গণ্ডি পেরিয়ে...
কাজী নওশাবা আহমেদ
এমদাদুল হক মিলটন
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৫ | ১৫:৩৭ | আপডেট: ০২ অক্টোবর ২০২৫ | ১৬:০৮
ঢাকা থেকে ওপার বাংলার পর্দায় কাজী নওশাবা আহমেদের পথচলা যেন এক নীরব বিপ্লব। ছোটপর্দার মুখচেনা এই অভিনেত্রী কখনোই নিজেকে গণ্ডির ভেতরে আটকে রাখেননি। তিনি বিশ্বাস করতেন, অভিনয়ের ভাষা একটাই। সেই সত্যকে ধারণ করে তিনি পার করেছেন সীমান্ত; পৌঁছে গেছেন কলকাতার সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে।
নওশাবার কলকাতায় অভিষেক হয়েছে ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’ ছবির মাধ্যমে। পরিচালকের আস্থা, টিমের সহযোগিতা আর তাঁর নিজের অভিনয়চর্চা মিলিয়ে সিনেমা মুক্তির প্রথম দিনেই তিনি বুঝে গেলেন, চরিত্রটা ঠিকঠাক পর্দায় তুলে ধরতে পেরেছেন তিনি। দর্শক সাড়া প্রসঙ্গে নওশাবা বলেন, ‘দর্শকের ভালোবাসায় আমি অভিভূত। সিনেমার প্রমোশনে ঘাটতি ছিল। তার পরও দর্শক এটি দেখেছেন। ৫২টি হলে সিনেমাটি হাউসফুল যাচ্ছে। ভালো সিনেমা হলে দর্শকের কাছে পৌঁছায়, এটি আবারও প্রমাণ হয়েছে। সৃষ্টিকর্তার কাছে মাথাটা নত করে রাখতে চাই।’ ভারতের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের সরাসরি প্রশংসা নওশাবাকে আরও সাহসী করে তুলেছে। এসএমএসে লেখা ছিল, ‘অনেক দিন পর ন্যাকামি ছাড়া অভিনয় দেখলাম!’ শুধু শ্রীলেখা নন, কলকাতার সংগীত পরিচালক আকাশ সেনও নওশাবার অভিনয়ের প্রশংসাসূচক এসএমএস দিয়েছেন। সিনেমায় যুক্ত হলেন কীভাবে? নওশাবার উত্তর, ‘সামাজিক মাধ্যমে সব সময়ই কিছু না কিছু লিখি। বাবাকে নিয়ে লিখেছিলাম। এটি দেখ একদিন হঠাৎ অনিকদা আমাকে টেক্সট করেন। এরপর অডিশন দিয়ে অভিনয়ের জন্য নির্বাচিত হই। এতদিন পর সেই সিনেমা মুক্তি পেল, তাও দুর্গাপূজার মতো একটা বড় উৎসবে। এটি দারুণ আনন্দের।’
কলকাতায় চলচ্চিত্রের অভিষেকে প্রথমেই তিনি অভিনয় করেছেন আবীর চট্টোপাধ্যায়ের মতো শক্তিমান অভিনেতার বিপরীতে। নওশাবা বলেন, ‘শুটিংয়ে প্রথম দিন চুপচাপ ছিলাম। আবীরদা মজা করে বলেছিলেন, ‘নায়িকা তো কথাই বলে না! সেখান থেকেই শুরু কথোপকথন, আলাপ থেকে বন্ধুত্ব, আর সেই বন্ধুত্বই ভেঙেছে জড়তা। একসময় স্ক্রিপ্টের লাইন নয়, আবেগ দিয়ে অভিনয় করেছি দুজনে। মানুষ হিসেবে খুবই ভালো তিনি। সহশিল্পীকে এগিয়ে নিয়ে যান এই অভিনেতা।’ সিনেমায় তাঁকে দেখা গেছে ‘সাবা’ চরিত্রে। এটি যেন নওশাবারই এক প্রতিচ্ছবি। ঢাকার মেয়ে, শিকড়ের খোঁজে কলকাতায় যাওয়া, নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া সবকিছু মিশে গেছে তাঁর নিজের বাস্তব অনুভবের সঙ্গে। পরিচালক তাঁকে শুধু অভিনেত্রী হিসেবে নয়, সৃজনশীল সহযাত্রী হিসেবেও গ্রহণ করেছেন। স্ক্রিপ্ট তৈরি থেকে দৃশ্য চয়ন পর্যন্ত তিনি ছিলেন সক্রিয় অংশীদার। এমন স্বাধীনতা খুব কম অভিনেত্রীই পান, বিশেষ করে প্রথম প্রজেক্টে। কিন্তু সবকিছুর পরও একটা খটকা রয়ে গেছে, নিজের সিনেমা মুক্তি পেল, অথচ তিনি তা হলে গিয়ে দেখতে পারলেন না। ভিসার জটিলতায় আটকে রইলেন এপারেই। প্রিমিয়ারে বসে দর্শকের প্রতিক্রিয়া দেখার যে স্বপ্ন ছিল, তা আপাতত অপূর্ণই থেকে গেল। তবু তিনি থেমে নেই; বরং আরও বড় স্বপ্ন দেখছেন। বলছেন, খুবই স্বপ্ন ছিল সিনেমা মুক্তির পর মা ও মেয়েকে পোস্টারের সামনে দাঁড় করিয়ে ছবি তুলব। তা আর হলো না। এসব ভেবে একটু মন খারাপ হচ্ছে।
- বিষয় :
- কাজী নওশাবা আহমেদ
- কলকাতা
- টলিউড
- নতুন সিনেমা
