কারাগার
সংশোধনাগার না শোষণাগার?
ফাইল ছবি
--
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৫:১৭ | আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৫:১৯
বাংলাদেশে কারাগারের মূলমন্ত্র 'রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ' হলেও বাস্তবে কারাগারগুলোর পরিবেশ বলছে ভিন্ন কথা। রোববার সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কারাগারগুলোতে এখন ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণের চেয়েও বেশি বন্দি আটক রয়েছে। সেখানে ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। নূ্যনতম সুযোগ-সুবিধা ছাড়া অমানবিক পরিবেশে থাকা ও খাবারদাবারের ব্যাপারে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। এ অবস্থায় কারাগার কীভাবে আলোর পথ দেখাবে আর এভাবে সংশোধনই বা কতটা সম্ভব? সমকাল তাই প্রশ্ন রেখেছে 'কারাগারগুলো কবে হবে সংশোধনাগার'। প্রতিবেদনটি অবশ্য জানাচ্ছে, সরকার কারাগারকে সংশোধনাগার বানানোর লক্ষ্যে কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কিন্তু তার সুফল এখনও সেভাবে আসেনি। কারাগার মানেই এক ভীতির পরিবেশ, দুঃখ-কষ্টই যার নিত্যসঙ্গী বলে জনমানুষের যে ধারণা রয়েছে, বাস্তবে তা ভিত্তিহীন নয় বলেই আমরা মনে করি। সেখানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটলেও বন্দিদের সঙ্গে আচরণ ও বন্দিদের সংশোধনমূলক কর্মকাণ্ডে তেমন অগ্রগতি নেই। দেখা যায়, দেশের ৬৮ কারাগারে যথেষ্ট চিকিৎসক নেই, চিকিৎসার অভাবে অনেক বন্দির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। বন্দিদের জন্য যে পরিমাণ খাদ্য বরাদ্দ রয়েছে, তার তিন ভাগের এক ভাগও তারা পাচ্ছেন না। কারণে-অকারণে বন্দিদের ওপর নির্যাতনের খবরও সংবাদমাধ্যমে আসে। সবমিলিয়ে নামে সংশোধনাগার হলেও কারাগারগুলো হয়ে উঠছে যেন শোষণাগার। কারাগারের অবস্থার উন্নয়নে প্রথমেই প্রয়োজন কারাবন্দির সংখ্যা কমানো। যারা বিনা বিচারে কিংবা বিনা অপরাধে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে কারান্তরীণ রয়েছেন তাদের ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে মুক্তির ব্যবস্থা করা জরুরি। একই সঙ্গে অন্যান্য কারাবন্দির বিচারও দ্রুত নিষ্পত্তি করা দরকার। সরকার এসব বিষয় বিবেচনা করছে বলে প্রতিবেদনে এসেছে। বন্দিদের ইতোমধ্যে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো ও তাদের জীবনমান উন্নয়নে যে মেগা প্রকল্পের কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সমকাল প্রতিবেদকের কাছে বলেছেন, তাকে আমরা স্বাগত জানাই।
যারা অপরাধী, অনেকেই বারবার অপরাধের কারণে জেলে যায়। আমরা মনে করি, কারাগারকে সত্যিকার অর্থে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে কেবল বন্দিদের কারাগার জীবনই সুন্দর হবে না বরং সমাজে অপরাধ প্রবণতাও কমবে। আমরা জানি, উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই কারাগারগুলো আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় সমৃদ্ধ। কোথাও বন্দি সংকটের কারণে কারাগার বন্ধ হয়ে সেগুলো আবাসিক হোটেল হিসেবেও ব্যবহার হচ্ছে। সেসব দেশে সামাজিক পুনর্বাসন ইতিবাচক ফল দিচ্ছে। সমকালের প্রতিবেদনে কারা মহাপরিদর্শকের বক্তব্যে এসেছে, কারাবন্দিদের সামাজিক পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তাদের সংশোধন করার জন্য কক্সবাজারে পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। বিষয়টি আশাপ্রদ। তবে এসব অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি যারা কারাবন্দিদের নিয়ে কাজ করেন, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কারা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ ও মানসিকতা উন্নয়নেরও প্রয়োজন রয়েছে। তারা কারাবন্দিদের আসামি হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে বিবেচনা করলেও বড় পরিবর্তন আসবে। সর্বোপরি অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও নজর দিতে হবে। বৈষম্যমুক্ত মানবিক সমাজ হতে পারে এর ভিত্তি।
- বিষয় :
- কারাগার
