ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ফারিয়ার সুরের সফর

ফারিয়ার সুরের সফর
×

নুসরাত ফারিয়া

ইলমা আজাদ 

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ | ০৭:১৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

আবার কণ্ঠশিল্পী হিসেবে দেখা দিলেন নুসরাত ফারিয়া। প্রায় তিন বছরের বিরতি কাটিয়ে পুনরায় গানের ভুবনে ফিরলেন। অনেকে যখন ভুলতে বসেছেন, কবে তিনি নতুন গান প্রকাশ করেছিলেন, ঠিক তখনই নতুন আয়োজন নিয়ে ছোট ও বড়পর্দার এই তারকার আবির্ভাব। অথচ গানের বিষয়ে গত আড়াই বছরে টুঁ শব্দটিও করেননি ফারিয়া। আসলে ফারিয়া হয়তো এমনই–কখন কী ভাবে দর্শক-শ্রোতার সামনে হাজির হবেন তা বলা কঠিন। এমনটি তাঁর জন্য নতুন নয়। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই এই প্রবণতা দেখা গেছে। এই যেমন তিনি এফএম রেডিওতে কাজ শুরু করেছিলেন, তখন শ্রোতা জানতেন না, নুসরাত ফারিয়া নামের আরজে [রেডিও জকি] দেখতে কেমন। তবু তাঁর প্রতি তৈরি হয়েছিল ভালোলাগা। কারণ একটাই, মাইক্রোফোনের সামনে তিনি চমৎকার করে কথা বলতেন। বিষয় যেমনই হোক, গুছিয়ে কথা বলায় ফারিয়াকে অভিজ্ঞ বলেই মনে হতো; যার সুবাদে দিন দিন বেড়ে চলেছিল এই রেডিও জকির অনুরাগীর সংখ্যা। সেই সংখ্যা দ্বিগুণ হারে বেড়ে গেলে কিছুদিন পর সেই শ্রোতারা নিজ চোখে নুসরাত ফারিয়াকে দেখা পান। আরটিভির ‘ঠিক বলছেন তো’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথম টিভি পর্দায় উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। অবশ্য তারও আগে কিশোরী ফারিয়াকে দেখা গেছে বিটিভির বিতর্ক প্রতিযোগিতায়। তবে সেই সময়ের ফারিয়ার গল্পটা আলাদা। কারণ, তখন তিনি বিনোদন জগতের কেউ নন; কেবলই শিক্ষার্থী। সে যাই হোক, টেলিভিশনে আসার পর উপস্থাপক হিসেবে অল্প সময়ে দর্শক মনোযোগ কেড়ে নেন ফারিয়া। একের পর এক টিভি অনুষ্ঠান উপস্থাপনার প্রস্তাব আসতে থাকে। ফারিয়াও ব্যস্ত হয়ে ওঠেন ছোটপর্দায়। যে কারণে শুরুতে যারা তাঁর কণ্ঠে মুগ্ধ হয়েছিলেন, তাদের পাশাপাশি অনিন্দ্য সৌন্দর্যে ও চটপটে উপস্থাপনা দিতে দর্শকের মনোযোগ কেড়ে নিতে সক্ষম হন তিনি। সেই সূত্রে বিনোদন দুনিয়ার নানা মাধ্যমে ডাক আসতে থাকে তাঁর। তাই অল্প দিনের ব্যবধানে রেডিও জকি ও টিভি উপস্থাপকের পর মডেল হিসেবে দেখা মেলে ফারিয়ার। মডেল হিসেবে সাফল্য পেতে সময় লাগেনি। তাই সিনে দুনিয়ায় আমন্ত্রণ পাওয়া ছিল সময়ের ব্যাপার। ক্যারিয়ার শুরুর তিন বছরের মাথায় ‘আশিকী’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবে অভিষেক হয় ফারিয়ার। এরপর ‘হিরো ৪২০’, ‘বাদশা–দ্য ডন’, ‘ধ্যাততেরিকি’, ‘প্রেমী ও প্রেমী’, ‘বস-২’, ‘ইন্সপেক্টর নটি কে’, ‘বিবাহ অভিযান’, ‘শাহেনশাহ’, ‘অপারেশন সুন্দরবন’, ‘পাতালঘর’, ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ থেকে শুরু করে ‘জ্বিন-৩’ পর্যন্ত আরও বেশ কিছু সিনেমায় ধারাবাহিকভাবে অভিনয় করে জয় করেন দর্শকহৃদয়। এ সবই পুরোনো কথা, যা কম-বেশি সবারই জানা। এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, আবার কেন এই পুরোনো প্রসঙ্গ তুলে আনা? এর উত্তর একটাই–নুসরাত ফারিয়ার সেই পরিচয়কে তুলে আনা, যা ঝোড়োবৃষ্টির সময়ে ক্ষণে ক্ষণে দেখা পাওয়া বিদ্যুৎ চমকের মতো। সেই পরিচয় হলো কণ্ঠশিল্পী নুসরাত ফারিয়ার; যার দেখা মেলে ঠিক দু-তিন বছর পরপর।
