ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

শাপলা চত্বরে হত্যা মামলায় এবার আসামি হচ্ছেন ইনু: চিফ প্রসিকিউটর

শাপলা চত্বরে হত্যা মামলায় এবার আসামি হচ্ছেন ইনু: চিফ প্রসিকিউটর
×

আদালতে হাজির করার সময় হাসানুল হক ইনু

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ২২:৫৮ | আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ | ২৩:০২

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ১৩ বছর আগে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডে জাসদ সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ৩০ জুন হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। পাশাপাশি দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। সাজা অপ্রতুল হয়েছে দাবি করে চিফ প্রসিকিউটর সেদিন বলেছিলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের মামলায় তদন্ত চলছে। তদন্তে ইনুর বিরুদ্ধে প্রাথমিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চলতি মাসেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হবে। আগামী ১০ আগস্ট এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।

তিনি বলেন, ইনু তথ্যমন্ত্রী থাকার সময় হেফাজতের সমাবেশকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে দিগন্ত টেলিভিশন এবং ইসলামিক টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করা হয়। ওই রাতে ইসলামিক টেলিভিশনের অফিসে ভাঙচুরও করা হয়। শেখ হাসিনার পুরো আমলে ওই দুটি টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ ছিল।

আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, তথ্যমন্ত্রী হিসেবে হাসানুল হক ইনু শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড গোপন করার জন্য ও আলামত নষ্ট করার জন্য দুটি টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করে দেন। ইনু শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করেন। প্রাথমিকভাবে ইনুর বিরুদ্ধে যে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাতে তিনি এই মামলায় আসামি হতে পারেন।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের সমাবেশে গুলি চালিয়ে শতাধিক কর্মী হত্যার কথা উল্লেখ করে ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ দেন হেফাজতে ইসলামীর যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক। অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

গত বছরের ১৪ মে ১২ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। চলতি বছরের ৩১ মার্চ পুলিশের সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডলকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর গত ১৪ মে সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক এমডি মোজাম্মেল হক বাবু এবং ওই টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এ মামলার তদন্তে নেমে ঢাকাসহ দেশের ৪ জেলায় এখন পর্যন্ত ৫৮ জনকে হত্যার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। গত ৫ মে এক ব্রিফিংয়ে এই ৫৮ জনেরই পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

আরও পড়ুন

×