ওষুধ ছাড়া ফ্যাটি লিভারের সমস্যা কমানো কি সত্যিই সম্ভব?
প্রতীকী ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ | ১৫:০৭
অনেকেরই ফ্যাটি লিভারের সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে যাদের ওজন বেশি, কাজ না করে অলস সময় কাটায় এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত তাদের মধ্যে এর প্রবণতা বেশি দেখা যায়।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক রোগীই এখন নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় ফ্যাটি লিভারের কথা জানতে পারেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা বেড়ে ওঠে কোনো ধরনের উপসর্গ ছাড়াই।
‘ইন্ডিয়া টিভি’র এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেমবন ন্যাচারোপ্যাথি অ্যান্ড ইয়োগা সেন্টারের চিফ ওয়েলনেস অফিসার ডা. নরেন্দ্র কে শেঠির মতে, আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্টে ফ্যাটি লিভার ধরা পড়ার পর অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে ওষুধের খোঁজ করেন। তবে, তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে জীবনযাত্রার পরিবর্তনই ফ্যাটি লিভার কমানোর সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। আধুনিক জীবনযাত্রার অভ্যাসের কারণে কীভাবে সময়ের সাথে সাথে নীরবে ফ্যাটি লিভার তৈরি হয়, তা আলোচনা করতে গিয়ে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘জীবনযাত্রাই সেরা ওষুধ’।
কেন ফ্যাটি লিভারের সমস্যা বাড়ছে
বিশেষজ্ঞরা বলেন, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া, চিনিযুক্ত পানীয়, গভীর রাতে খাওয়া এবং শারীরিক কার্যকলাপের অভাব নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ-এর প্রধান কারণ। সময়ের সাথে সাথে, লিভারের কোষের ভিতরে অতিরিক্ত চর্বি ধীরে ধীরে জমতে শুরু করে, প্রায়ই কোনো ব্যথা বা স্পষ্ট সতর্ক সংকেত ছাড়াই।
ডা. শেঠি বলেন, জীবনযাত্রার পরিবর্তনগুলো ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করলে প্রাথমিক পর্যায়ের ফ্যাটি লিভার প্রায়ই প্রাকৃতিকভাবেই সারিয়ে তোলা সম্ভব।
চিনি কমানো বড় ভূমিকা পালন করতে পারে
বিশেষজ্ঞের মতে, ফ্যাটি লিভারের সমস্যার পেছনে অন্যতম প্রধান লুকানো কারণ হলো অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ। কোমল পানীয়, প্যাকেটজাত জুস, বিস্কুট এবং অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ লিভারকে ফ্রুক্টোজে ভারাক্রান্ত করতে পারে, যা পরে চর্বি হিসাবে জমা হয়। ডা.শেঠি জানান, অনেক রোগী তাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা থেকে চিনি গ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে লিভার এনজাইমের উন্নতি লক্ষ্য করেছেন।
হাঁটাচলা এবং নড়াচড়া লিভারকে ভালো রাখতে সাহায্য করে
নিয়মিত হাঁটাহাটি কীভাবে স্বাভাবিকভাবে লিভারের চর্বি কমাতে সাহায্য করতে পারে সে সম্পর্কে আলোচনা করার সময় ড.শেঠী বলেন, ‘সপ্তাহে ছয় দিন ত্রিশ মিনিট দ্রুত হাঁটাই যথেষ্ট’। তিনি যোগব্যায়াম, স্কোয়াট এবং পুশ-আপের মতো কার্যক্রম বজায় রাখতে উৎসাহিত করেছেন। তার মতে, এসব কার্যক্রম গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ উন্নত করতে এবং লিভারের উপর চাপ কমাতে সাহায্য করে।
ঘুম এবং মানসিক চাপও লিভারের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে
বিশেষজ্ঞরা বলেন, অপর্যাপ্ত ঘুম এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ কর্টিসল এবং ইনসুলিন সম্পর্কিত হরমোনের ভারসাম্যহীনতা আরও বাড়িয়ে তোল। এর ফলে,পরোক্ষভাবে চর্বি জমা এবং লিভারের প্রদাহকে প্রভাবিত করে। ডা. শেঠীর মতে, সুস্থ থাকতে কমপক্ষে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা ঘুম অপরিহার্য। একই সঙ্গে তিনি গভীর রাতে স্ক্রিন দেখা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
ওজন কমানো এবং অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ
ধীরে ধীরে ওজন কমালে ফ্যাটি লিভারের অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে পারে। এমনকি শরীরের প্রায় ৭-১০ শতাংশ ওজন কমালেও সময়ের সাথে সাথে লিভারের চর্বি এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। লিভার সুস্থ রাখতে ডা. শৈঠী অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রক্রিয়াজাত খাবারের চেয়ে স্বাভাবিক খাবার
ফ্যাটি লিভার এড়াতে ডা. শেঠি শাকসবজি, ফল, ডিম, মাছ এবং গোটা শস্য দিয়ে তৈরি সাধারণ ঘরোয়া খাবারের উপর বেশি গুরত্ব দিয়েছেন। খাদ্যতালিকা থেকে তেলে ভাজা ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটজাত খাবার কমাতে বলেছেন। তার মতে, প্রাথমিক ফ্যাটি লিভারের সমস্যা কমাতে জীবনযাত্রার ধারাবাহিক সংশোধন অপরিহার্য।
- বিষয় :
- ফ্যাটি লিভারের সমস্যা
