়নগরের রাজঘাট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্র

নওয়াপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:০২

জনবল ও সরঞ্জামের সংকটে অভয়নগর উপজেলার আট ইউনিয়নের আটটি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র বন্ধের উপক্রম। কেন্দ্রগুলোতে এখন আর স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয় না। এতে গ্রামের সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের প্রসূতি নারী ও শিশুদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা পেতে তাদের দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা প্রাইভেট চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, সরকারি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকের এ অবস্থার কারণে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে গড়ে উঠেছে অননুমোদিত চিকিৎসাকেন্দ্র ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর ধরে অভয়নগরের পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলোতে ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা সহায়তা বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্রগুলোতে লোকবল নেই বললেই চলে। প্রসূতি মায়েদের প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরামর্শ, ডায়রিয়া ও জ্বরের মতো সাধারণ রোগের চিকিৎসা নিতেও অসুবিধা হচ্ছে। চিকিৎসক ও কর্মী সংকট পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। 
অভয়নগর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলোতে বর্তমানে কোনো চিকিৎসক নেই। উপজেলার আটটি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে এফডব্লিউবি আটটি পদের বিপরীতে ছয়টি পদই শূন্য রয়েছে। মাত্র দুজন এফডব্লিউবি দিয়ে আটটি ইউনিয়নের আটটি কেন্দ্রের চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসক, ওষুধসহ লজিস্টিক সাপোর্ট না থাকায় ভেঙে পড়েছে উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা।

স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার আটটি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন শতাধিক প্রসূতি নারীসহ হাজারেরও বেশি মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করে আসছিলেন। দীর্ঘদিন চিকিৎসাসেবা না থাকায় কেন্দ্রগুলো ভূতুড়ে অবস্থায় পরিণত হয়েছে। কোথাও কোথাও তা নেশাখোর ও বখাটেদের আড্ডার স্থানে পরিণত হয়েছে। 

গত শনিবার সরেজমিন উপজেলার একতারপুর গ্রামে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটক খোলা থাকলেও ভবনের গেটটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির মূল ভবন, আবাসিক কোয়ার্টারগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পানির মোটর ও মূল ভবনের ফ্যান চুরি হয়ে গেছে। রং করে চাকচিক্য ধরে রাখার চেষ্টা করা হলেও ভবনের অধিকাংশ স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।

 স্থানীয় বাসিন্দা মতিয়ার রহমান বলেন, এলাকার মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় স্থানীয় দরিদ্র মানুষের কিছুটা হলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটতে হয়।

 আব্দুস সামাদ শেখ বলেন, আগে এখানে একজন পুরুষ ও একজন নারী ডাক্তারসহ আরও লোকজন থাকতেন। এখান থেকে ওষুধও দেওয়া হতো। ক্লিনিকটি বন্ধ হওয়ায় আমাদের খুবই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ক্লিনিকটি চালু করার ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান তিনি। 

শুভরাড়া গ্রামের আকলিমা বেগম বলেন, ‘পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে চিকিৎসা বন্ধ থাকায় আমাদের ১৩ থেকে ১৪ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে যেতে হয়। প্রসূতি, বৃদ্ধ ও শিশুদের নিয়ে যেতে খুবই কষ্ট হয়। তাই অনেক সময় বাধ্য হয়ে পল্লিচিকিৎসকদের কাছে যেতে হয়।’

 সিদ্দিপাশা গ্রামের একলাস উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এলাকা থেকে উপজেলা হাসপাতাল প্রায় ২২ থেকে ২৩ মাইল। নদী পার হয়ে প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে পৌঁছাতে কঠিন হয়ে যায়। সেন্টারটি (পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র) চালু করা দরকার।’

অভয়নগর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, লজিস্টিক সাপোর্ট নেই, ওষুধ সরবরাহ বন্ধ এবং জনবল নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা যাচ্ছে না। আমরা বিষয়টি ওপর মহলে অনেকবার জানিয়েছি। আশা করি, দ্রুত সমাধান হবে। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলিমুর রাজীব বলেন, পরিবার পরিকল্পনাগুলো নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। দ্রুতই এ সংকট কেটে যাবে। 

আরও পড়ুন

×