মিউজিক্যাল সিনেমায় নীলা
নীলাঞ্জনা নীলা। ছবি-শামীম নূর
অনিন্দ্য মামুন
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৫ | ০৯:৩৫
নীলাঞ্জনা–এই নামটিতে যেন এক রহস্য, অন্যরকম এক আকর্ষণ। গান ও কবিতায় বহুবার উচ্চারিত হয়েছে নামটি। যুগে যুগে ‘নীলাঞ্জনা’ হয়ে উঠেছে প্রেম, সৌন্দর্য আর সম্মোহনের প্রতীক। সেই নামেই ঢাকার শোবিজে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন অভিনেত্রী নীলাঞ্জনা নীলা। সুন্দর চোখ আর মায়াবী হাসিতে মুগ্ধ করেছেন দর্শককে। একসময় টেলিভিশনের পর্দা খুললেই দেখা যেত তাঁকে–কখনও বিজ্ঞাপনে, কখনও নাটকে। এখন যদিও তাঁকে দেখা যায় কম, তবে একেবারেই যে অনুপস্থিত তা নয়।
কেন কম দেখা যায় তাঁকে? প্রশ্নের উত্তরে নীলা শান্তভাবে বললেন, ‘মাঝখানে কাজ কমিয়ে দিয়েছিলাম। তাই কম দেখা গেছে। এখন আবার কাজ শুরু করেছি পুরোদমে–নাটক, সিনেমা, ওটিটি–সব জায়গাতেই কাজ করছি। আবার নিয়মিত দেখা যাবে। অবশ্যই সেটি ভালো ভালো কাজে।’ এই উত্তরেই যেন মেলে তাঁর ভেতরের স্থিরতা। তিনি হারিয়ে যাননি; বরং নিজেকে আরও পরিশীলিত করেছেন। এখন তিনি কাজ বেছে নিচ্ছেন বুঝেশুনে, যেন প্রতিটি চরিত্রে নিজের আত্মাকে নতুনভাবে ছুঁতে পারেন, তৃপ্ত হতে পারেন। নভেম্বরেই মুক্তি পাচ্ছে ‘সাইলেন্স: আ মিউজিক্যাল জার্নি’। সংগীত পরিচালক ইমন সাহার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নীলাঞ্জনা নীলা। গ্রামের বাউলঘরের এক মেয়ে, যাঁর কণ্ঠে মাটির গন্ধ, আর চোখে শহরের স্বপ্ন–এই মেয়ের জীবনকাহিনি ঘিরে গড়ে উঠেছে গল্পটি; যেখানে নীলাকে দেখা যাবে মায়া চরিত্রে।
নীলা জানালেন, ‘গানের জন্য গ্রাম থেকে শহরে আসে মায়া নামের মেয়েটি। প্রথমে তাঁকে অনুপ্রেরণা দেওয়া হয় বড় পরিসরে গান করার। শহরে এসে জৌলুস, যশ আর জনপ্রিয়তার নেশায় হারিয়ে ফেলেন নিজের ভেতরের সত্তাকে। এই হারানো আর ফিরে পাওয়ার ভেতরেই ছবির মূল দর্শন।’
ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন সাইমন সাদিক, ইন্তেখাব দিনার, আজাদ আবুল কালামসহ অনেকে। নীলা বললেন, ‘চরিত্রটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমি এই চ্যালেঞ্জটা নিতে চেয়েছি সাহস করেই। কারণ, এই চরিত্রের ভেতর দিয়ে আমি যেন নিজের ভেতরের শিল্পীকেও খুঁজে পেয়েছি। এমনিতেই অভিনয়ে চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। আমি মনে করি, চ্যালেঞ্জ থাকলে সেই কাজটাও সুন্দর হয়ে ওঠে। দর্শকরা দেখেও আনন্দ পান।’
সংগীত পরিচালক ইমন সাহার পরিচালনায় কাজ করা তাঁর জন্য এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে জানালেন। ‘ইমন দাদা শুধু সংগীত বোঝেন না, তিনি দৃশ্যের ভেতরেও সুর খুঁজে পান। তাঁর ক্যামেরায় গান, বেদনা আর নীরবতা একসঙ্গে বয়ে চলে।’ বললেন নীলা।
মাঝে কয়েক মাস যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন নীলা। ফিরে এসে টানা কয়েকটি নাটকের শুটিং করেছেন। তাঁর কণ্ঠে পরিণত ভাব, ‘বেশি কাজ নয়, এখন ভালো কাজটাই বেশি দরকার।’
বদরুল আনাম সৌদের পরিচালনায় ‘গহিন বালুচর’-এর মাধ্যমে প্রথমবার সিনেমায় আসেন লাক্সতারকা নীলাঞ্জনা নীলা। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও একই নির্মাতার ‘শ্যামা কাব্য’ সিনেমায় অভিনয় করেন। অনুদানের এ সিনেমাটি মুক্তি পায়। সিনেমাটিতে তাঁর অভিনয় আলাদাভাবে নজড় কাড়ে। এরপর ‘টান’ ওয়েব ফিল্ম দিয়ে আলোচিতও হন। সর্বশেষ ‘ফিমেল ফোর’ তাঁকে দারুণভাবে চর্চায় নিয়ে আসে। সে চর্চা ফুরিয়েছে বেশ সময় হলো। এবার তিনি আসছেন ‘সাইলেন্স: আ মিউজিক্যাল জার্নি’ নিয়ে।
নীলাঞ্জনার অভিনীত সিনেমার গল্পগুলো একটু ভিন্ন ধাঁচের। মূলত তৃপ্তি থেকেই এমন গল্পের সিনেমা করা। এর বাইরে কি বের হওয়ার ইচ্ছে আছে? মানে পুরোপুরি কমার্শিয়াল ছবি করতে চান? এমন প্রশ্নের উত্তরে নীলা বলেন, ‘অব্যশই। যদি গল্পের উপস্থাপনা ভালো হয়, আয়োজন সুন্দর হয় আমি অবশ্যই করব।’
‘সাইলেন্স: আ মিউজিক্যাল জার্নি’র পর নতুন কোনো কাজের আপডেট আছে? জানতে চাইলে নীলা বলেন, ‘নাটক করেছি বেশ কয়েকটি। ওটিটির কাজেরও কথা চলছে। সিনেমার অফার তো আমার কাছে প্রচুর আসে। এখনও আছে। ভাবছি, গল্প পড়ছি। যেটি ভালো হয় সেটি করব। আপাতত সাইলেন্স-এর প্রচারণা নিয়েই আছি। বাকিটা পরে জানানো যাবে।’
তবে নীলা পুরোদমে কাজ শুরুর ইঙ্গিত দিলেও সেটি যে গৎবাঁধা কাজ হবে না তাও জানিয়ে দিলেন শেষে।
বললেন, ‘গৎবাঁধা কাজ সত্যি আর ভালো লাগে না। যখন শিল্পীসত্তাকে খুশি করার প্রশ্ন আসে, তখন স্রোতে ভেসে যাওয়ার ইচ্ছা দমন না করলেই নয়। সেই ভাবনা থেকে আর গড়পরতা কাজ করব না। তারপরও সংখ্যায় কম হলেও আপত্তি নেই।’
