ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

‘মঞ্চে আতাউর রহমানের অবদান ছিল অসামান্য’

স্মরণসভায় বক্তারা

‘মঞ্চে আতাউর রহমানের অবদান ছিল অসামান্য’
×

আতাউর রহমানের স্মরণসভায় সংস্কৃতি অঙ্গেনর বিশিষ্টজনরা। ছবি:সংগৃহীত

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ | ২০:৩৫ | আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ | ২০:৩৭

বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, মঞ্চসারথি প্রয়াত আতাউর রহমান স্মরণে রাজধানীর বেইলি রোডের বাংলাদেশ মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহীম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো আবেগঘন স্মরণসভা। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন এবং ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট (আইটিআই) বাংলাদেশ কেন্দ্র যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নাট্য ও সংস্কৃতিকর্মীরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে আতাউর রহমানের নিজের কণ্ঠে ধারণ করা কবিতার অংশ বাজানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল পর্ব। শুরুতেই একক সংগীত পরিবেশন করেন ফারহিন খান জয়িতা। মুখবন্ধ পাঠ করেন নাসিরুল হক খোকন এবং শংসাবচন পাঠ করেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু।

স্মরণসভায় আতাউর রহমানের সহধর্মিণী শাহিদা রহমান তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্মৃতিচারণ করেন। নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘তিনি নিজের দল ও দলের বাইরে সমান দক্ষতায় নির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর প্রিয় নাট্যকার ছিলেন সৈয়দ শামসুল হক। এ ছাড়া রবীন্দ্রনাথ ও শেকসপিয়রের নাটকও তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন।’
বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ তাঁর বক্তব্যে আতাউর রহমানের সাংগঠনিক দক্ষতা ও দেশের থিয়েটার আন্দোলনে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। 
নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, ‘মঞ্চনাটকে আতাউর রহমানের অবদান ছিল অসামান্য। তাঁর কাজ দর্শকের প্রশংসা ও ভালোবাসা পেয়েছে।’

অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয় আতাউর রহমান নির্দেশিত ও অভিনীত কালজয়ী নাটক ‘নূরলদীনের সারা জীবন’-এর ভিডিওচিত্র। পরে স্মৃতিচারণ করেন সারা যাকের। তিনি বলেন, ‘আতাউর ভাই অত্যন্ত সৎ মানুষ ছিলেন। যিনি সত্যিকারের শিল্পচর্চা করেন, তিনি কখনও অসৎ হতে পারেন না।’

অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন লাকী ইনাম, গোলাম সারোয়ার ও ত্রপা মজুমদার। বক্তব্য দেন মফিদুল হক, কামাল বায়েজিদ, আবদুস সেলিম, দেবপ্রসাদ দেবনাথ, কেরামত মাওলা ও শর্মিষ্ঠা রহমান। পাঠাভিনয় পরিবেশন করেন তারিক আনাম খান এবং নৃত্য পরিবেশন করেন তামান্না রহমান।

স্মরণসভায় ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’ ও ‘রক্তকরবী’ নাটকের ভিডিওচিত্রও প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে মঞ্চে পরিবেশিত বিশেষ নাট্যাংশে তারিক আনাম খানের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় “আমার ভেতর লড়াই করতে করতে আমার হাত পা ভেঙে গেছে... আমার ধমনির মেঘে মেঘে ও অন্ধ, তুমি ছিলে বড়ই কৃপণ... আমাকে মারো তুমি মারো, সম্পূর্ণ মারো। তাতেই আমার মুক্তি।” এই প্রতীকী ও প্রতিবাদী সংলাপ যেন আবারও মনে করিয়ে দেয় যে, তাঁর নাট্যদর্শন কেবল অভিনয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা ছিল মানুষের ভেতরের সত্য ও মানবিক বোধকে জাগিয়ে তোলার হাতিয়ার।  প্রতিবাদী সংলাপ উপস্থিত দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে।

সমাপনী বক্তব্যে প্রবীণ অভিনেতা আবুল হায়াত বলেন, ‘আতাউর রহমান শুধু নাট্যব্যক্তিত্ব নন, তিনি ছিলেন সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নিবেদিত সংগঠক।’ বক্তারা বলেন, তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

প্রসঙ্গত, গত ১১ মে রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আতাউর রহমান। আগামী জুনে তাঁর ৮৫ বছর পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল। 
 

আরও পড়ুন

×