ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

৫ কর্মদিবসে বিচার, স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

৫ কর্মদিবসে বিচার, স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড
×

পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় সাজা ঘোষণার পর মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া সোহেল রানা (বাঁয়ে) ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়। গতকাল রোববার সকালে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে তোলা। ছবি: সমকাল

 সমকাল ও আদালত প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ | ১১:৪৩

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের মেয়েশিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন গতকাল রোববার দুই আসামির উপস্থিতিতে জনাকীর্ণ আদালতে বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

পাশাপাশি সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ ও স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে এ টাকা আদায় করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দিতে বলা হয়েছে।
দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্য-জেরাসহ সব বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে। বিচার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের ইতিহাসে এত কম সময়ের মধ্যে এই বিচারিক প্রক্রিয়া একটি মাইলফলক।

গতকাল বেলা ১১টায় রায় পড়া শুরু করে ১১টা ৩৮ মিনিটে শেষ করেন বিচারক। আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না রায় শোনার পর কেঁদে ফেলেন। পরে তাদের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। রায় ঘিরে সকাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয় ঢাকার আদালত এলাকায়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আসামিদের প্রিজনভ্যানে করে কারাগার থেকে আদালতের হাজতখানায় হাজির করা হয়। এ সময় তাদের মাথায় হেলমেট, বুলেটগ্রুফ জ্যাকেট ও হাতকড়া পরানো ছিল। 

ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রায় কার্যকর করতে হবে

আদালত রায়ে বলেন, আসামিদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। তবে দণ্ড কার্যকরের আগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হবে। ট্রাইব্যুনাল মামলার নথি দ্রুত হাইকোর্টে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রায়ে বলা হয়, আসামিরা ইচ্ছা করলে এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন। 

আদালত আরও বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা এবং লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণে শিশুটিকে হত্যার নির্মমতা, বীভৎসতা ও নিষ্ঠুরতার প্রমাণ মিলেছে। এ ধরনের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন। তাই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো। 

‘শতভাগ খুশি হয়েছি, দ্রুত রায় কার্যকর চাই’

রায়ের পর শিশুটির বাবা সাংবাদিকদের বলেন, ‘রায়ে শতভাগ খুশি হয়েছি। আমার মনের আশা পূর্ণ হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব রায় কার্যকর চাই।’ তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রহমত ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত রায় পেয়েছি।’ 

শিশুটির বাবা আরও বলেন, ‘বিচারক, পুলিশ প্রশাসন, সাংবাদিক ও দেশের আপামর জনতা, যারা আমার ও আমার পরিবারের বিপদের সময়ে মানসিকভাবে সহায়তা করেছেন, সবার কাছে আমার কৃতজ্ঞতা। অবশ্যই আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর দেখতে চাই।’

উভয় পক্ষের আইনজীবী সন্তুষ্ট

রাষ্ট্রনিযুক্ত বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘শিশুটির বাবা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। আমরা সন্তুষ্ট।’

আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘ন্যায়বিচার পেয়েছি। অপরাধী অপরাধের বিচার পেয়েছেন। আসামি সোহেল রানা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। আদালতে ১৬৪ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে নিজে দোষ স্বীকার করেছিলেন।’ সাজার বিরুদ্ধে আপিল করবেন কি – এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্র যদি চায়, আপিল করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদ আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে 

পল্লবীর শিশু হত্যাকাণ্ডে আসামিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনায় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী শিশুটির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে এবং দোষী ব্যক্তিরা প্রচলিত আইন অনুযায়ী উপযুক্ত শাস্তি পাবে। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একই ধরনের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

রায় দ্রুত কার্যকরের পদক্ষেপ নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 

গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকরা তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ মামলার ডেথ রেফারেন্স দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকার সুপ্রিম কোর্টের নজরে বিষয়টি আনবে এবং অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হবে। ডেথ রেফারেন্স শুনানির পর যদি মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে, তাহলে কার্যকর করতে আর কোনো বিলম্ব হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, পল্লবীর শিশু হত্যা মামলাটি দেশের বিচারিক ইতিহাস ও পুলিশের তদন্ত কার্যক্রমে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। চাঞ্চল্যকর এ মামলায় দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও অভিযোগপত্র দাখিলের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই বিচার কার্যক্রমে সহায়তা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই হত্যা মামলাসহ সাম্প্রতিক কয়েকটি আলোচিত মামলার তদন্তে ভূমিকার জন্য পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার ঘোষণাও দেন তিনি।

তিন মাসের মধ্যে রায় কার্যকরের আশা আইনমন্ত্রীর 

রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এরপর আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল বিভাগের শুনানি শেষে তিন মাসের মধ্যে রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়। তিনি বলেন, ‘আমার প্রত্যাশা, আগামী তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা সম্ভব যদি সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ এটাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি করেন। আশা করি, সুপ্রিম কোর্ট করবেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এক সপ্তাহের মধ্যে যদি রায়ের ফাইলটা হাইকোর্টে আসে, তাহলে তার পরের সপ্তাহ থেকে এটাকে পেপার বুক তৈরি করতে দেওয়া হবে। পেপার বুক তৈরি যদি ১৫ দিনের মধ্যে শেষ করা যায়, তারপর যদি বিশেষ বিবেচনায় এটা শুনানি করা হয় এবং শুনানি যদি দুই সপ্তাহের মধ্যে করি, তারপর আপিল বিভাগে যাবে।’

