বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন
এ অভিযাত্রা অন্ধকার থেকে আলোয়...
সাজিদা ইসলাম পারুল
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩:২৭
বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০
জানুয়ারি প্রিয় স্বাধীন মাতৃভূমিতে মহাপ্রতাপে প্রত্যাবর্তন করেন। প্রিয়
স্বদেশে পা রেখেই তিনি বলেছিলেন, 'এ অভিযাত্রা অন্ধকার থেকে আলোয়, বন্দিদশা
থেকে স্বাধীনতায়, নিরাশা থেকে আশায় অভিযাত্রা।' সেই থেকে ১০ জানুয়ারি
বাঙালি জাতির জন্য একটি ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় দিন। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ
প্রত্যাবর্তন দিবস। এ দিনটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে 'অন্ধকার থেকে
আলোয় :বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন' শিরোনামে শুরু হয়েছে বিশ দিনব্যাপী
বিশেষ প্রদর্শনী।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের গ্যালারি-৬-এ
ফিতা কেটে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের
চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের
ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের
ট্রাস্টি ও সদস্য সচিব সারা যাকের, ট্রাস্টি মফিদুল হক, জিয়াউদ্দিন তারিক
আলী, ব্যবস্থাপক (কর্মসূচি) রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। উদ্বোধনী শেষে উপস্থিত
সবাই প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় শামসুজ্জামান খান বলেন, '১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয়
অর্জিত হলেও বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতির শূন্যতা পুরো জাতি অনুভব করেছিল। ১০
জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনে বিজয়ের আনন্দ পূর্ণতা লাভ করেছিল।' নতুন
প্রজন্ম এই প্রদর্শনী দেখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের
স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সচিত্র ইতিহাস জানতে পারবে। এ সময় ডা. সারওয়ার আলী
সবাইকে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে এ প্রদর্শনী দেখানোর আহ্বান জানান।
প্রদর্শনী ঘুরে দেখা যায় গ্যালারিজুড়ে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন স্মারক। বিশাল
ক্যানভাসে বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। একদিকে
স্থিরচিত্র, অন্যদিকে প্রদর্শিত হচ্ছে তথ্যচিত্র। পাকিস্তানের কারাগার থেকে
মুক্তি পাওয়ার পর লন্ডন-দিল্লি হয়ে বঙ্গবন্ধু ঢাকায় পৌঁছানোর পর জনতার ঢল
নামে। প্রিয় নেতাকে বহনকারী বিমানটি বিমানবন্দরে কখন অবতরণ করবে সে
অপেক্ষায় পুরো বিমানবন্দর এলাকা সেদিন পরিণত হয় এক মহামিলন মেলায়। স্বাধীন
দেশের মাটিতে কখন পা রাখবেন তাদের প্রাণপ্রিয় নেতা- অধীর আগ্রহে অপেক্ষা
করছিল দেশবাসী। সেই তথ্যচিত্র বিমুগ্ধ চোখে দেখছিলেন দর্শনার্থীরা। বিজয়ী
বেশে যখন দেশের মাটিতে পা রাখেন বঙ্গবন্ধু, তখন আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত হতে
লাগল 'জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু' স্লোগান।
গ্যালারির এক প্রান্তে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সেই ঐতিহাসিক ছবি।
বঙ্গবন্ধুর ছবির নিচেই কালো কালিতে লেখা- '১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি
নিজ মাতৃভূমিতে ফিরেছিলেন।' আরও লেখা আছে- 'বিশ্বকে মানব ইতিহাসের জঘন্যতম
কুকীর্তির তদন্ত অবশ্যই করতে হবে। একটি নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক দল বর্বর
পাকিস্তানি বাহিনীর কার্যকলাপের সুষ্ঠু তদন্ত করুক।'
প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধুর স্মারক দেখতে এসেছিলেন মহাখালীর বাসিন্দা ইউসুফ
আলী। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, 'এ মহানায়কের বলিষ্ঠ কণ্ঠেই জাগ্রত হয়েছিল
বাঙালি। যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বাঙালির এই ইতিহাস জানতেই ছুটে এসেছি।'
বিশেষ এ প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে আলোকচিত্রী অমিয় তরফদার, আলোকচিত্রী
আফতাব আহমেদ, আলোকচিত্রী রশিদ তালুকদার, আবুল মাল আবদুল মুহিত, মোহাম্মদ
আহসান, বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ও ড. এম বেলায়েত হোসেনের দেওয়া বিভিন্ন
স্থিরচিত্র, ভিডিওসহ অন্যান্য তথ্য। প্রদর্শিত মোট স্মারক হচ্ছে- ২৪টি
আলোকচিত্র, ২১টি ম্যাগাজিন ও পত্রিকা, একটি ডকুমেন্ট ও অডিও ভিজ্যুয়াল
একটি। প্রদর্শনী আগামী ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল
৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
- বিষয় :
- বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন
