যে ভিটামিনের অভাবে অল্প বয়সে চুল পাকে
ছবি: সংগৃহীত
শৈলী ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:১৬
আজকাল অল্প বয়সেই অনেকের চুল পেকে সাদা হয়ে যায়। আগে ৪০ বা ৫০ বছর বয়সীদের মধ্যে এ সমস্যা দেখা গেলেও, এখন ১৮-২৫ বছর বয়সীদের মধ্যেই চুল সাদা হওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটি কেন হচ্ছে জানেন? নিউজ১৮ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব, বংশগত কারণ, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং ভুল খাদ্যাভ্যাসের মতো অনেক কারণে এমনটা হতে পারে। তবে চুল অকালে পেকে যাওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ভিটামিন বি১২-এর অভাব। এই ভিটামিনটি শরীরে রক্ত তৈরি, স্নায়ু শক্তিশালী রাখা এবং চুলের গোড়া পুষ্টি জোগানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর অভাবে মেলানিন উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং চুল সময়ের আগেই পেকে যেতে শুরু করে বলে জানান ভারতের চিকিৎসক শালিনী সিং সালুঙ্কে।
ভিটামিন বি১২ লোহিত রক্তকণিকা গঠনে এবং আমাদের দেহে অক্সিজেন সরবরাহে ভূমিকা রাখে। যখন চুলের গোড়ায় পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছায় না, তখন সেখানকার রঞ্জক কোষগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে মেলানিনের মাত্রা কমে যায় এবং কালো চুল সাদা হয়ে যায়। এই কারণেই ভিটামিন বি১২-এর অভাবে ভোগা ব্যক্তিদের অকালে চুল পেকে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
খাদ্য থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি১২ না পেলে এই ঘাটতি বাড়তে পারে। এই সমস্যাটি বিশেষ করে নিরামিষাশীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। কারণ বি১২-এর প্রধান উৎস হলো আমিষ খাবার। এই ভিটামিনটি ডিম, মাংস, মাছ এবং দুধ, দই ও পনিরের মতো দুগ্ধজাত খাবারে পাওয়া যায়। কঠোর নিরামিষাশীদের উচিত তাদের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন ফর্টিফায়েড সিরিয়াল, সয়া দুধ এবং নিউট্রিশনাল ইস্ট অন্তর্ভুক্ত করা।
অকালে চুল পেকে যাওয়া শুধু সৌন্দর্যের সমস্যাই নয়, এটি পুষ্টির অভাবেরও একটি সতর্ক সঙ্কেত। এর প্রতিকার না করা হলে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, স্নায়ুর ক্ষতি এবং বিষণ্ণতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আপনার চুল যদি সময়ের আগেই পেকে যায়, তাহলে ভিটামিনের মাত্রা পরীক্ষা করার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এই সমস্যা প্রতিরোধের জন্য একটি সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসবজি, ফল, ডাল, ডিম, মাংস, মাছ এবং দুগ্ধজাত খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন। মানসিক চাপ কমানো, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ধূমপানের মতো অভ্যাস ত্যাগ করাও এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনে।
শুধুমাত্র প্রসাধনী চিকিৎসার মাধ্যমে অকালপক্কতা প্রতিরোধ করা যায় না। সঠিক পুষ্টি, বিশেষ করে ভিটামিন বি১২-এর অভাব পূরণ করলে অনেকটাই সমাধান মিলবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অবলম্বন করলে অকালপক্কতা প্রতিরোধের পাশাপাশি চুল মজবুত ও স্বাস্থ্যকর থাকবে।
- বিষয় :
- চুল পাকা রোধ
- চুল
- ভিটামিন