২০১৮ সালে হঠাৎ করেই কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আবির্ভাব ঘটে নুসরাত ফারিয়ার। প্রীতম হাসানের সুরে তাঁর গাওয়া ‘পটাকা’ গানটি নিয়ে সে সময় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল অনেকের মাঝে। গানের চেয়ে মিউজিক ভিডিও বেশি নজর কেড়েছিল দর্শক-শ্রোতার। প্রথম গান বলে বিষয়টি শখের বলে ধরে নিয়েছিলেন সবাই। দুই বছর পর ২০২০ সালে যখন মাস্টার ডি’র সঙ্গে ‘আমি চাই থাকতে’ শিরোনামে আরেকটি গান প্রকাশ করেন, তখনই মূলত ফারিয়ার কাছে প্রত্যাশা তৈরি হতে থাকে সংগীতপ্রেমীদের। তা বুঝতে পেরেই হয়তো গানের নিরীক্ষা থামিয়ে রাখেননি ফারিয়া। সেই সুবাদে ২০২৩ সালে শ্রোতারা তাঁর কণ্ঠে শুনতে পান তৃতীয় গান ‘বুঝি না তো তাই’। মামজি স্ট্রেঞ্জারকে নিয়ে ফারিয়ার এই আয়োজন অনেকের নজর কেড়ে নিয়েছিল। তারপরও দীর্ঘ সময় এই তারকা দেখা দেননি গানের ভুবনে। অবেশেষে আড়াই বছরের বিরতি ভেঙে ফারিয়া ফিরলেন ‘লোকে বলে’ গানের মাধ্যমে। যেখানে সুরের সফরসঙ্গী হয়েছেন খ্যাতিমান সংগীতায়োজক ফুয়াদ আল মুক্তাদির। ফোক ও পপ সুর-সংগীতের মিশ্রণে তৈরি করা ‘লোকে বলে’ গানের কথা লিখেছেন তাহজিব এম বন্ধন। সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন ফুয়াদ আল মুক্তাদির। গানের কোরিওগ্রাফির পাশাপাশি মিউজিক ভিডিও পরিচালনা করেছেন ভারতীয় নির্মাতা বাবা যাদব। সম্প্রতি এসভিএফ ও বিলিং মিউজিক-এর ইউটিউব চ্যানেলে একযোগে গানটি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশের পরপরই সংগীতপ্রেমীদের মাঝে সাড়া ফেলতে শুরু করেছে গানটি। এর জন্মবৃত্তান্ত জানতে চাইলে ফারিয়া বলেন–‘বুঝি না তো তাই’ গানটি প্রকাশের পরপরই ‘লোকে বলে’র পরিকল্পনা শুরু। কথা, সুর-সংগীতের অনেক কাটাছেঁড়ার পরই তৈরি হয় গানটি। কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এটি প্রকাশ করা হয়ে ওঠেনি। প্রায় সময় নিজের প্লে-লিস্টে রাখা এই গানটি হেডফোনে শুনতাম। নিজেই গাইতাম গুনগুন করে। গুনগুন করতে গিয়ে মাঝে মাঝে মন খারাপ হতো–গানটি হয়তো শ্রোতার কানে পৌঁছে দিতে না পারায়। তারপরও কল্পনা করতাম, গানটি শ্রোতা শুনছেন; যাদের অনেকের মুখে মুখে ফিরছে গানটি, কেউ কেউ এর তালে তালে নাচছেন। অবশেষে সেই কল্পনা সত্য হলো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসভিএফের কারণে। তারা গানটির ভিডিও নির্মাণ সেভাবেই করেছে, যেভাবে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল। তবে সব কিছুর পর ভালোলাগা এখানেই যে, গানটি দর্শক-শ্রোতার মনোযোগ কেড়ে নেওয়ায়; যার মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে, কণ্ঠশিল্পী নুসরাত ফারিয়ার যাত্রাটা এখনই শেষ হওয়ার নয়। 

আরও পড়ুন

×