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে এত কম সময়ের মধ্যে এই বিচারিক প্রক্রিয়াটা একটি মাইলফলক। এত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলার রায় ঘোষণা করা, সেটি আমার মনে হয় সময় বিবেচনায় সবচেয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যকার ঘটনা।’ 

রায় ঘিরে আদালতের দৃশ্যপট 

গতকাল সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এজলাসে তোলা হয়। পরে ১০টা ৫৫ মিনিটে আসামি স্বপ্না খাতুনকে হাজতখানা থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের পঞ্চম তলায় অবস্থিত ট্রাইব্যুনালের এজলাসে নেওয়া হয়। এ সময় ছিল বাড়তি নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমকর্মীদের সরব উপস্থিতি। বেলা ১১টায় বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় পড়া শুরু করেন। এ সময় এজলাস কক্ষ আইনজীবী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় ভরে যায়। পিনপতন নীরবতার মধ্যে রায় পড়ার শুরুতে মামলার ঘটনা, তদন্ত, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্য গ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি অপরাধের অভিযোগ, তদন্তে পাওয়া আলামত, ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে আদালত দোষ প্রমাণের বিষয়ে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

রায় ঘোষণার পুরো সময় প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কাঠগড়ার পাশে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অন্যদিকে, স্বপ্না আক্তার একটি টুলে বসে ছিলেন। ১১টা ৩৮ মিনিটে বিচারক আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে এজলাস ত্যাগ করেন। 

সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া

পল্লবীর শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে খণ্ডবিখণ্ড করার ঘটনা ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে। বহুল আলোচিত এ মামলার রায় শুনতে আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। 

রায় শুনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমরা চাই রাষ্ট্র এমন পদক্ষেপ নিক, যাতে করে আর কোনো মায়ের কোল খালি না হয়। আমি চাই এক সপ্তাহের মধ্যে হত্যাকারীদের রায় কার্যকর করা হোক।’

রায় শুনতে আসা শামশাদ বেগম নামের এক নারী বলেন, ‘এমন ফুটফুটে একটি শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা গোটা দেশবাসীর হৃদয় নাড়া দিয়েছিল। বীভৎস এ হত্যাকাণ্ডের জন্য অবশ্যই আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হোক। একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ে রায় কার্যকর করতে হবে, যাতে বাংলাদেশে আর কোনো নরপশু এমন সাহস না করে।’

আপিল নিষ্পত্তিতে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগ

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার আপিল দ্রুত নিষ্পত্তিতে হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল আপিল বিভাগের এজলাসে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের একটি প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এ সিদ্ধান্ত দেন। এর ফলে আপিল নিষ্পত্তিতে বছরের পর বছর চলা বিলম্বের অবসান ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। 

নৃশংস হত্যা থেকে রায়ের ঘটনাক্রম 

রাজধানীর পল্লবীতে ভাড়া করা ফ্ল্যাটে মা-বাবা ও বোনের সঙ্গে থাকত স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রী। একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটে থাকত আসামি সোহেল ও স্বপ্না দম্পতি। গত ১৯ মে সকালে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য মেয়েটির খোঁজ করছিলেন তার মা। এক পর্যায়ে সোহেলদের বন্ধ দরজার সামনে মেয়েটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন। এতে তাঁর সন্দেহ হলে দরজা খোলার জন্য ধাক্কা দেন, ডাকাডাকি করেন। মেয়েটি সেখানে আছে কিনা জানতে চান। অনেকক্ষণ পর স্বপ্না জানান, মেয়েটি সেখানে নেই। তবে তিনি দরজা খোলেননি। পরে দুপুরে পুলিশ এসে সোহেলদের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার এবং সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে আটক করে। সোহেল গ্রিল কেটে পালিয়ে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় তাঁকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে আটক করা হয়। 

এ ঘটনায় সোহেল ও স্বপ্নার বিরুদ্ধে একই দিন পল্লবী থানায় মামলা করেন মেয়েটির বাবা। পরদিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ মে রাতে বাসায় গিয়ে শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। পাশাপাশি বিচার দ্রুত শেষ করার আশ্বাস দেন।

গত ২৪ মে সোহেল ও স্বপ্নার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান। সেদিনই বিচারের জন্য প্রস্তুত করে মামলার নথিপত্র ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। 

১ জুন প্রধান আসামি সোহেল ও স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক। ২ জুন এক দিনেই ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা শেষ করেন আদালত। ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি হয়। ৪ জুন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করা হয়। ৭ জুন (গতকাল) রায় ঘোষণা করা হলো।

আরও পড়ুন

×