যে ভিটামিনের অভাবে রাতে ঘুম হয় না
ছবি: সংগৃহীত
শৈলী ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:৪৫
অনেকেই রাতে ঠিকঠাক ঘুমাতে পারেন না। সারাদিন পরিশ্রমের পরও সারারাত বিছানার এপাশ থেকে ওপাশে ফেরেন, কিন্তু চোখে ঘুম থাকে না। এ সমস্যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ইনসোমনিয়া বলা হয়। মূলত ভিটামিন ও খনিজের অভাবে মানুষ এ সমস্যায় ভোগে বলে জানানো হয়েছে নিউজ১৮-এর এক প্রতিবেদনে।
ভারতের পুষ্টিবিদ অনুশ্রী মিশ্র জানান, শরীরে দুটি ভিটামিন ও একটি খনিজের অভাবে রাতে ঘুম আসে না। এগুলো হলো ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২ ও ম্যাগনেশিয়াম।
কোন কোন খাবারে এই ভিটামিন ও খনিজের অভাব মিটবে
ভিটামিন বি ১২
স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে ভিটামিন বি ১২ অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন ২.৪ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন বি ১২ গ্রহণ করা জরুরি। ভিটামিন বি ১২-এর ঘাটতি হলে শুধু ভুলে যাওয়াই নয়, রক্তে আরবিসি-ও কমে যায়। পাশাপাশি ইনসোমনিয়ার সমস্যা দেখা দেয়। ঘাটতি মেটাতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় দুধ, পালং শাক, বিট, দই, ছানার পানি, পনির রাখুন।
ম্যাগনেশিয়াম
সুস্থ থাকতে মিনারেল প্রয়োজন। আর ম্যাগনেশিয়াম হল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল যা শরীরের ভেতরে চলতে থাকা নানা রকম রাসায়নিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করে। ম্যাগনেশিয়াম কমে গেলে রাতে ঘুমও আসে না।
ভিটামিন ডি
ভিটামিন-ডি একটি স্নেহপদার্থে দ্রবণীয় ভিটামিন। অনেকসময়-ই একে বলে ‘সাইশাইন ভিটামিন’। ভিটামিন ডি কমলে ঘুম কমে যায়। আজকাল বহু মানুষ এই ভিটামিনের অভাবে ভোগেন। অনেকেই মনে করেন, নির্দিষ্ট সময় সূর্যের আলোতে থাকলে ভিটামিন ডি'র ঘাটতি হবে না। কিন্তু বিষয়টা এতটাও সহজ নয়। সূর্যালোক থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায় ঠিকই, তবে ত্বক থেকে তা বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লিভারে পৌঁছনো ও সেখান থেকে শরীরে ছড়িয়ে পড়ার যে পদ্ধতি, তা খুবই ধীর গতিতে হয়। সেক্ষেত্রে খাবার থেকেই সরাসরি ভিটামিন ডি শরীরে ঢোকে। ঘাটতি মেটাতে তৈলাক্ত মাছ খান। তৈলাক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ডি থাকে। সামুদ্রিক মাছ, দুগ্ধজাত খাদ্য ও ডিমে ভিটামিন-ডি পাওয়া যায়। ইলিশ মাছ, রুই-কাতলার পেটি ও তেল, তেলাপিয়া ও সরপুঁটি, দানাশস্য ও ওটস, কিনোয়া, ডালিয়া, ফর্টিফায়েড দুধ ও দই ইত্যাদিতে ভরপুর ভিটামিন-ডি থাকে।
এছাড়া মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম মাশরুম থেকে প্রায় ৪৫০ আইইউ ভিটামিন ডি পাওয়া সম্ভব। যারা মাশরুম পছন্দ করেন না, তারা পালং শাক খেতে পারেন। এতেও ভিটামিন ডি থাকে। বিভিন্ন রকম বাদাম ও বীজে ভিটামিন ডি থাকে। কুমড়ো বীজ, সূর্যমুখীর বীজ থেকে ভরপুর মাত্রায় ভিটামিন ডি পাওয়া সম্ভব। কাঠবাদাম, আখরোটে ভিটামিন ডি থাকে। তবে আখরোট দিনে দু’টির বেশি নয়, কাঠবাদাম ৪-৫টিই যথেষ্ট।
- বিষয় :
- অনিদ্রা
- ভিটামিন ডি